আজব পৃথিবী

Tuesday, January 24, 2017

সবচেয়ে নীরোগ মানুষ

সুখী জীবনের একটি উৎস অবশ্যই নীরোগ জীবন। সেই বিচারে উত্তর পাকিস্তানের গিলগিট-বালটিস্তানের অন্তর্গত হুনজা প্রদেশে বসবাসকারী মানুষদের সুখীতম বলে বিবেচনা করাই যায়। কারণ, তারা এমন একটি সম্প্রদায় যারা কখনো অসুস্থ হন না। আর তাদের কেউ কখনো ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও শোনা যায়নি।হুনজা নারীদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ আছেন যারা ৬৫ বছর বয়সেও সন্তানের মা হয়েছেন। প্রবল ঠাণ্ডার মধ্যেও তারা নিয়মিত ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করেন হুনজারা। তাতেও সচরাচর সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হতে দেখা যায় না তাদের।কিন্তু হুনজাদের এই নীরোগ জীবনের রহস্যটা কী? হুনজারা বলেন, উপত্যকায় নিজেরা যা চাষ করেন, কেবল সেই শাকসবজিই খান। জোয়ার, বাজরা, বাদাম নিজেরাই চাষ করে ঘরে তোলেন হুনজারা। এছাড়াও তাদের জীবনযাপনের প্রয়োজনে প্রতিদিন প্রচুর হাঁটতে হয়। সেটিও তাদেরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া হুনজাদের রীতি হলো, প্রতি বছর ফল চাষ শুরু করার আগে ২ থেকে ৪ মাস উপবাস পালন করা। সেই রীতিও তাদের শরীরের উপকার করে বলে মনে করেন ডাক্তররা।
কিন্তু একটি সম্প্রদায় কীভাবে সম্পূর্ণ ক্যানসার-মুক্ত হতে পারে? আসলে হুনজারা প্রচুর পরিমাণে অ্যাপ্রিকোট বা খোবানি নামের ফল খান। তাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় খোবানি থাকেই। এই খোবানিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে বি-১৭ ভিটামিন। এই ভিটামিন ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ সহায়ক বলে জানান ডাক্তাররা। শুধু‌ নীরোগ নয়, হুনজারা দীর্ঘ জীবনেরও অধিকারী। হুনজাদের মধ্যে কেউ কেউ দেড়শো বছরও জীবিত থেকেছেন বলে শোনা যায়। ১৯৮৪ সালে সৈয়দ আবদুল বুন্দু নামের এক হুনজা ভদ্রলোক লন্ডন এয়ারপোর্টে প্লেন থেকে নামেন। এয়ারপোর্টের কর্মচারীরা তার পাসপোর্ট দেখে হতবাক হয়ে যান। কারণ তার পাসপোর্টে জন্মসাল লেখা ছিল ১৮৩২।সত্যিই আবদুল বুন্দু ১৫২ বছর বয়সে লন্ডন পাড়ি দিয়েছিলেন কি না সে বিষয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু হুনজারাই যে পৃথিবীর সবচেয়ে নীরোগ স্বাস্থ্যের অধিকারী সেই নিয়ে সন্দেহ নেই। 

অদ্ভুত এক শিশুর জন্ম

এবার চার পা আর দুই পুরুষাঙ্গ-সহ অদ্ভুত এক শিশুর জন্ম হল। গেলো শনিবার ভোর ৪ টার সময় ভারতের কর্নাটকের বল্লারির স্থানীয় এক হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়। পরে ওই শিশুটিকে অস্ত্রোপচারের জন্য রায়চরের বিজয়নগর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে ভর্তি করানো হয়েছে। পরিস্থিতি খুব জটিল হওয়ায় কী ভাবে অস্ত্রোপচার করলে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড বসানো হয়েছে। তবে ওই শিশুটির পরিবার অস্ত্রোপচারের জন্য প্রথমদিকে রাজি ছিল না।শিশুটির মা তেইশ বছর বয়সি ললিতাম্মার বিশ্বাস বলেন, সে ঈশ্বরের আশীর্বাদ। অস্ত্রোপচার করা উচিত হবে না। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে বোঝান।দিভাকর গাড্ডি নামে এক চিকিৎসক জানান, শিশুটির চারটি পা আর দুইটি পুরুষাঙ্গ ছাড়া শরীরের বাকি অংশ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। সে কারণে, বিশেষ করে পুরুষাঙ্গে অস্ত্রোপচার করে আলাদা করাটা খুবই জটিল। 

