আজব পৃথিবী

Sunday, January 21, 2018

যার অভ্যাস ৮৮ বছর ধরে মাটি খাওয়া

প্রতিদিন ভাত-রুটি না হলেও চলে কিন্তু মাটি না খেয়ে  একদিনও থাকতে পারেন না ভারতের ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের অধিবাসী  কারু পাশোয়ান। বিচিত্র স্বভাবের অধিকারী কারুর বয়স এখন ৯৯ বছর। তিনি জানান, তার বয়স যখন  মাত্র ১১ বছর ছিল তখন থেকেই তার মাটি খাওয়া শুরু। প্রথম দিকে দারিদ্রের কারণে মাটি খাওয়া শুরু করলেও পরে তা অভ্যাসে পরিণত হয়।

কারু পাশোয়ান বলেন, 'আমি আমার আর্থিক অবস্থা নিয়ে খুব হতাশায় ভূগতাম। ছেলেবেলা থেকেই দারিদ্রের মধ্যে বড় হয়েছি। একটুকরো রুটি ভাইবোনের মুখে তুলে দিতে নিজে মাটি খেয়ে পেট ভরাতাম। যত বড় হয়েছি দারিদ্রের চাপ আরও বেড়েছে। দশ ছেলেমেয়ের সংসার আমার। তাদের ঠিকমতো খাবার দিতে পারতাম না। মনে হতো, মরে যাই। একসময় খাবারের অভাবে মাটি খেতে শুরু করি। ধীরে ধীরে এটা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়। খাবারের অভাব ঘুচলেও আমি মাটি না খেয়ে থাকতে পারি না।'

কারুর বড় ছেলে সিয়া রাম পাশোয়ান বলেন, 'আমরা বাবাকে মাটি খাওয়া থেকে বিরত করতে অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কারও কথাই শোনেন না। তিনি যেখান সেখান থেকে এক টুকরো মাটি তুলে খেতে শুরু করেন।' অবাক কাণ্ড হলো,এত দীর্ঘ সময় ধরে মাটি খেলেও কারুর কোনদিনই সমস্যা হয়নি। বরং এরই বয়সেও তিনি শারীরিকভাবে বেশ সবল। এই বিরল খাদ্যাভ্যাসের জন্য ২০১৫ সালে বিহারের সবর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে বিশেষ সম্মাপনা প্রদান করেছে।

Tuesday, January 9, 2018

সাড়ে তিন ফুট মডেল

সাড়ে তিন ফুট উচ্চতা নিয়েই মডেলিং দুনিয়া মাতাচ্ছেন ড্রু প্রেস্টা। আমেরিকার নেভাডার রেনো শহরে জন্ম ড্রু প্রেস্টার। তবে কর্মসূত্রে এখন লস অ্যাঞ্জেলসে থাকেন ড্রু। ২১ বছরের ড্রু জন্ম থেকে একোনড্রোপ্লাসিয়ার শিকার। এটি এক ধরনের বামনত্ব রোগ। প্রাপ্ত বয়স্ক হলেও ড্রুয়ের উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট ৪ ইঞ্চি। পেশার জন্য রেনো ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলসে চলে আসেন ড্রু। সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে ড্রু বলেন, মডেল ইন্ডাস্ট্রির উচিত সকলকে খোলা মনে গ্রহণ করা। সকলেই যেন তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পায়। গত বছর তাকে নিয়ে আলোড়ন ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রচুর মানুষ তার ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করেন। মডেলিং এ ক্যারিয়ার তৈরি করে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন শারীরিক সীমাবদ্ধতার কাছে হার না মেনে কি করে এগোতে হয়।

