আজব পৃথিবী

Thursday, April 3, 2014

পৃথিবীর যে ৬টি স্থান না দেখলেই নয়!

পুরো পৃথিবীটাতে ঘুরে বেড়ানোর শখ কার নেই বলুন? কিন্তু সুন্দর এই পৃথিবীটা এতো বড় যে পুরোটা ঘুরে দেখার মত সময় কিংবা সাধ্য অনেকেরই হয়না। কিন্তু এই পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান আছে যেগুলো মৃত্যুর আগে অন্তত একবার হলেও ঘুরে দেখা উচিত। রূপকথাকেও যেন হার মানিয়ে দেয় স্বর্গীয় সুন্দর এই স্থান গুলো। জেনে নিন এরকম অদ্ভুত সুন্দর ও বিস্ময়কর ৬টি স্থান সম্পর্কে এবং দেখে নিন সেগুলোর ছবি।

চীনের রিড ফ্লুট গুহা
ফিচারের কভারে যেই রঙবেরঙের আলোকিত স্থানটি দেখতে পাচ্ছেন সেটি চীনের রিড ফ্লুট গুহা। ২৪০ মিটার দীর্ঘ এই গুহা প্রায় ১২০০ বছর ধরে চীনের অন্যতম আকর্ষনীয় স্থান। পানির প্রতিফলন ও আলো আধারিতে সৃষ্টি হওয়া নানান রঙের প্রাকৃতিক আলোতে স্বর্গের কোনো স্থান মনে হয় গুহাটিকে।

বলিভিয়ার সালার ডি ইউনি
বৃষ্টির মৌসুমে পৃথিবীর সবচাইতে বড় সল্ট ফ্ল্যাট পরিণত হয় পৃথিবীর সবচাইতে বড় আয়নায়। প্রাচীন অনেক গুলো লেকের সমন্বয়ে তৈরী হয়েছে সালার সালার ডি ইউনি। বৃষ্টির সময় পুরো আকাশের প্রতিবিম্ব দেখা যায় বলে এটাকে বিশাল একটি আয়না বলে মনে হয়।

মালদ্বীপের তারার সমুদ্র
ভেবে দেখুনতো, একটি সমুদ্রের সামনে বসে আছেন আপনি। আপনার সামনে সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে বার বার। আর সমুদ্রের পানিতে ভাসছে অসংখ্য তারা! ঠিক এমনই একটি সমুদ্র আছে মালদ্বীপে। তবে সমুদ্রের পানিতে যেগুলোকে জ্বলজ্বল করতে দেখছেন সেগুলো তারা নয়। সন্ধ্যায় অন্ধকার হয়ে গেলেই হলেই অসংখ্য ফাইটোপ্লাঙ্কটন জ্বলজ্বল করে এই সমুদ্রের পানিতে।

আমেরিকার অ্যারিজোনার আন্টেলপ গিরিখাত
আমেরিকার অ্যারিজোনার আন্টেলপ গিরিখাতটি বহুবছর আগে পানির প্রবাহের ফলে সৃষ্টি হয়। বেশ চাপা এই গিরিখাতটিতে তেমন আলো প্রবেশ করতে না পারলেও সৃষ্টি হয় নানান রঙের। প্রাকৃতিক এই রঙের খেলার কারণে এই স্থানটি পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় একটি স্থান হিসেবে পরিচিত।

ফিনল্যান্ডের মেরুঅঞ্চলের প্রহরী
ভাবছেন বরফের মধ্যে এগুলো কি তাই না? এগুলো ফিনল্যান্ডের মেরুঅঞ্চলের প্রহরী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বাস্তবে এগুলো হলো বরফে ঢেকে যাওয়া উঁচু উঁচু গাছ। তাপমাত্রা -৪০ থেকে -১৫ এর মধ্যে থাকলে এই অঞ্চলের গাছ গুলো দেখতে এরকম হয়ে যায়।

নিউজিল্যান্ডের ওয়েটোমোর জোনাকির গুহা
নিউজিল্যান্ডের ওয়েটোমোরে আছে একটি অসাধারণ গুহা। এই গুহার বৈশিষ্ট্য হলো গুহাটির ছাদে ও দেয়ালের গায়ে লেগে থাকে লক্ষ লক্ষ জোনাকি পোকা। জোনাকি পোকার আলোতেই আলোকিত হয়ে থাকে গুহাটি। দেখে মনে হয় গুহার দেয়ালে ও ছাদে মিট মিট করে জ্বলছে অসংখ্য তারা। সত্যিই অসাধারণ সুন্দর একটি স্থান তাই না?




