আজব পৃথিবী

Wednesday, December 28, 2016

মাথা কাটার পরেও ১৮ মাস ধরে জীবিত মুরগি

লয়েড দ্বিতীয় কোপ বসানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, এমন সময়ে যা ঘটল, তাতে প্রায় ভিরমি খাওয়ার জোগাড় হল তাঁর। তিনি দেখলেন, মাথা-কাটা মাইক দৌড়ে পালাচ্ছে। পৃথিবীতে এমন অত্যাশ্চর্য ঘটনাও ঘটে যা অনেক সময়ে নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস করা যায় না। এমনই এক ঘটনা ঘটে গিয়েছিল ৭০ বছর আগেকার আমেরিকায়, যেখানে মাথা কাটা যাওয়ার পরেও ১৮ মাস বেঁচে ছিল একটি মুরগি।  ঠিক কী ঘটেছিল? ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ তারিখে ফ্রুইটা কলোরাডো নিবাসী কৃষক লয়েড ওলসেন প্ল্যান করছিলেন নিজের শাশুড়ি মায়ের সঙ্গে বসে বিকেলের খাওয়াটা সারবেন। কিন্তু কী খাওয়া যায়? লয়‌েডের স্ত্রী বললেন, ‘এক কাজ করো। পিছনের খামার থেকে একটা মুরগি ধরে আনো। আজ মুরগি রাঁধি।’ খামারে গিয়ে লয়েড একটা মুরগি পছন্দ করলেন। সে দেশের খামারে পোষা মুরগিদেরও নাম থাকে। যে মুরগিটা দিয়ে বিকেলের খিদে মেটাবেন বলে ঠিক করলেন লয়েড, সেটির নাম মাইক। মুরগিটার বয়েস তখন সাড়ে পাঁচ বছরের মতো।  মুরগিটাকে ধরে একটা ছোট হাত-কুঠার দিয়ে সেটাকে জবাই করবেন বলে স্থির করলেন লয়েড। কিন্তু যেই না মাইককে চেপে ধরে সজোরে কুঠারটা নামাবেন তার গলা লক্ষ্য করে, ছটফটিয়ে উঠল সে। লক্ষ্যভ্রষ্ট হল লয়েডের কুঠার।
মাইকের গলার উপরে না পড়ে, কুঠার গিয়ে পড়ল তার মাথায়। মাথার আদ্ধে‌কটা গেল উড়ে।  লয়েড দ্বিতীয় কোপ বসানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, এমন সময়ে যা ঘটল, তাতে প্রায় ভিরমি খাওয়ার জোগাড় হল তাঁর। তিনি দেখলেন, মাথা-কাটা মাইক দৌড়ে পালাচ্ছে। আসলে, বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার পরে জানা যায়, কুঠারের কোপে মাইকের মাথার অধিকাংশটা বাদ গেলেও তার শরীরের জাগুলার ভেইনটি কাটা যায়নি। একটি কান এবং মগজের ঘিলুর অধিকাংশটাও অক্ষত থেকে যায়। তার ফলেই প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল মুরগিটি।এর পরে আর মাইককে হত্যার করার চেষ্টা করেননি লয়েড। বরং দয়াপরবশ হয়ে তিনি মুরগিটির দেখাশোনা শুরু করেন। রোজ একটা আই-ড্রপারে করে দুধ আর জলের মিশ্রণ খাওয়াতেন তিনি মুরগিটিকে। মাঝে মাঝে দিতেন ছোট ছোট ভুট্টা দানা।  এই ভাবে ১৮ মাস বেঁচেছিল মাইক। তত দিনে টাইম কিংবা লাইফ-এর মতো নামজাদা পত্রপত্রিকায় তাকে নিয়ে ছবি-সহ খবর প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে। দূর দূরান্ত থেকে লোক ছুটে আসতে শুরু করেছেন ‘মাইক দা হেডলেস চিকেন’ নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই মুরগিকে।  মুণ্ডহীন অবস্থায় ১৮ মাস বেঁচে থাকার পরে এক দিন মাঝরাতে শ্বাসনালীতে একটা শস্যদানা আটকে মারা যায় মাইক। কিন্তু তার পরেও তার অত্যাশ্চর্য কাহিনি অমর হয়ে রয়েছে। আজও কলোরাডোর মানুষের মুখে মুখে ফেরে মাথা-কাটা মুরগির কথা।  