বামন পরিবার

জিনগত কারণে ভারতের একটি পরিবারের ১১ সদস্যের মধ্যে ৯ জনই বামন। একটা সময় পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিল ২১জন। সে সময় ২১ জনের মধ্যে ১৮ জনই ছিল বামন। চিকিৎসকরা বলছে, অ্যাকোন্ড্রাপ্লাসিয়া নামক জিনগত শারীরিক সমস্যা কারণে পুরো পরিবারটির এমন অবস্থা। শরীর ও হাত-পায়ের আকৃতি ক্ষুদ্রাকায় করে ফেলার জন্য খুবই পরিচিত রোগ অ্যাকোন্ড্রাপ্লাসিয়া। ভারতের এই পরিবারটির সদস্যরা বংশানুক্রমে এই অসুখটি বয়ে বেড়াচ্ছেন। সাত বোন এবং চার ভাইয়ের মধ্যে আটজনই এই সমস্যায় আক্রান্ত। এরমধ্যে পরিবারের বড় ভাই পৃথ্বিরাজসহ বেশ কয়েকজন মারাও গেছেন। বর্তমানে ৫২ বছর বয়সী রামরাজ তার ১০ সদস্যের পরিবার নিয়ে ভারতের হায়দরাবাদের ওল্ড সিটিতে বসবাস করছেন। নিজেদের পারিবারিক এই অসুখের কারণে প্রচুর মানুষ কৌতুহলী হয়ে পড়ে এই পরিবারটিকে নিয়ে।

Monday, December 25, 2017

সবচেয়ে বড় উভচর বিমান

বিশ্বের সবচেয়ে বড় উভচর বিমানের সফল উড্ডয়ন ঘটাল চীন। মিলিটারিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্মিত এজি৬০০ মডেলের বিমানটি প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শেষে সফলভাবেই অবতরণ করে।চীনের দক্ষিণাংশের গুয়াংডং প্রদেশের ঝুহাই বিমানবন্দর থেকে রোববার চারটি টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনের বিমানটির সফল পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন ঘটানো হয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। এই বিমানটির পোশাকি নাম কুনলং।৫০ জন আরোহী নিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা আকাশে ভেসে থাকতে পারে এ বিমানটি।

পূর্বে বিভিন্ন সমরাস্ত্র বহন ও মিলিটারি কাজে ব্যবহার হলেও আধুনিকভাবে নির্মিত এ বিমানটি চীনের দক্ষিণ সাগর পাহারায় নিয়োজিত করা হতে পারে বলে দেশটির সংবাদ মাধ্যম শিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। একে আপাতত সমুদ্র, দ্বীপ ও ডুবো পাহাড়ের রক্ষাকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।বিমানটির ডানার দৈর্ঘ্য প্রায় ১২৭ ফুট ও ওজন ৫৩ দশমিক ৫ টন। এটি তৈরিতে ৮ বছর সময় লেগেছে। তৈরির পরপরই প্রায় ১৭টি বিমান বিক্রির প্রস্তাব পেয়েছে নির্মাণকারী সংস্থা।

১৯৪৭ সালে প্রথম নির্মিত উভচর বিমানটি উড্ডয়নে আলোর মুখ দেখেনি। মাত্র ২৬ সেকেন্ড ওড়ার পরপরই বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্তাংশগুলো জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম উভচর এই বিমানের প্রধান ডিজাইনার হুয়াং লিংকাই বলেন, ‘এ ধরনের বিমান তৈরির ক্ষেত্রে চীনের একটি বড় সফলতা। কেননা বিশ্বের হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি দেশের এ ধরনের বিশাল আকারের উভচর বিমান তৈরির সক্ষমতা রয়েছে।’

বিমানটির প্রস্তুতকারক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়না (এভিআইসি) জানায়, বিমানটির কাঠামো ৩৯ দশমিক ৬ মিটার এবং এটির পাখার দৈর্ঘ্য ৩৮ দশমিক ৮ মিটার।এভিআইসি সূত্র জানায়, বিমানটির সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ৫৩ দশমিক ৫ টন। এটি প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫শ’ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। বিমানটি একটানা ১২ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। এটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় উভচর বিমান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Tuesday, November 28, 2017