যে নায়িকারা একই পুরুষের প্রেমের কারণে "চিরশত্রু"

রূপালী জগত এমন একটি জায়গা যেখানে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা অনেকটা সমুদ্র পাড়ে বালি দিয়ে ঘর তৈরির মতই। আজ যাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক কাল তা নাও থাকতে পারে। আজ বন্ধু তো কাল ঘোর শত্রু। প্রতিযোগিতা, প্রেম, জনপ্রিয়তা এসবই নষ্ট করে দেয় এক তারকার সাথে আরেক তারকার সম্পর্ক। এখানে এমনই কিছু বলিউড তারকার তালিকা করা হল যারা কখনই বন্ধুতে পরিণত হতে পারবেন না। তবে হ্যাঁ, নেপথ্যের কাহিনী অবশ্যই প্রেম।


এই দুই তারকার মধ্যে বন্ধুত্ব কখনোই সম্ভব নয়। এদের শত্রুতা কর্ম জীবন থেকে পৌঁছে গেছে ব্যক্তিগত পর্যায়েও। আর হবেই বা না কেন, দীপিকার সাবেক প্রেমিক রণবীর কাপুর অনেকটা অজান্তেই ক্যাটরিনার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। এতো গেল ব্যক্তিগত তিক্ততার কথা, এবার আসা যাক কর্মজীবনে। বর্তমানে জনপ্রিয় যে কজন নায়িকার আছেন তাদের মধ্যে দীপিকা-ক্যাটরিনা অন্যতম। এবং এই দুজনই নায়িকাদের তালিকায় নাম্বার ওয়ান হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন। কাজেই এই দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্কের কোনো কারনই দেখতে পাচ্ছি না।


একসাথে কাজ করতে করতে অমিতাভ প্রেমে পড়ে যান সহ অভিনেত্রী রেখার। এখানেই ঘটে বিপত্তি, এত দিনের "দিদিভাই" হয়ে গেলেন চরম শত্রু। কথা হচ্ছে জয়া বচ্চন এবং রেখার। প্রথম দিকে রেখার সাথে বেশ ভালোই সম্পর্ক ছিল জয়ার। কিন্তু স্বামীর সাথে রেখার এই পরকীয়া সহ্য করতে পারেননি জয়া, অতঃপর নিজেকে দূরে নিয়ে আসেন এই অভিনেত্রী। ক্যামেরার সামনে সৌজন্যমুলক আচরণ করলেও ভেতরে ভেতরে ঠিক তিক্ততা রয়েছে এই দুই তারকার।


বন্ধুত্বতা শুরু হওয়ার আগেই ভেঙে যায় এই দুই তারকার। এবং এর পেছনেও কাজ করেছে প্রেম। বলিউডে এমন ধারণা করা হয় রাভিনা এবং শিল্পা শেঠীর মাঝে যদি অক্ষয় কুমার না আসতেন, তবে এই দু তারকার বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হতে পারত। তখনকার সময়ে হার্ট থ্রব অক্ষয় ছিলেন পাক্কা খিলাড়ী। সব নায়িকাকেই নিজের প্রেমের জালে আবদ্ধ করেছেন এই হিরো। রাভিনা টেন্ডনের সাথে প্রেমের সম্পর্কে বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ ছিলেন শিল্পা শেঠী। আর তাই ধারণা করা হয় এই দুই তারকার মধ্যেো কখনো বন্ধুত্ব সম্ভব নয়।


পেশাগত দ্বন্দ্ব তারকাদের মধ্যকার বন্ধুত্বকে খুব সহজেই নষ্ট করে দেয় যার প্রমাণ হল পরিণীতি চোপড়া- শ্রদ্ধা কাপুর। বেশ ভালই সম্পর্ক গড়ে ওঠে এই দুই তারকার। তবে ধারণা করা হচ্ছে সমসাময়িক তারকা হওয়ার কারণে এদের মধ্যকার বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার পথে। এবং তাই সত্য হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, একে অপরের শত্রুতে পরিণত হয়েছেন এই দুই তারকা। তবে সংবাদ মাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী তাদের গণ্ডগোলের মূলেও আছেন এক নায়ক। সেই তারকার পরিচয় এখনো জানা না গেলেও অচিরেই জানা যাবে মনে হচ্ছে!