Tuesday, December 13, 2016

জীবন্ত মানুষকে কবর

একেবারে খাঁটি খ্রিষ্টান শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলছে। চার জনের কাঁধে বাহিত হয়ে এগিয়ে চলেছে একটি কফিন। কফিনের ঢাকনা বন্ধ, শুধু এক দিকের উন্মুক্ত একটি অংশ দিয়ে দেখা যাচ্ছে কফিনের ভিতরে শায়িত মানুষটির মাথা। চোখ বোজা অবস্থায় নিথর হয়ে রয়েছে সেই মাথা। কফিনের পিছন পিছন চলেছেন কিছু মানুষ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কিছু পাকা মাথার বৃদ্ধাও, যাঁরা বুক চাপড়ে হাহাকার করে কাঁদছেন। বোঝাই যাচ্ছে, মৃত মানুষটির শোকেই তাঁরা আকুল। কিন্তু আর পাঁচটি অন্তিমযাত্রার সঙ্গে এই শোভাযাত্রার কিছু ভয়াবহ পার্থক্যও রয়েছে। প্রথমত, একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, কফিনের পেছনে ক্রন্দনরতা বৃদ্ধাদের সহযাত্রী হিসেবে রয়েছেন আরও কিছু মানুষ, যাঁদের চোখেমুখে শোকের লেশমাত্রও নেই। বরং মদের বোতল হাতে নেশায় টলমলায়মান অবস্থায় হর্ষধ্বনি আর হাততালির মাধ্যমে তাঁরা উজ্জীবিত করে চলেছেন একে অন্যকে। আর তার থেকেও ভয়াবহ তথ্য যেটি, সেটি হল এই যে, কফিনের ভিতরে যিনি শুয়ে রয়েছেন, তিনি আদৌ মৃত নন, বরং জলজ্যান্ত একটি মানুষ।কিউবার রাজধানী হাভানা থেকে ১২ মাইল দূরবর্তী সান্তিয়াগো দে লাস ভেগাস গ্রামে অনুষ্ঠিত 'ব্যুরিয়াল অফ প্যাচেন্দো' নামের এক বিচিত্র উৎসবের অংশ হিসেবেই কবর দেওয়া হয় এক জন জীবন্ত মানুষকে। ১৯৮৪ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে পালিত হয়ে আসছে এই উৎসব। বছরের গোড়ার দিকেই গ্রামের এক জনকে নির্বাচন করা হয় 'প্যাচেন্দো' হিসেবে, অর্থাৎ উৎসবের দিনে যাঁকে কবর দেওয়া হবে। তারপর নির্দিষ্ট দিনে কফিনের মধ্যে তাঁকে শোওয়ানো হয়। শুরু হয় শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ মানুষই থাকেন নেশার ঘোরে। চলে হাততালি, গান, উল্লাস। কিন্ত একটি অন্তিমযাত্রায় অংশ নেওয়া সকলেই তো আর আনন্দে উৎরোল হতে পারেন না। তাই শোভাযাত্রায় রেখে দেওয়া হয় কিছু মহিলাকেও, যাঁদের দায়িত্ব ওই 'প্যাচেন্দো'র বিধবা স্ত্রী হিসেবে শোকবিহ্বলতার অভিনয় করা।
শোভাযাত্রা সহ কফিন পৌঁছয় উৎসবের জন্যই আলাদাভাবে তৈরি করা কবরস্থানে। খোঁড়া হয় ছ'ফুট গভীর একটি কবর। উপস্থিত থাকেন ধর্মযাজকও। যথাবিহিত রীতি মেনে মানুষ সমেত কফিনটিকে শোওয়ানো হয় মাটির গভীরে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। ভূগর্ভে শায়িত কফিনকে ঘিরে কিছুক্ষণ হইহুল্লোড়ের পরেই আবার জীবন্ত মানুষটি সমেত কফিনটিকে তুলে আনা হয় উপরে। কিন্তু এই বিচিত্র উৎসবের তাৎপর্য কী? কে-ই বা এই প্যাচেন্দো? স্থানীয় বাসিন্দা অ্যালভেরো হার্নান্দেজ দিলেন সেই প্রশ্নের উত্তর। তিনি জানালেন, "প্যাচেন্দো একেবারেই কল্পিত একটি চরিত্র। আসলে ১৯৮৪ সালে গ্রামবাসীরা একটি স্থানীয় কার্নিভালের অন্তসূচক একটি অনুষ্ঠান পালন করবে বলে স্থির করে। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয়, একটি ছদ্ম-অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করা হবে। সেই সময়ে শহরে একটা নাটক এসেছিল 'ব্যুরিয়াল অফ প্যাচেন্দো' নামে। গ্রামবাসীদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল সেই নাটক। হঠাৎ করে কোনও কারণ ছাড়াই আমাদের অনুষ্ঠানের নাম আমরা স্থির করি 'ব্যুরিয়াল অফ প্যাচেন্দো'। ৫ ফেব্রুয়ারিকে যে এই বার্ষিক অনুষ্ঠানের জন্য স্থির করা হয়, সেটাও ওই রকম আকস্মিক সিদ্ধান্তেরই ফল।" গ্রামবাসী ডিভাল্ডো অ্যাগুইয়ার বিগত তিরিশ বছরে বেশ কয়েকবার এই অনুষ্ঠানে 'প্যাচেন্দো' হয়েছেন। তিনি বললেন, "আদপে এটা কোনও শোকানুষ্ঠানই নয়, বরং জীবনকে ভালবাসার উৎসব। কবর থেকে যখন উঠে আসি, তখন যেন নতুন করে জীবনকে ফিরে পাই, নতুন করে বুঝতে পারি জীবনের মূল্য। 'প্যাচেন্দো'র মধ্য দিয়ে জীবনের মূল্য উপলব্ধি করেন প্রত্যেক গ্রামবাসীও।" অতএব শোক নয়, বরং জীবন্ত 'প্যাচেন্দো'কে কবর দিয়ে জীবনেরই জয়গান গেয়ে যেতে চান সান্তিয়াগো দে লাস ভেগাসের মানুষজন।  

Monday, December 5, 2016

সবচেয়ে নিরাপদ ১৫ শহর

বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষই শহরে বাস করেন। আর শহরবাসীর কাছে নিরাপত্তার বিষয়টি সবচে অগ্রাধিকার পায়।শহরের নিরাপত্তার ওপর সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর আমেরিকার শতকরা ৮২ শতাংশ মানুষই শহরে বাস করেন। ইআইইউ প্রায় ৪০টি সূচককে বিবেচনায় নিয়ে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সূচকগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা। জরিপের অন্তর্ভুক্ত ৫০টি শহরের মধ্যে প্রথম ১৫টি শহর নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার। তাদের প্রতিবেদনে উঠে আসা শহরগুলো হচ্ছে…
টোকিও

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ শহরটি ইআইইউ-এর তথ্যানুযায়ী সবচেয়ে নিরাপদ শহর। ৩৮ মিলিয়ন মানুষের বসবাসের এ শহরটিতে জীবনযাপন সস্তা নয়, তবে নিরাপদ।
সিঙ্গাপুর

ব্যবসায়িক পরিবেশ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শহরটির অবস্থান দ্বিতীয়। 
ওসাকা

ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দিক থেকে জাপানের ওসাকা শহরটি দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও সাইবার নিরাপত্তার দিক থেকে শহরটির অবস্থান পঞ্চম।
স্টোকহোম

সুইডেনের স্টোকহোম সাইবার নিরাপত্তার দিক থেকে শীর্ষ দশে অবস্থান করা একমাত্র ইউরোপীয় শহর। সাইবার নিরাপত্তায় শীর্ষ দশে থাকা বাকি শহরগুলোর সবগুলোই এশিয়া এবং আমেরিকার।
আমস্টারডাম

আট লাখেরও কম লোকের বসবাস নেদারল্যান্ডের এ শহরটিতে। নিরাপদ শহরের তালিকায় তার অবস্থান পঞ্চম।
সিডনি

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দিক থেকে খুবই নিরাপদ এ শহরটির অবস্থান ষষ্ঠ। যান চলাচলের নিরাপত্তার দিক থেকে এ শহরটির অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। 
জুরিখ

সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরটি অভ্যন্তরীণ এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য প্রথম অবস্থানে থাকলেও মোটের উপর শহরটির অবস্থান সপ্তম। 
টরেন্টো

ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং জীবনযাপনের ব্যয়ভারের দিক থেকে কানাডার এই শহরটির অবস্থান পঞ্চম। তবে সার্বিক দিক থেকে শহরটির অবস্থান অষ্টম।
মেলবোর্ন

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং কম সড়ক দুর্ঘটনার কারণে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরটি বসবাসের জন্য খুবই নিরাপদ। তালিকায় এ শহটির অবস্থান নবম।
নিউ ইয়র্ক

তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের শহরটির অবস্থান দশম হলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিক থেকে শহরটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের মহামারি মোকাবিলার জন্য শহরটির অবস্থান দ্বিতীয়।
হংকং

সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শহরটি বিশ্বের প্রথম পাঁচ শহরের একটি। সার্বিক জরিপে এর অবস্থান একাদশ।
সান ফ্রান্সিসকো

তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের এ শহরটির অবস্থান দ্বাদশ। 
তাইপেই

নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দিক থেকে তাইওয়ানের রাজধানী শহরটির অবস্থান চতুর্থ। তবে নিরাপত্তার সার্বিক দিক বিবেচনায় শহরটির অবস্থান ১৩তম।
মন্ট্রিল

ব্যবসায়িক পরিবেশের দিক থেকে কানাডার এ শহরটির অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ এবং খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে অষ্টম। তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় শহরটির অবস্থান ১৪তম।
বার্সেলোনা

তিন বছর আগে সাবওয়ে এবং রাস্তায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় স্পেনের এই শহরটির কর্মকর্তারা। এর ফলে দেশটিতে অপরাধের মাত্রা কমে গেছে প্রায় ৩২ শতাংশ। তালিকায় শহরটি অবস্থান করছে ১৫তম স্থানে।

পৃথিবীর অবিশ্বাস্য জায়গা

এখানে পা রাখা মাত্রই পর্যটকদের চোখে ঝলসে ওঠে বেগনি-নীল-আশমানি-সবুজ-হলুদ-কমলা-লালের বাহার। আকাশে নয় এই রংমহল পাহাড়ের গায়েই। বঙ্কিমচন্দ্রের দাদা সঞ্জীবচন্দ্রের অনুসরণে যদি কোউ বলে বসেন, ‘বন্যেরা বনে সুন্দর, রামধনু অন্তরীক্ষে’, তাহলে তাঁকে হার মানতে হবে এক জায়গায়। শুধু আকাশে নয়, মাটিপাথরের ধরাতেও দেখা দিতে পারে রামধনু। গোটা একটা পর্বতশ্রেণি রেঙে উঠতে পারে সাতরঙের বাহারে। না কোনও কৃত্রিম কাণ্ড নয়, প্রকৃতির আজব খেয়ালে রামধনু পর্বত সত্যিই তৈরি হয়েছে চিনে। চিনের ঝাংগিয়ে দাংজিয়া ল্যান্ডফর্ম জিওগ্রাফিক্যাল পার্ক বিশ্বের বিস্ময় বলেই পরিগণিত। এখানে পা রাখা মাত্রই পর্যটকদের চোখে ঝলসে ওঠে বেগনি-নীল-আশমানি-সবুজ-হলুদ-কমলা-লালের বাহার। আকাশে নয় এই রংমহল পাহাড়ের গায়েই। মনে হয়ে কেউ যেন দানবীয় তুলিতে রং বুলিয়েছে পাহাড়ের গায়ে। 
ভূবিজ্ঞানীদের বক্তব্য— এই রঙিন পাহাড় তৈরি হতে সময় লেগেছে ২৪ মিলিয়ন বছর। টেকটনিক প্লেটের সরণের ফলে এই পাহাড়ের খাড়াইগুলো তৈরি হয়। কিন্তু তার গায়ে এই বিচিত্র রঙের বাহার ধরে অন্য কারণে। এই পর্বত মূলত বেলেপাথরে তৈরি।  হিমালয় গঠনের অনেক আগে থেকেই এই পাহাড় তৈরি শুরু হয়েছিল। বালি পাথরে জমাট বাঁধার সময়ে তাতে মিশে গিয়েছিল বিভিন্ন খনিজ, গাছপালার অবশেষ ইত্যাদি। সেই মিশ্রণগুলিই এই রঙিন দুনিয়া তৈরি করে। এই পাহাড়ের প্রাথমিক রংটি কিন্তু টকটকে লাল। তার উপরেই ক্রমে জমেছে অন্য রঙের উপকরণ। ক্রমাগত আবহবিকারেই এই পাহাড় তার বর্তমান রূপটি পরিগ্রহ করে বলে জানান ভূ-বিজ্ঞানীরা। উত্তর-পশ্চিম চিনের এই অঞ্চল আজ জনপ্রিয় পর্যটক ক্ষেত্র। 

Sunday, December 4, 2016

‘আত্মহত্যার গাছ’

ড্রেনড্রকনাইট মরডেইস নামক গুল্ম প্রজাতির গাছটির পাতা কিংবা কাণ্ডের স্পর্শ শরীরে এতো যন্ত্রণা সৃষ্টি করে যে, মানুষ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় তাই গাছটিআত্মহত্যার গাছবলে পরিচিতগাছটি অস্ট্রেলিয়ায় বেশি দেখা যায় এটি গেম্পি গেম্পি, দ্য সুইসাইড প্লান্ট এবং মুনলাইটার নামেও পরিচিত গাছটির পাতা কাণ্ড এক ধরনের কাঁটায় আচ্ছাদিত ওই কাঁটা শরীরে উচ্চ নিউরোটক্সিন নির্গত করে যা এক দুঃসহ যন্ত্রণার সৃষ্টি করে   গাছের হুল শরীরে বিঁধলে যে ব্যথা শুরু হয় তা দুই বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ব্যথায় কোনো কাজ তো দূরের কথা ঘুমানোও অসহনীয় হয়ে ওঠে। ব্যথা অন্য যেকোনো ব্যথার চেয়ে অন্তত ১০ গুণ বেশি ভয়ানক। এজন্য আক্রান্ত মানুষ আত্মহত্যার চিন্তা করতে বাধ্য হয় 