Monday, January 23, 2017

মেলায় বিক্রি করা হয় কুমারী মেয়ে

বাবা-মা দাঁড়িয়ে থেকে মেলায় মেয়ের জন্য দর হাঁকেন। বিবাহযোগ্য পাত্র বা তাঁর পরিবার পাত্রীর জন্য দর হাঁকেন। সওদা মঞ্জুর হলে মধুরেণ সমপায়েৎ।এ এক অদ্ভুত মেলা।সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত মেয়ে থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মহিলারা এই মেলায় অংশ নেন স্রেফ জীবনসঙ্গীকে খুঁজে বের করতে। তবে শর্ত একটাই, বিবাহেচ্ছু মহিলাদের কুমারী হওয়াটা বাধ্যতামূলক। 
আসলে বুলগেরিয়ার স্তারা জাগোরা নামে এই অঞ্চলের রোমা জনগোষ্ঠীর মহিলারা এভাবেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। রোমা জনজাতি মূলত তামার বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করে থাকে। এটাই এদের রুজি-রুটি। বুলগেরিয়াতে এদেরকে অনেকে কালাইদঝি বলেও ডাকে।দারিদ্র্য আর অনটন এদের নিত্যসঙ্গী। ফলে, বিবাহের মতো ব্যয়বহুল আনুষ্ঠানের আড়ম্বর এদের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই, এই মেলাই রোমা জনজাতির কাছে জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পাওয়ার একমাত্র জায়গা। পাত্রীর সাজে মেলায় আসা মহিলাদের শুধু পছন্দ করলেই হবে না, পুরুষদের এর জন্য খসাতে হয় ট্যাঁকের কড়িও। কারণ, যে পুরুষের যে মহিলাকে জীবনসঙ্গিনী হিসাবে পছন্দ হবে, তার জন্য তাকে যথার্থ দাম দিতে হয়। কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত দর ওঠে মেলায় পাত্রী হিসাবে যোগ দেওয়া মহিলাদের।   
কোন পাত্রী কেমন দর পাবেন, তা নির্ভর করে তাঁর সৌন্দর্য থেকে শুরু করে সাজপোশাক, আচার ব্যবহারের উপরে। মেলার নিয়ম অনুসারে, মেয়েরা যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন অথবা মেলার জন্য প্রস্তুত মঞ্চেও নিজেদের পাত্রী হিসাবে তুলে ধরতে পারেন। মঞ্চে ওঠা মেয়েদের জন্য নিলামের মতো দরও হাঁকাহাঁকি হয়। আবার পুরুষরা মঞ্চে থাকা মহিলাদের সঙ্গে সেখানে নাচা-গানাতেও অংশ নিতে পারেন। এরপরই পছন্দের মহিলার জন্য দর হাঁকতে পারেন তিনি।    
এই মেলায় অংশ নিতে মেয়েদের সাজপোশাকও হতে হয় চটকদার। এখানে নাবালক দম্পতি দণ্ডণীয় অপরাধ হিসাবে গণ্য হয় না। ফলে, ১৩ বছরের মেয়ের সমবয়সি পুরুষসঙ্গী এখানে একেবারেই বিরল নয়। এমনও দেখা গিয়েছে, বাবা-মায়েরা ছেলে-মেয়েকে অল্প বয়সেই এই মেলার অংশগ্রহণের জন্য নিয়ে এসেছে। কারণ, বাবা-মায়েদের ধারণা, বেশি দেরি করলে হয়তো ছেলে-মেয়েকে সারা জীবন চিরকুমার বা চিরকুমারী হয়েই কাটাতে হবে। বছরে চার বার এই মেলা বসে। সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় বসন্তের মেলা। 