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং কারিনা কাপুর। একই সময়ে বলিউডে পদার্পণ, দুজনই টপ হিরোইন এবং দুজনই শহীদ কাপুরের সাবেক প্রেমিকা। এত কিছু যখন একই রকম তখন বন্ধুত্ব না হয়ে কি পারে? হ্যাঁ সেটি হয়েছে। এদের সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পেছনে যেমনই কাজ করেছে পেশাগত দ্বন্দ্ব ঠিক তেমনই ব্যক্তিগত জটিলতা।

ঐশ্বরিয়া ও কারিশমাকে এই তালিকায় দেখে অবাক হচ্ছেন? তাহলে জেনে রাখুন, ঐশ্বরিয়ার বর্তমান স্বামী অভিষেক বচ্চন একসময়ে ছিলেন কারিশমার প্রেমিক। এমনকি দুজনের বাগদানও হয়ে গিয়েছিল। নানান পারিবারিক কারণে দুজনের বিয়ে ভেঙে যায় ও কারিশমা বিয়ে করেন এক ব্যবসায়ীকে। অভিষেক অনেক পড়ে ঐশ্বরিয়ার সাথে প্রেম করেন ও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে স্বভাবতই কারিশমা এখনো ভুলতে পারেননি সাবেক প্রেমিককে। এবং অভিষেকের বউকে যথেষ্ট ঈর্ষার চোখে দেখেন তিনি। বিশেষ করে মা হবার পর ঐশ্বরিয়ার ওজন বৃদ্ধি নিয়ে কারিশমার তির্যক মন্তব্যেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়!






সবচেয়ে বড় লবণ মরুভূমি

বলিভিয়ার সালার ডি উয়ুনির ল্যান্ডস্কেপ বিশ্বের সবচেয়ে হতবিহবলকর জায়গা। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় লবণ মরুভূমি, আর সেই সঙ্গে আছে অনেকগুলো সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, উষ্ণ প্রস্রবণ এবং ক্যকটাস দ্বীপ - সবমিলিয়ে জায়গাটাকে ভিনগ্রহের মনে হতে বাধ্য।

তুলতুলে খরগোশ

তুলতুলে এই খরগোশ প্রজাতির নাম আঙ্গোরা (Angora Rabbit), এই প্রজাতির খরগোশ খুবই তুলতুলে হয়, কেননা এদের সারা দেহ ভরা থাকে ঘন লোমে, আর এই কারনে গৃহপালিত খরগোশগুলির মধ্যে এরাই সব থেকে জনপ্রিয়। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় গৃহপালিত প্রানী হিসেবে এরা বেশ পুরানো। এই খরগোশের আদিবাস তূর্কির আনকারা (আদি নাম আঙ্গোরা) অঞ্চলে। ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এই খরগোশ গুলি শুধু মাত্র ফ্রান্স রাজবংশ লালন পালন করত। পরবর্তীতে ১৮ শতকের শেষের দিকে এই খরগোশ পোষা প্রাণী হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যেতে থাকে। আর ২০ শতকের প্রথম দিকে তা চলে আসে আমেরিকাতেও। এভাবেই সারা বিশ্বে এক সময় পরিচিত হয়ে ওঠে এই খরগোশ।


বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্য

১৯৪৫,ফ্লাইট নাইনটিন (ইউ এস নেভী-র পাঁচটি ‘বি এম অ্যাভেন্জার’স বিমানের একটি দল) যা একটি প্রশিক্ষণ মিশনে যাওয়ার জন্য উড্ডয়নের চার ঘন্টা পর রহস্যজসকভাবে নিখোঁজ হয়। এর বিশ মিনিট অপর একটি উদ্ধারকারী বিমানও ঠিক একই জায়গা থেকে নিখোঁজ হয়। ব্যাপক খোঁজের পরও এসব বিমানের কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি। গত ৬০ বছর ধরে এই রহস্য আরো ডাল-পালা মেলেছে যে,কি এমন শক্তি যা এমন কান্ড ঘটালো? মূলত এই বিষয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে ফ্লাইট নাইনটিন এর এই রহস্যজনক নিখোঁজের পর থেকেই। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল বা শয়তানের ত্রিভুজের রহস্য এমনই। এখানে কোনো বিমান কিংবা জাহাজ হারিয়ে গেলে তার ধ্বংসাবশেষের কোনো চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি এখানে কোনো মৃতদেহও ভাসতে দেখা যায় না। কোনো কিছুরই নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায় না। এই ত্রিভুজ অঞ্চলে এমন অদ্ভুতভাবে হারিয়ে গেছে মানুষ,জাহাজ কিংবা উড়োজাহাজ। এরকম অসংখ্য অন্তর্ধানের গল্প বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে পৃথিবীর সেরা রহস্যাবৃত অঞ্চলে পরিণত করেছে। অনেকে মনে করেন এসব অন্তর্ধানের কারণ নিছক দুর্ঘটনা যার কারণ হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা চালকের অসাবধানতা। আবার চলতি উপকথা অনুসারে এসবের পেছনে দায়ী অতি-প্রাকৃতিক কোনো শক্তি বা ভিনগ্রহের প্রাণীর উপস্থিতি। জায়গাটির রহস্যময়তা নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে বানানো হয়েছে অসংখ্য ডকুমেন্টারিও। পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা শোনা যায়।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্যের বীজ সর্বপ্রথম পুঁতেছেন স্বয়ং কলম্বাস। তিনিই সর্বপ্রথম এই অঞ্চল ভ্রমনের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন তার ডায়েরীতে। কলম্বাস লিখেছিলেন যে তাঁর জাহাজের নবিকেরা এ অঞ্চলের দিগন্তে আলোর নাচানাচি, আকাশে ধোঁয়া দেখেছেন। এছাড়া তিনি এখানে কম্পাসের উল্টাপাল্টা দিক নির্দেশনার কথাও বর্ণনা করেছেন।ফ্লাইট নাইনটিন রহস্যের পর এই অঞ্চলে ঘটা রহস্যজনক ঘটনার তালিকা দিনকে দিন সমৃদ্ধ হয়েছে। অন্তত ১০০০ এর বেশি প্লেন ও জাহাজ এই অঞ্চলে এসে নি:শেষ হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশেরই কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি। আর ঠিক কত সংখ্যক মানুষের জীবন এখানে এসে থমে গেছে, তার সঠিক কোনো হিসেবই নেই।

এলেন অস্টিন জাহাজটির কথাই ধরা যাক। এ জাহাজের নাবিকরা যেভাবে হারিয়ে গিয়েছিলেন তার হদিস আজো কেউ করতে পারেনি। ফিরে পাওয়া যায়নি তাদের। মধ্য আটলান্টিকে পাড়ি দেওয়ার সময় এলেন অস্টিন জাহাজের নাবিকরা একটু দূরে একটি খালি জাহাজ ভাসতে দেখে ভীষণ অবাক হন। ঠিক করলেন নিজের জাহাজের নাবিকদের পাঠিয়ে একটু দেখে আসা যাক। পাঠালেনও সেই মতো। নাবিকরা জাহাজের কাছাকাছি পৌঁছতেই ঘনকুয়াশা চারদিক ঢেকে গেল। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর আস্তে আস্তে কুয়াশা কেটে গেল। খালি জাহাজটি দেখা গেল। কিন্তু নাবিকরা গেল? কোথায়,তারা তো ফিরছে না! ঘটনার রহস্য সমাধান করতে আরও একটি দলকে পাঠানো হলো। ওই দলটিও জাহাজে পৌঁছামাত্র শুরু হলো প্রচণ্ড ঝড়। এবারও কিছুই দেখা গেল না। ঝড় থামার পর দেখা গেল সব ভ্যানিশ! নাবিকদেরকে আর দেখা গেল না। এমনকি জাহাজটিও কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে! চারদিকে তোলপাড় পড়ে গেল। চলল অনেক খোঁজাখুঁজি। কিন্তু কোথাও এর কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া গেল না।মি. রিচার্ড, এই বিষয়ে যিনি অনেকগুলো বেষ্ট সেলিং বইয়ের লেখক,তিনি বলেন,আমরা পৃথিবী এবং তার চারপাশের জগৎ সম্পর্কে জানি। কিস্তু সমুদ্র সম্পর্কে জানি সামান্যই। সমুদ্রে এমন অনেক রহস্য আছে বাস্তবে মানুষ যেটা কল্পনাও করতে পারবেনা।