Wednesday, November 30, 2016

স্বর্ণের হরফে কুরআন লিখে রেকর্ড

মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে পুরনো পাণ্ডুলিপি গত বছর যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া যায়। ‘প্রথম কুরআন’-এর খোঁজ মেলায় সে সময় বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে যায়। এবার স্বর্ণের অক্ষরে কুরআন লিখে ইতিহাস গড়ে সংবাদের শিরোনাম হলেন আজারবাইজানের শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদে। 
১৬৪ ফুটের স্বচ্ছ কালো সিল্কের ওপর সোনা এবং রুপা দিয়ে কোরআন লিখেছেন তিনি। এতে সময় লেগেছে প্রায় ৩ বছর। সিল্কের ওপর স্বর্ণের অক্ষরে কুরআন এই প্রথম লেখা হলো বলে জানান ৩৩ বছর বয়সী এই শিল্পী।
১১.৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৩ ফুট প্রস্থের এই কুরআনের হরফ লেখা হয়েছে স্বর্ণ এবং রুপা দিয়ে। প্রত্যেকটি হরফ নিজের হাতে লিখেছেন মেমেদজাদে। প্রতিটি পাতায় ফুটে উঠেছে ইসলামের শিল্পকলা। তুরস্কের প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স দিয়ানেট থেকে স্বর্ণের হরফে লেখা কুরআনের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। 

Sunday, November 6, 2016

এমনই হওয়া উচিত ভালবাসা

ভালবাসার আসল ব্যাপার দেহ নয়, মনই হওয়া উচিত। মাত্র তিন ফুট সাত ইঞ্চি উচ্চতার ২৮ বছরের জেমস লুসটেডকে ভালবেসে বিয়ে করেছেন ২২ বছরের প্রেমিকা চোল। চোলের উচ্চতা পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি। ৩ বছরের প্রেমের পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা।বিয়ের সময় উচ্চতার কারণে বিপাকে পড়েন প্রেমিক জেমস। উচ্চতায় ছোট হওয়ায় কনেকে চুমু দেওয়া বা আংটি পরাতে পারছিলেন না। অবশেষে মইয়ে চড়ে কনেকে চুমু খাওয়া ও আংটি পরানোর কাজ সারলেন জেমস। ব্রিটেনের উত্তর ওয়েলেসে সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে।

উত্তর ওয়েলসের জনপ্রিয় গির্জা সেন্ট মার্গারেটে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বামন জেমসকে বিয়ে না করতে অনেকেই চোলেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভালোবাসা কোনো বাঁধা মানে না। তাই ভালোবাসার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে চোলে ও জেমসের সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়।নিজের বানানো মই সম্পর্কে জেমস বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে মইটি বানিয়েছি। মইটি আমাকে চোলের চেয়ে কয়েক ইঞ্চি লম্বা দেখাতে সাহায্য করে। এটিতে চড়ে অন্যান্য দম্পতির মত চুমু খাওয়া ও আংটি পরানোর কাজ সহজেই করা যায়।’ভালোবাসা একজন মানুষকে অসাধ্য সাধন করতে সাহায্য করে। আর এ অসাধ্য সাধন করেছেন চোলে। পরিবারের বাঁকা কথা শোনার পরও বামন বরকে বিয়ে করেছেন তিনি। কাজটি খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু জেমস ‍লুসটেডকে বিয়ে করে তিনি খুবই খুশি।

চোলে বলেন, ‘আমাদের দুজনের মধ্যে উচ্চতার ব্যবধান দুই ফুট। কিন্তু আপনি যখন প্রেমে পড়বেন তখন এই সামান্য ব্যাপার বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।’জেমস পেশায় একজন মুখাভিনেতা আর চোলি শিক্ষিকা। দুজনই ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান। তাই উত্তর ওয়েলসের সেন্ট মার্গারেট চার্চে তাদের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন।বিয়ের দিন সম্পর্কে জেমস বলেন, ‘দিনটি খুবই চমৎকার ছিল। বিয়েতে ৮০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। রাতের অতিথির সংখ্যা বেড়ে ১২০ জন হয়েছিল। বিষয়টি খুবই চমৎকার ছিল।’জেমস লুসটেড ড্রায়াসট্রোফিক ডেসফ্লাসিয়া নামের জেনেটিক সমস্যা নিয়ে জন্মেছিলেন। তার বাবা-মাও এ রোগে আক্রান্ত। তার ভাইয়েরও এ সমস্যা আছে। তাই অনেকে ধারণা করছেন তাদের সন্তানরাও বামন হবে।

তবে বিষয়টি বড় করে দেখছেন না চোলি। তিনি বলেন, ‘সংসার করার ইচ্ছা সবারই থাকে। তাই আমরা আর দেরি করতে চাচ্ছি না। আমাদের সন্তানরাও যদি আমার স্বামীর মত অর্থাৎ বামন হয়, তাহলেও কোনো সমস্যা নেই।’বর জেমস লুসটেড ড্রায়াসট্রোফিক ডেসফ্লাসিয়া নামের জেনেটিক সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবা মাও এ রোগে আক্রান্ত ছিলেন।জেমস ও চোলির ভালোবাসা পূর্ণতা পেতে খুব সমস্যা হয়েছে। কারণ, চোলির পরিবার এ বিয়েতে রাজি ছিলেন না। কোন পরিবারই চায় না তার মেয়ে একজন বামনকে বিয়ে করুক। আর আত্মীয়স্বজনরাও চাচ্ছিলেন না বিয়েটি হোক। কিন্তু জেমস ও চোলির দৃঢ়তায় তারা শেষ পর্যন্ত মত দেন।চোলির মা সারাহ বলেন, ‘একদিন চোলে আমাকে বলে, সে জেমসকে ভালোবাসে। তার সাথে সংসার করতে চায়। কিন্তু আমি তার সিদ্ধান্তে ‍খুশি ছিলাম না, কারণ ছেলেটি বামন। আমি তাকে শুধু একবার দেখেছি। মেয়ের নিজের সিদ্ধান্তেই বিয়ে করেছে। এ বিষয়ে খুব বিস্তারিত আমি জানি না।’