Monday, January 16, 2017

এক গ্রামে ৬০ রানি

ভারতের একটি রাজ্য নাগাল্যান্ডের লৌঙ্গা অঞ্চলের রাজার নাম অঙ্গ নগোবাঙ্গ। সবমিলিয়ে ৭৫টি গ্রাম নিয়ে তার রাজত্ব। সেই রাজার রানির সংখ্যা কিন্তু ৬০ জন। শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনা সত্য। পাহাড়ে ঢাকা এই অঞ্চলে সাজানো পরিপাটি কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। এখানে বাস করে কোন্যাক উপজাতি। তাদের রাজপরিবারটি খুব ছোট নয়। রাজপরিবারে রানির সংখ্যাই তো ৬০ জন। এখানকার এক রাজপুত্র রয়েছেন আবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে। তবে এ অঞ্চলের জনসংখ্যা খুব বেশি নয়। এর অর্ধেক ভারতের, অর্ধেক মিয়ানমারের অংশ।
এ অঞ্চলের বাসিন্দাদেরও রয়েছে বাড়তি সুবিধা। তারা ভারতের বাসিন্দা হলেও অনায়াসেই যেতে পারেন মিয়ানমারে। প্রকাশ্যেই সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেন। এ জন্য কোনো ভিসার প্রয়োজন হয় না। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, দু’দেশের সীমান্ত ছুঁয়ে গেছে এ অঞ্চলের রাজপ্রাসাদ। তাই রাজপরিবারের সদস্যদের খেতে যেতে হয় মায়ানমারে। আর রাতে শুতে হয় ভারতে। তবে রাজপরিবারই শুধু নয়, পুরো লৌঙ্গা অঞ্চলের সবাই পেয়েছেন দ্বৈত নাগরিকত্ব। তাই দু’দেশেই তাদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে। 