আইলিড শেভ

চুল কাটার বহু রকম ফেরে নিত্যদিনই গ্রাহকদের বায়নায় কেতা কায়দা শিখতে হচ্ছে স্থানীয় নাপিতদের। তবে এবার নিছক কেতা কায়দার জন্য নয়, দোকানে আসা গ্রাহকদের আরাম দিতে, তাদের চোখের পাতা শেভ করছেন চিনের এক নাপিত জিওং গাউ। চিনের পুরনো এক সাবেকি পন্থা মেনে চলছে এই চাঁছার কাজ।চিনের সিচুয়ানের নাপিত জিওং আবিষ্কার করেছেন নতুন ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তথা আরামের উপায় 'ব্লেড ওয়াশ আই'। যে ফ্যাশন স্টেটমেন্টের মাধ্যমে এই নাপিত চোখের পাতার ধার ঘেঁসে আলতো করে চেঁছে দিচ্ছেন লোমগুলি। এই কাজ চলছে ক্ষুর দিয়ে। ক্ষুর চালিয়ে মাথার চুল কাটা দেখেছেন, কিন্তু এই পন্থা অত্যাধুনিক। আর 'আই লিড শেভ' করতে রোজ ভিড় হচ্ছে বহু ফ্যাশনপ্রেমী মানুষের। 

তবে শুধু ফ্যাশন নয়, এই আইলিড শেভ করে প্রচুর মানুষ আরাম পাচ্ছেন বলে দাবি এই নাপিতের। চিকিৎসকদের মতে যদি পাতা চাঁছবার যন্ত্রপাতি পরিচ্ছন্ন হয়, তাহলে কোনওভাবেই কোনও রকমের সংক্রমণ ছড়াবেনা এই আইলিড শেভ থেকে। এদিকে, যাঁরা এভাবে চোখের পাতা চাঁছছেন তারাও বেশ খুশি এই কাজ করে। সব মিলিয়ে এই গোটা ঘটনায় হৈচৈ পড়ে গিয়েছে চিনে।

Tuesday, September 5, 2017

কেমন হাত

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরপ্রদেশের বালক তারিক। বয়স ১২ বছর। জন্মের সময় থেকেই তার দুহাতে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। স্বাভাবিকের চেয়ে তা ১২ ইঞ্চি বেশি লম্বা। হাতের আঙ্গুলও অস্বাভাবিক লম্বা ও মোটা।তার এ হাত দেখলে অন্য বাচ্চারা ভয় পায় বলে তাকে স্কুলে ভর্তি করানো যায় নি। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারিকের বন্ধুবান্ধব ছিল। কিন্তু তারা যখন দেখেছে, তার এ অসুখ ভালো হওয়ার নয়, তখন তারা তাকে ছেড়ে চলে গেছে।তাকে স্থানীয়রা ‘ডেভিল’ বা অশরীরি বা দুষ্টচক্রের মানুষ বলে আখ্যায়িত করে। তাকে মনে করা হয় অভিশপ্ত হিসেবে। কিন্তু তারিক জানে তার এ রোগ সারার মতো। তবে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ নেই পরিবারের। তার পিতা মারা গেছেন। এরপর থেকে তারিককে নির্ভর করতে হয় তার ভাইয়ের ওপর।