Wednesday, November 2, 2016

মৃত ব্যক্তির হাড়দিয়ে স্যুপ

পৃথিবীতে আজও এমন বেশ কিছু রীতি বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত রয়েছে, যা সভ্য সমাজে বসে বিশ্বাস করা কঠিন। এইসব রীতি শুধু প্রাচীন নয়, সভ্য সমাজের দৃষ্টিকোণ থেকে বহুলাংশে ভয়াবহ, এবং অমানবিকও।
১) কোবরা গোল্ড: প্রতি বছর থাইল্যান্ড, আমেরিকা, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, সাউথ কোরিয়া, মালেশিয়ার মতো দেশগুলি থেকে সৈন্যরা থাইল্যান্ডে যান একটি ১১ দিন ব্যাপী মিলিটারি এক্সারসাইজে অংশগ্রহণ করতে। এই যৌথ সেনা মহড়ার নাম কোবরা গোল্ড।এই মহড়ায় সেনাদের শেখানো হয় কীভাবে চরম প্রতিকূল অবস্থাতেও বেঁচে থাকা যায়। তারই অংশ হিসেবে বিষাক্ত কেউটে সাপ মেরে তার রক্তপান, জ্যান্ত মুরগির মাথা চিবিয়ে খাওয়া কিংবা কাঁকড়া বিছে খাওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
২) মৃতদেহের সঙ্গে বসবাস: থাইল্যান্ডের তোরাজা উপজাতির মানুষরা বছরে একবার করে কবরস্থ আত্মীয়দের মৃতদেহ তুলে আনেন কবর থেকে।মৃতদেহগুলি পরিস্কার করে নতুন পোশাকে সজ্জিত করা হয়। তারপর সুসজ্জিত মৃতদেহগুলিকে নিয়ে চলে শোভাযাত্রা। তোলা হয় মৃতদেহের সঙ্গে সেলফিও। তারপর পুনরায় তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় কবরে। তোরাজা উপজাতির মানুষদের বিশ্বাস, এমনটা করলে খুশি হয় মৃত প্রিয়জনের আত্মা।
৩) নরমাংস ভক্ষণ: পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে নরমাংস ভক্ষণ আইনত নিষিদ্ধ হলেও ইন্দোনেশিয়ান নিউ গিনিতে বসবাসরত কোরোওয়াই উপজাতির মধ্যে এখনও মানুষের মাংস খাওয়ার রীতি রয়ে গিয়েছে। এরা তাদের সমাজভুক্ত ওঝাদের মাংস খেয়ে থাকে। ওঝার মাথার ঘিলুটাই সবার আগে খাওয়ার রীতি রয়েছে।এছাড়াও অ্যামাজনের ইয়োনোমামি উপজাতির মধ্যেও নরমাংস খাওয়ার রীতি প্রচলিত। এরা মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে হাড়গুলি বার করে শুকিয়ে নেয়। মৃত্যুর ৪৫ দিন পরে শুকনো হাড় গুঁড়ো করে কলার স্যুপের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়। মৃত্যুর এক বছর পরে সংরক্ষিত মৃতদেহের মাংস পুড়িয়ে সেই ভস্ম সেবন করে এরা। ইয়োনোমামিদের বিশ্বাস, এমনটা করলে মৃত ব্যক্তির আত্মার স্বর্গলাভের পথ প্রশস্ত হয়।

Monday, October 31, 2016

জুমাবারে নতুন মসজিদ বানাতেন মুসা

গোটা বিশ্বের মানবজাতির ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে তিনি হলেন পশ্চিম আফ্রিকার মালি সাম্রাজ্যের অধিপতি মানসা মুসা।তার সম্পদ এত বেশি ছিল যে তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না। তিনি অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তিও ছিলেন। কথিত আছে, প্রতি জুমাবারে মুসা একটি করে মসজিদ তৈরি করতেন। বিশ্বের বড় বড় ধনী ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের কারো কারো সম্পত্তির কোনো হিসাব-নিকাশ নেই। যেমন বিল গেটস, মুকেশ অম্বানি কিংবা সৌদি আরবের শেখরা। কিন্তু মানবজাতির ইতিহাসে সবসেচে ধনী কে ছিলেন তা খুঁজে বের করতে সম্প্রতি সমীক্ষা চালিয়েছিল একটি সংস্থা। Celebrity Net Worth নামের ওই সংস্থাটির সমীক্ষায় হিসাবটা এভাবে করা হয়েছে যে ১৯১৩ তে যদি সম্পত্তির পরিমাণ থাকে ১০০ মিলিয়ন ডলার, ২০১৩-এর হিসাবে সেটা হবে ২২৯৯.৬৩ বিলিয়ন ডলার।
এই হিসাবে দেখা গেছে ২৫ জন সর্বকালের ধনী ব্যক্তির মধ্যে ১৪ জনই আমেরিকান। আর এদের মধ্যে একমাত্র বিল গেটসই জীবিত। তিনিই সবচেয়ে ধনী আমেরিকান। তবে গোটা বিশ্বের ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে তার তা অনেকেই শোনেননি। তিনি হলেন মানসা মুসা। পশ্চিম আফ্রিকার মালি সাম্রাজ্যের অধিপতি ছিলেন তিনি। মালি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সান্দিয়াতা কেইতার ভাগ্নে ছিলেন সম্রাট মানসা মুসা। ১৩০৭ সালে তিনি সিংহাসনে বসেন। তিনি প্রথম আফ্রিকান শাসক যিনি ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। তার সম্পদ এত বেশি ছিল যে তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না। আনুমানিক ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি ছিল তার।প্রচলিত আছে, ১৩২৪ সালে তিনি যখন হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যান, তখন তার হজবহরের ৬০ হাজার লোক ছিল শুধু রসদপূর্ণ ব্যাগ বহনের জন্য। সঙ্গে ছিল ৫০০ গোলাম, যারা প্রত্যেকে একটি করে সোনার দণ্ড নিয়ে গিয়েছিল। ৮০ থেকে ১০০টি উট ছিল, যেগুলো প্রত্যেকটি প্রায় ১৪০ কেজি সোনা বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। 
তার এই যাত্রাপথে তিনি প্রায় কয়েক শ’কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেছিলেন। কায়রোতে তিনি এত বেশি সোনা বিতরণ করেছিলেন যে, বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানে সোনার দাম অনেক কম ছিল। মুসার সফরে তার প্রথম স্ত্রী সঙ্গী হন। মুসার স্ত্রীর সেবায় ৫০০ দাসী নিযুক্ত ছিল। এই কাফেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা ও সঙ্গীত শিল্পীও ছিলেন। মক্কায় হজের পর মক্কার জ্ঞান-বিজ্ঞানে অভিভূত হয়ে পড়েন তিনি। মক্কা থেকে উট বোঝাই করে চিকিৎসা, জোতির্বিদ্যা, দর্শন, ভুগোল, ইতিহাস, গণিতশাস্ত্র এবং আইনের ওপর প্রচুর বই নিয়ে আসেন। এবং মক্কা থেকে মেধাবী এবং সেরা গণিতবিদ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, আর্কিটেক্টদের আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসেন।
বলা হয়ে থাকে মুসা ওই ঐতিহাসিক হজে ১,৫০,০০০ পাউন্ড সোনা ব্যয় করেছিলেন। তিনি মালি সাম্রাজ্যের প্রায় ৪০০টি শহরকে আধুনিক করে গড়ে তোলেন। তার তৈরি স্থাপত্যের মধ্যে শংকর মাদ্রাসা বা ইউনিভার্সিটি অফ শংকর, হল অডিয়েন্স, গ্রান্ড প্যালেস উল্লেখযোগ্য। মুসার মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা স্পষ্টভাবে জানা যায় না। তবে শোনা যায়, তিনি ২৫ বছর ধরে রাজত্ব করেছিলেন।