Sunday, January 15, 2017

গাড়ির বদলে এরোপ্লেন

বাড়ির পাশে গ্যারেজ, আর সেই গ্যারেজে সুন্দর একখানা গাড়ি। এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত আমরা। কেউ কেউ বিভিন্ন মডেলের একাধিক গাড়িও রাখেন। কিন্তু, দৃশ্যটা যদি এমন হয় যে, প্রতি বাড়িতে গাড়ি নয়, আছে একটি করে এরোপ্লেন, তাহলে কেমন হবে? গল্প নয়, পৃথিবীর বুকে এমন শহরও রয়েছে, যেখানে বাড়িতে বাড়িতে গ্যারেজ নয়, রয়েছে হ্যাঙ্গার, আর সেখানে শোভা পাচ্ছে ব্যক্তিগত প্লেন। আমেরিকার ফ্লোরিডার স্প্রুস ক্রিক শহরের অধিকাংশ বাড়িতে রয়েছে অন্তত একটি করে এরোপ্লেন। ৫০০০ জনের মতো বাসিন্দা থাকেন এই শহরে, রয়েছে ১৩০০-র মতো বাড়ি, আর ৭০০টির মতো এরোপ্লেন। শহরে রয়েছে ৪০০০ ফুট লম্বা এবং ৫০০ ফুট চওড়া একটি রানওয়ে, যেখানে দৌঁড় দিয়ে আকাশে উড়ে যেতে পারে বাসিন্দাদের এরোপ্লেনগুলি। সেই সঙ্গেই এখানে রয়েছে বেশ কিছু এয়ারক্লাব, এরোপ্লেন ভাড়া দেওয়ার সংস্থা, ফ্লাইট ট্রেনিং শেখানোর বন্দোবস্ত, এবং ২৪ ঘণ্টার কড়া সিকিউরিটি ব্যবস্থা। অনেক নামীদামি লোকই বিভিন্ন সময়ে বাস করেছেন স্প্রুস ক্রিকে। তাদের মধ্যে আছেন হলিউড অভিনেতা জন ট্র্যাভোল্টা। কিন্তু তার বোয়িং ৭০৭-এর ইঞ্জিনের গর্জন এতটাই বেশি ছিল যে, প্রতিবেশীদের অভিযোগের ধাক্কায় তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়।স্প্রুস ক্রিকের বাড়িতে বাড়িতে দেখা মেলে বিচিত্র সব এরোপ্লেনের। বোয়িং তো রয়েছেই, পাশাপাশি কেসনাস, পাইপার্স, পি-৫১ মাস্টাং, ফরাসি ফগ ম্যাজিস্টার কিংবা রাশিয়ান মিগ-১৫ এর মতো প্লেনেরও দেখা মিলবে বাড়িগুলির লাগোয়া হ্যাঙ্গারগুলিতে। কিন্তু কীভাবে একটি এলাকার প্রায় প্রত্যেক বাসিন্দা এরোপ্লেনের মালিক হতে পারেন? তাহলে কী এটাই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী শহর? আসলে, যারা ব্যক্তিগত প্লেনে যাতায়াত করার মতো বিত্তের অধিকারী, তারাই নানা সুযোগ সুবিধার কথা বিবেচনা করে থাকতে আসেন স্প্রুস ক্রিকে। তাদের অধিকাংশই পেশাদার পাইলট। এ ছাড়াও রয়েছেন ডাক্তার, আইনজীবী, কিংবা জমি কেনাবেচার ব্যবসায়ী। প্রত্যেক রবিবার এখানকার বাসিন্দারা স্থানীয় রানওয়েটির কাছে নিজের নিজের প্লেন নিয়ে সমবেত হন। তার পর ছোট ছোট দলে উড়ে যান নিকটবর্তী এয়ারপোর্টটিতে প্রাতঃরাশ সারতে। এই জনপ্রিয় ঐতিহ্যটি এখানকার বাসিন্দাদের কাছে ‘স্যাটারডে মর্নিং গ্যাগেল’ নামে পরিচিত। 

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ

ইন্দোনেশিয়ার মবাহ গোথো এখন সংবাদের শিরোনাম। কেননা, সম্প্রতি তিনি নিজের ১৬৪তম জন্মদিনপালন করলেন। মিডিয়া শুধু খবরটিই দেয়নি, এর সাপেক্ষে পেশ করেছে উপযুক্ত প্রমাণও।প্রমাণানুযায়ী, ১৮৭০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার জন্ম। ইন্দোনেশিয়ার রেকর্ডও তাই বলছে। কিন্তু আশ্চর্য এ বিষয়ে গিনেসবুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে কোনও তথ্য নেই।সব দাবি সত্য হলে মবাহই হবেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী জীবিত ব্যক্তি। বর্তমানে খেতাবটি রয়েছে ফরাসি জ্যাঁনেক্যালমেন্টের। মৃত্যুকালে সেই ব্যক্তির বয়স হয়েছিল ১২২ বছর। তবে মবাহ এখনও জীবিত। তিনি গত ৩১ ডিসেম্বর জন্মদিন পালনও করলেন সমারোহ করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। এক ফুঁতেই নিভিয়ে দেন সব মোমবাতি। তার দম দেখে উপস্থিত সকলেই যারপনারই বিস্মিত। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন তার নাতিপুতি, তাদের সন্তানরাও।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে দীর্ঘ আয়ু রহস্য কী? তার উত্তর- খাদ্যাভ্যাস। সেই কবে, ১৯৯২ সাল থেকেই তিনি নাকি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। এমনকী সে-সময় তৈরি হয়েছিল তাঁর সমাধিফলকও। তারপরও বছর কেটে গেছে আও ২৪ বছর।এখনও তিনি বহাল তবিয়তে জীবিত। চোখে ভালো দেখেন না বলে মবাহ টেলিভিশন দেখেন না, তবে রেডিও শুনেই তার সময় কাটে। 