সে নিজে কাপড় পরতে পারে না। খেতে পারে না। গোসল করতে পারে না। সবই করে দেয় তার ভাই। তার এ রোগ কি ধরনের তা পরীক্ষাও করা হয় নি। তবে কিছু ডাক্তার আন্দাজ করছেন তারিক ‘এলিফ্যান্ট ফুট’ নামের একটি রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে। তারিক বলে, ‘এ অবস্থা থেকে আমি মুক্তি পেতে চাই। অন্য ছেলেমেয়ের মতো আমিও হতে চাই। প্রতিদিন স্কুলে যেতে চাই। খেলতে চাই। আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন আমার স্বাভাবিক হাত হবে। এক সময় আমার বন্ধু ছিল। এখন কেউ নেই। সবাই আমাকে দেখে ভয় পায়। মানুষ মনে করে কোনো অভিশাপের ফল আমার এই অবস্থা।’তারিকের ভাই হরজ্ঞানের ভাষায়, ‘ওকে কোনো স্কুলই ভর্তি করাতে রাজি হয় নি। তারা বলেছে, ওর এত বড় হাত দেখে অন্য ছাত্রছাত্রীরা ভয় পাবে। আসলে তারিকের হাত অনেক বড়। আমার জীবনে আমি এত বড় হাত দেখিনি কখনো। এ হাত নিয়ে তারিকের জীবন স্থবির হয়ে আছে।’

বিশ্বের সব থেকে বড় লাইব্রেরি

মোট এক লাখ ১০ হাজার বর্গমিটারের বিশাল জায়গা নিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে নির্মিত হয়েছে তেহরান বুক গার্ডেন।এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আব্বাসাবাদ হিলস-এ নির্মিত এই লাইব্রেরিটিতে বইয়ের দৃষ্টি আকর্ষক প্রদর্শনীর সঙ্গে রয়েছে একটি আর্ট গ্যালারি এবং ১০টির মতো থিয়েটার ও অ্যাম্ফিথিয়েটার।এখানে শিশুদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে একটি বিশেষ সেকশন। যেখানে থাকবে তাদের পাঠোপযোগী বই। নিউজ উইকের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, শুধু শিশুদের জন্যই রয়েছে চার লাখ বইয়ের বিশাল সংগ্রহ।

এই লাইব্রেরিতে রয়েছে মুভি থিয়েটার, সায়েন্স হল, ক্লাসরুম, একটি রেস্টুরেন্ট এবং একটি প্রার্থনাঘর। আর মনোরম পরিবেশে পড়ার জন্য লাইব্রেরির ছাদে রয়েছে সবুজ পার্ক।চলতি বছরের জুলাইয়ে উদ্বোধনের সময় তেহরানের মেয়র মোহাম্মদ বাকার ক্বালীবাফ বলেছিলেন, এটি আমাদের দেশের জন্য একটি বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন। এই সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক সুযোগ গ্রহণ করে শিশুরা যথাযথ ভাবে বেড়ে উঠবে।তেহরান বুক গার্ডেন প্রতিষ্ঠার প্রথম প্রস্তাব এসেছিল ২০০৪ সালে। তেহরান আন্তর্জাতিক বইমেলার আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তার কারণে এই প্রস্তাবটি এসেছিল। বিভিন্ন বই বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ করা নিয়ে ইরানকে আগে সমালোনার শিকার হতে হয়েছে। সম্প্রতি ইরানের  দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত ২০১৫ সালের তেহরান আন্তর্জাতিক বইমেলাতে শীর্ষ প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনী। এর মাধ্যমে এই ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছিল যে ইসলামিক রিপাবলিকে প্রকাশনার যে বিধি-বিধান রয়েছে তা  শিথিল হচ্ছে। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে হাসান রুহানীর সরকারের ব্যাপক প্রশংসা করা হয়েছে।গিনেজ বিশ্ব রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের পর থেকে বিশ্বের সব থেকে বড় লাইব্রেরি হচ্ছে নিউইয়র্ক শহরের ফিফথ এভিনিউয়ের বার্নেস এন্ড নোবেল। এটি প্রায় এক লাখ ৫৪ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। যেখানে ১২ মাইল দীর্ঘ জায়গা জুড়ে বই রাখার জন্য ব্যবহৃত সেলফ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই লাইব্রেরি থেকে তেহরান বুক গার্ডেন প্রায় তিনগুন বড়।