Tuesday, October 25, 2016

দুবার জন্ম নেয়া একই শিশু

এক জীবনেই দুবার জন্ম হয়েছে তার। না, সে কোনো দেব-দেবী বা ঈশ্বরের অবতার নয়। প্রকৃত মানবশিশুই সে।এমন অসম্ভব ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের প্লানোতে। তাই তো শিশুটির মা মার্গারেট বোয়েমার বলেছেন, প্রতিবছর দুটি জন্মদিন পালন করবেন তার মেয়ের।মার্গারেটের গর্ভাবস্থার ১৬ সপ্তাহ পার হলে নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর চিকিৎসকেরা সমস্যা দেখতে পান। ওই ভ্রূণে একটি টিউমার ধরা পড়ে। এর আট সপ্তাহ পরে মাতৃগর্ভ থেকে শিশুটিকে অস্থায়ীভাবে বের করা হয় টিউমার অস্ত্রোপচারের জন্য।সার্জনরা মাতৃগর্ভ থেকে ১ দশমিক ৩ পাউন্ড ওজনের শিশুটি বের করেন ২০ মিনিটের জন্য। জীবন-মরণের ঝুঁকি নিয়ে তার অস্ত্রোপচার করেন। এরপর আবারও জরায়ুতে তাকে স্থাপন করা হয়। বলতে হয়, পৃথিবীতে এমন ঘটনা খুবই বিরল।এরপর মার্গারেটকে ৩৬ সপ্তাহ পর্যন্ত পূর্ণ বিশ্রামে রাখা হয়। শিশুটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থভাবেই দ্বিতীয়বারের মতো জন্ম নেয়।জন্মের সময় লিনলি হোপ নামে ওই শিশুর ওজন ছিল সাড়ে পাঁচ পাউন্ড।মার্গারেট জানান, আল্ট্রাসনোগ্রামের ফলাফলের পর তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। গর্ভধারণের ১৬ সপ্তাহে স্ক্যান করার পর চিকিৎসকেরা জানান একটি মারাত্মক সমস্যা রয়েছে গর্ভের শিশুর। শিশুটির স্যাক্রোকোসসিজাল টেরাটমা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম। কারণ এত বড় লম্বা শব্দটার (স্যাক্রোকোসসিজাল টেরাটমা) মানে আমরা জানতাম না। আমাদের কী করতে হবে তাও জানতাম না।’

ছেলেশিশুদের চেয়ে মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। যদিও এর কারণ জানা যায়নি। টেরাটমা আক্রান্ত প্রতি ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ শিশুর মধ্যে মাত্র একটি শিশুর বেঁচে থাকার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।তবে কখনো কখনো চিকিৎসকেরা শিশুর জন্ম না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন অস্ত্রোপচারের জন্য। কিন্তু লিনলির ক্ষেত্রে দেখা গেছে টিউমারটি তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বড় হচ্ছিল।এ রকম ক্ষেত্রে দেখা যায় টিউমারটি বড় হয় এবং হৃৎপিণ্ড অকেজো হয়ে পড়তে থাকে। ফলে একসময় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং শিশুটি মারা যায়।মার্গারেট বলেন, ‘যখন গর্ভধারণের ২৩ সপ্তাহ চলছিল, চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তখন অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত ছাড়া উপায় ছিল না। ২৪ সপ্তাহে দেখা যায় শিশুটির আকারের সমান হয়ে গেছে টিউমারের আকার। আমরা তার জীবন বাঁচাতে চেয়েছিলাম, তাই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিই।’যদিও সম্পূর্ণ অস্ত্রোপচারে ৫ ঘণ্টা সময় লেগেছিল কিন্তু শিশুটি বাইরে ছিল মাত্র ২০ মিনিটের মতো।এই অস্ত্রোপচারের ১২ সপ্তাহ পর একটি পরিপূর্ণ শিশু হিসেবে পৃথিবীতে আসে লিনলি হোপ। সিজারিয়ানের মাধ্যমে তার এই জন্মকে মার্গারেট বলেন দ্বিতীয়বার জন্ম। তাই তিনি মেয়ের জন্মদিন হিসেবে দুটি দিনই পালন করবেন বলে জানান।

Saturday, October 22, 2016

যেখানে ধূমপান করে বানর

আশ্চর্য হলেও সত্য যে বানরও এখন ধুমপান করছে এবং রীতিমত ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়েছে বলা যায়। সম্প্রতি বানরের সিগারেট খাওয়ার দৃশ্য দর্শণার্থীদের চোখে পড়ে দক্ষিন কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়েং সাম্প্রতিক উদ্ভাবিত চিড়িয়াখানায়।ঊনত্রিশ বছরের একটা শিম্পাঞ্জি দর্শণার্থীদের দেখিয়ে দিচ্ছে সিগারেট খাওয়ার জন্য কীভাবে লাইটার ব্যবহার করতে হয়। যদি লাইটার না থাকে সেক্ষেত্রে পরিত্যাক্ত সিগারেটের আগুন নিয়ে তার সিগারেট ধরিয়ে নিচ্ছে।একটা শিম্পাঞ্জি ধুমপান করতে করতে এমন একটা পর্যায়ে এসেছে যে এখন কম করে হলেও দিনে ২০ বার ধুমপান করে থাকে।দক্ষিন কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়েংর চিড়িয়ার সুপারস্টার বানরের নাম এ্যাজালি। যিনি সিগারেট খাওয়া, ফুঁক দেয়া, ধরানো সহ নানান ধরনের কৌশল শিখিয়ে দিচ্ছেন চিড়িয়াখানায় আগত দর্শণার্থীদের।
সে বর্তমানে দিনে এক প্যাকেট সিগারেট পেয়ে থাকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে যা দিয়ে তিনি সারা দিন চলতে পারেন।চিড়িয়াখানায় প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শক আসে বানরের কার্যকলাপ দেখার জন্য। বানর ছাড়াও ঐ চিড়িয়াখানায় রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির হাতি, জিরাফ, পেঙ্গুইনসহ অন্যান্য বিচিত্র প্রাণী।এই চিড়িয়াখানায় আরও একটি উল্লেখওযোগ্য প্রাণী হল কুকুর যাদেরকে লালন পালন করা হয় জার্মানীর মেষপালের মত। তাছাড়া,চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তাদের বিভিন্ন খেলাধুলাসহ নানান কৌশল শিখিয়ে থাকে যাতে করে তারা দর্শণার্থীদের আনন্দ দিতে পারে।