অন্য রকম এক সৌদি রাজকুমারী

সৌদি আরবে নারীদের জীবন কাটাতে হয় নিয়মের নানা বেড়াজালের মধ্যে। এই দেশটিতেই সব প্রথা ভেঙে ভিন্ন রকম জীবন কাটান রাজকুমারী আমিরাহ আল তাউইল।রাজকুমারী আমিরাহর জন্ম ১৯৮৩ সালের ৬ নভেম্বর, সৌদি আরবের রিয়াদে। বেড়ে উঠেছেন সেখানেই। তবে তিনি শুধু ছবির সুন্দর রাজকুমারী হয়েই বেঁচে থাকতে চাননি। আত্মনিয়োগ করেছেন নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন অর্জনে। ইতিমধ্যে জনসেবামূলক কাজ করে নজর কেড়েছেন তিনি। যে দেশে নারীদের কঠোরভাবে পর্দা করতে হয়, সেখানে তিনি পশ্চিমা পোশাকে ঘুরে বেড়ান। তৈরি করেছেন নিজস্ব স্টাইল।রূপকথার রাজকুমারীর জীবনে যেমন রাজকুমার এসে জীবন বদলে দেয়; আমিরাহর জীবনেও তেমনটাই হয়েছে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি প্রেমে পড়েন প্রিন্স আলওয়ালেদ বিন তালালের। তাঁদের বয়সের ব্যবধান ছিল ৩২ বছর। আর আলওয়ালেদ তত দিনে দুবার বিয়ে করে ফেলেছেন। কিন্তু কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ২০০১ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। 
বিয়ের পর আমিরাহ শুধু প্রিন্স আলওয়ালেদের স্ত্রী হিসেবে থাকতে চাননি। তিনি আলওয়ালেদ বিন তালাল ফাউন্ডেশনসের ভাইস চেয়ারপারসন হন। আর তখন থেকেই তিনি পাদ-প্রদীপের আলোতে আসতে শুরু করেন। দাবি তোলেন নারীদের অধিকারের। পাশে দাঁড়িয়েছেন দরিদ্র, নারী ও শিশুদের। তিনি এখন পরিচিত মানবতাবাদী, উদ্যোক্তা, ফ্যাশন আইকন, সুবক্তা ও টাইম এন্টারটেইনমেন্ট হোল্ডিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে। তাঁর প্রতিষ্ঠান তরুণকেন্দ্রিক গণমাধ্যম ও প্রযুক্তিশিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে, যা সৌদি সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া তিনি তাসামি সোশ্যাল ইনিশিয়েটিভস সেন্টারের সভানেত্রী ও অন্যতম উদ্যোক্তা। প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরবজুড়ে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকে। 
আল আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজকুমারী আমিরাহ সৌদি নারীর স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সৌদি নারীরা বাস্তব জগতে নিজের মনের কথাগুলো বলার সুযোগ পায় না। সেই কথাগুলো বলার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নারীরা সমান সুযোগ পায় নিজেকে প্রকাশ করার। তবে এখানেও নারীকে নানা বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়, বিশেষ করে বিতর্কিত ব্যক্তিরা যখন নারীর বিরুদ্ধে ক্রমাগত আপত্তিকর কথা বলে যান। কিন্তু এরপরও কোনো দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য নারীদের ভালো প্ল্যাটফর্ম এটি।
তবে নিজের জীবনে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়ে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে হয় আমিরাহকে। স্বামী পাশে থাকলেও তাঁর চলাফেরা-কর্মকাণ্ড নিয়ে আপত্তি তুলেছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাঁর দেবর প্রকাশ্যে স্বামীকে হুমকি দিয়েছিলেন, স্ত্রীকে (আমিরাহ) সামলাতে না পারলে কঠিন ঝামেলায় পড়তে হবে। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান, ২০১৩ সালে। তবে সাবেক স্বামীর সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে বলে দাবি তাঁর।