Wednesday, October 19, 2016

বয়স ৯২ বছর স্ত্রীর সংখ্যা ৯৭

নাইজেরিয়ার নাগরিক বেলো আবু বকরের বয়স ৯২ বছর। এই নাগরিকের স্ত্রীর সংখ্যা ৯৭। কিন্তু এ সংখ্যা নাকি বিশেষ কিছুই নয় তার কাছে। বেঁচে থাকা পর্যন্ত আরো বিয়ে করতে চান তিনি।এই ধর্মযাজক বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন মোট ১০৭ বার। এর মধ্যে ১০টি সম্পর্ক টেকেনি।বিয়েকে স্বর্গীয় আশীর্বাদ বলে মন্তব্য করেছেন। শুধু তাই নয়, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আরো বিয়ে করতে চান আবু বকর।বর্তমানে তার ঘরে রয়েছে ১৮৫ সন্তান।

Wednesday, October 5, 2016

মাথাভর্তি চুল দুই মাস বয়সী শিশুর

শিশু জুনিয়র কক্স নুন অন্য সব শিশুদের চেয়ে বেশ আলাদা। সে মাথাভর্তি এক গাদা চুল নিয়ে জন্মেছে। এখন তার বয়স মাত্র ২ মাস। অথচ তার মাথাভর্তি চুল দেখে মনে হবে তার না জানি কত বয়স। একটু ঠাট্টা করেই তার মা বলেন, ওর মাথায় এত চুল যে ওকে নিয়ে কোথাও গেলে লোকজন ব্যস্ত হয়ে পড়ে।তিনি আরো বলেন, আমি ওকে নিয়ে কেনাকাটা করতে গেলে সবাই ওর প্রতি খুব আগ্রহ দেখায়। আর ওকে একটু ধরে দেখতে চায় সবাই। আর এতে আমাকে এক গাদা ঝক্কি পোহাতে হয়। কয়েক ঘণ্টার আগে আমি কোনো মতেই কেনাকাটা শেষ করতে পারি না।জুনিয়রের মাথায় এত চুল যে স্বাভাবিকভাবে চুল শুকায় না। ওকে গোসল করানোর পর হেয়ার ড্রায়ার ছাড়া কখনোই ওর চুল শুকায় না। মাঝে মাঝে ঝক্কি এড়াতে জুনিয়রের মা বাধ্য হয়েই ওর মাথায় ক্যাপ পড়িয়ে ওকে নিয়ে বাইরে বের হন। তাতে কেউ ওর চুল দেখতে পাননা আর ওর প্রতি এত কারো আগ্রহও দেখা যায় না তখন।

Sunday, October 2, 2016

৫ বছর বয়সেই সন্তানের মা

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে সন্তানের জন্ম দিয়ে ইতিহাসে নাম লেখালো লিনা মেডিনা নামের একটি মেয়ে। হ্যাঁ, দক্ষিণ আমেরিকার পেরুর এই মেয়েটিই বিশ্বের সর্ব কনিষ্ঠ মা।১৯৩৯ সালের কথা। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে একটি ছেলের জন্ম দিয়েছিল লিনা। চিকিৎসা বিজ্ঞান আজও সেই রহস্যের কিনারা করতে পারেনি। পেরুতে ৭ হাজার ৪০০ ফুট ওপরে পাহাড়ের চূড়ায় বাস ছিল লিনার পরিবারের। ক্রমশ পেট ফুলে উঠা দেখে টিউমার ভেবে তাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয় তার বাবা-মা। পাঁচ বছরের লিনাকে পরীক্ষা করে হতবাক হয়ে যান চিকিৎসকরা। ছোট মেয়েটির শরীরে বেড়ে উঠছে আরও একটা প্রাণ!পাঁচ বছরের লিনা তখন সাত মাসের অন্তস্বত্ত্বা বলে জানান চিকিৎসকরা। জানা যায় মাত্র আড়াই বছর বয়সেই পিরিয়ড হয়ে গিয়েছিল মেয়েটির। কিন্তু কীভাবে গর্ভবতী হল ছোট মেয়েটি?নিজের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল তার বাবাকে। কিন্তু প্রমাণের অভাবে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বড় হয়ে লিনা নিজেও কখনও এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। লিনার সন্তানের বায়োলজিক্যাল বাবার নাম কখনোই জানা যায়নি। লিনার জন্ম দেওয়া সন্তান ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচেছিল। প্রথমদিকে লিনাকে সে নিজের দিদি বলে জানত। পরে তার ১০ বছর বয়স হওয়ার পর সব সত্যি তাকে জানানো হয়।

Wednesday, September 28, 2016

যে জায়গায় থাকার জন্য টাকা পাওয়া যায়

ডেট্রয়েট: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল রাজধানী এই শহর। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে শহরটি জৌলুস হারাতে শুরু করে। দিনে দিনে জনমানবহীন হয়ে যায়। কিন্তু ফের সেখানে জীবন ফিরিয়ে আনতে নেওয়া হয়েছে ‘চ্যালেঞ্জ ডেট্রয়েট’। এই প্রোজেক্টে প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে থাকার সুযোগ তো দেওয়াই হবে, তাদের জন্য কাজের ব্যবস্থাও করা হবে।
আলাস্কা: আপনি কি শীত ভালবাসেন? শ্বেত তুষারাবৃত ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে আলাস্কা। এখানে সরকারের একটি আলাদা ফান্ড রয়েছে। পেশাদার লোকেরা আলাস্কায় বাস করতে চাইলে সরকার তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করবে। আপনাকে একটি শর্ত পালন করতেই হবে। তা হল, অন্তত এক বছর থাকতে হবে ওখানে।
নায়াগ্রা ফলস: পৃথিবীর সর্বোচ্চ জলপ্রপাতের কাছে থাকার সুযোগ দেয় স্থানীয় প্রশাসন। সরকার গ্রাজুয়েটদের সাত হাজার ডলার পর্যন্ত দিয়ে থাকে। শর্ত একটাই ফলসের কাছাকাছি গড়ে ওঠা কোনও প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হবে।
পনগা: উত্তর-পূর্ব স্পেনের সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে থাকা এই গ্রামটিতে জনবসতি খুবই কম। অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি যুগলকে এখানে এসে থাকার জন্য তিন হাজার ইউরো দেওয়া হয়।
উট্রেচট: নেদারল্যান্ডসের এই শহরে প্রতিটি নাগরিককে এক হাজার ডলার করে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সাস্কাটচেয়ান: কানাডার এই প্রদেশ সুযোগটি দিচ্ছে শুধুমাত্র যোগ্যতাসম্পন্ন গ্রাজুয়েট ছেলে-মেয়েদের জন্য। যারা এখনও তাদের কেরিয়ার কী ভাবে গড়বেন ঠিক করেননি তাদের জন্য রয়েছে অনন্য সুযোগ। তারা সাত বছর পর্যন্ত ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার পাবেন এখানে থাকা এবং কাজ করার জন্য।
নেবরাস্কা: মার্কিন মুলুকের এই জায়গায় ঘটেছে মজার একটা বিষয়। প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের সুযোগ দিয়েছে, তারা জমি বিনামূল্যে পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। বিনিময়ে সেখানকার উন্নতির জন্য কী কী গঠনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে হবে।

যে গ্রামে পুরুষের জুতা ধোয়া পানি খান মেয়েরা

শুধু জুতা ধোয়া পানি খাওয়াই নয়, তার আগে মাইলের পর মাইল সেই জুতা মাথায় করে হেঁটে মন্দিরে আসতে হয়। এরপর প্রায় ২০০টি সিঁড়ি ভেঙে নামতে হয় মন্দির সংলগ্ন পুকুরে। এর পরে জুতা ধুয়ে পানি খাওয়ার পালা। সেখানেই শেষ নয়। এরপরে ফের জুতা মুখে ও মাথায় করে নিয়ে বাড়ি ফেরা। সব কিছুই নাকি অশুভ শক্তির থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়।ভারতের দক্ষিণ রাজস্থানের ছোট্ট একটা গ্রাম ভিলওয়ারা। সেখানকার ‘বাংকায়া মাতার মন্দিরে গেলেই দেখা যাবে পুরুষের জুতা মুখে করে পানি খাচ্ছেন মেয়েরা।এই মন্দিরে খুব সাধারণ দৃশ্য এটা। এখানে মেয়েরা আসেন অশুভ শক্তির হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়। আর সেই মুক্তির জন্যই তারা এমন সব রীতি মানেন যা প্রত্যক্ষ করাও অত্যন্ত অপ্রীতিকর।

Monday, September 26, 2016

৪০০ কেজির ওজনের অ্যানাকোন্ডা

বিস্ফোরণের মাধ্যমে গুহাকে ফাটিয়ে বিল্ডিং তৈরির পরিকল্পনা ছিল। সেইমত গুহার ভিতর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওমা! এরপরেই সাঙ্ঘাতিক ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর ধুলো মাখা এক ৩৩ ফুটের লম্বা সাপ বেরিয়ে আসে গুহা থেকে। মানে 'কেঁচো খুড়তে কেউট''র মত 'বোম ফাটিয়ে অ্যানাকোন্ডা' বেরিয়ে আসা আর কী। ৪০০ কেজি অ্যানাকোন্ডাটা দেখে ভয় পেয়ে যান সবাই। বহুদিন ধরেই সাপটি ওই গুহায় ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।এক নির্মাণ কর্মী খবর দেন বন দফতরে। মোটা শিকল দিয়ে অ্যানাকোন্ডাটিকে বেঁধে ক্রেনের সাহায্যে তুলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় অন্য জায়গায়। ওই ক্রেনটা আনা হয়েছিল বিল্ডিং তৈরির কাজে। ধরা পড়া অ্যানাকোন্ডাটি ৩৩ ফুট লম্বা এবং তিন ফুট মোটা। সাপটিকে ধরতে সারাদিন লেগে যায় বলে জানান এক নির্মাণকর্মী।

সবচেয়ে বড় ফুল

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুল কি বলতে পারেন? পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুলের নাম রাফ্লেশিয়া আরনোল্ডি। এই ফুলটি ফুটেছে সুমাত্রায়। ব্যাংকুলুর দুটি ভিন্ন জায়গায় এই ফুল ফুটেছে। খবর দ্য জাকার্তা পোস্টের যারা বিরল এই ফুলটি দেখতে চান তারা ব্যাঙ্কুলুর তেঙ্গা জেলার তাবা পেনানযুং বনে যেতে হবে। অথবা আপনি যেতে পারেন ক্যাপাহিয়াং জেলার তিবাত মনোক বনে।মঙ্গলবার ফোটা এই ব্যতিক্রমী ফুল দেখতে চাইলে দর্শনার্থীদের বৃহস্পতিবারের মধ্যে যাওয়ার উপদেশ দিয়েছেন বন কর্মকর্তারা। কারণ দুই দিনের মধ্যে ফুলটি চুপসে যাবে।ফুলটি বনের গভীরে ফোটেনি দেখে ফোটার শুরুর দিন থেকে অনেক দর্শনার্থী ফুলটি দেখতে আসছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

৯০০ কেজি ওজনের কুমড়া

ওজনের দিক দিয়ে যেন সবকিছুকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। সম্প্রতি চীনের হুনান প্রদেশে উন্মুক্ত হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম কাঁচের সেতুর। আর এবার যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছে ৯০০ কেজি ওজনের কুমড়া!দেশটির ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি বছর বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় কুমড়া নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় একটি প্রদর্শনী। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত বড় বড় কুমড়া নিয়ে চাষীরা অংশ নেন। এবারের প্রদর্শীতে সবচেয়ে বড় কুমড়াটির ওজন ছিল ১৯৬৯ পাউন্ড বা প্রায় ৯০০ কেজি।