১৯১৮ সালে ইউ এস এস সাইক্লপস ৩০৯ জন ক্রুর সবাই সহ ডুবে যায় এই অঞলে। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে ঘটা হেভিওয়েট ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি একটি। মারভিল ব্যারিশ,এই ঘটনার সাথে যার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আছে, তিনি বলেন, জাহাজটি থেকে কোনো ধরনের সাইরেনের আওয়াজ শোনা যায়নি। এমনকি কোনো রেডিও সিগন্যালও আসেনি। এই শিপটিও আজ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ইউ এস নেভি তখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযান পরিচালনা করেছে শিপটি উদ্ধারে। কিন্তু কোনো মানুষ বা জাহাজের নুন্যতম চিহ্নও তারা উদ্ধার করতে পারেনি।বিজ্ঞানের উৎকর্ষের এই যুগে এখনো পৃথিবীতে যেসব জায়গা নিয়ে রহস্য কাটেনি তার মধ্যে সম্ভবত বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্য অন্যতম। ব্রিজওয়াটার ট্রায়াঙ্গেল,বেনিংটন ট্রায়াঙ্গেল রহস্য,সান লুইস ভ্যালি,মিশগান ট্রায়াঙ্গেল রহস্য,পয়েন্ট প্লিজেন্ট,বিগলো রান্চ,ডেভিলস সি,লেক আনজিকুনি,সুপারস্টিশান মাউন্টেইন,এই রকম অনেক রহস্য থাকলেও বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্য পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

এটা কি??
ক্যারিবীয় সাগরের এক কল্পিত ত্রিভুজ এলাকা হলো শয়তানের ত্রিভুজ। আটলান্টিক মহাসাগরের তিন প্রান্ত দিয়ে সীমাবদ্ধ ত্রিভুজাকৃতির একটি বিশেষ এলাকা যেখানে বেশ কিছু জাহাজ ও উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হয়। এর মূল নাম বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। তবে এর কুখ্যাতির জন্য একে শয়তানের ত্রিভুজ বলা হয়। বারমুডা ট্রায়াঙ্গল যে তিনটি প্রান্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ তার এক প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আরেক প্রান্তে পুয়ের্তো রিকো এবং অপর প্রান্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বারমুডা দ্বীপ অবস্থিত। ত্রিভুজাকার এ অঞ্চলটির মোট আয়তন ১১৪ লাখ বর্গ কিলোমিটার বা ৪৪ লাখ বর্গ মাইল। এটি ২৫-৪০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৫৫-৫৮ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। অবশ্য এই বিন্দু নির্ধারণ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

বেশিরভাগ লেখক-গবেষকই এই নির্দিষ্ট অঞ্চলকে চিহ্নিত করেছেন সীমানা বরাবর মিয়ামি সানজুয়ান পুয়ের্তো রিকো মধ্য আটলান্টিক আর বারমুডা নিয়ে তৈরি একটি ত্রিভুজ বা বলা ভালো একটি ট্রাপিজিয়াম আকৃতির চতুর্ভুজ। তবে বেশিরভাগ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো ঘটেছে দক্ষিণ সীমানায় বাহামা দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে এবং ফ্লোরিডা উপকূলের আশপাশে। কত জাহাজ ও বিমান হারিয়ে গেছে এ এলাকায় যেগুলোর বেশিরভাগেরই কোনো রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি আজও।

বিভিন্ন লেখকের বর্ণনায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের বিস্তৃতিতে ভিন্নতা রয়েছে। এই ত্রিভুজের ওপর দিয়ে মেক্সিকো উপসাগর থেকে উষ্ণ সমুদ্র স্রোত বয়ে গেছে। এখানকার আবহাওয়া এমন যে হঠাৎ ঝড় ওঠে আবার থেমে যায় গ্রীষ্মে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। বলা হয়ে থাকে, এই অঞ্চলে ঝড়ের শক্তি একশ টি পারমানবিক বোমার চেয়েও বেশি শাক্তশালী। এমন ঝড়ের মধ্যে কারোই টিকে থাকা সম্ভব নয়। এ অঞ্চল বিশ্বের ভারী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকারী পথগুলোর অন্যতম। জাহাজগুলো আমেরিকা ইউরোপ ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে যাতায়াত করে। এছাড়া এটি হলো প্রমোদতরীর বিচরণক্ষেত্র। এ অঞ্চলের আকাশপথে বিভিন্ন রুটে বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত বিমান চলাচল করে। ত্রিভুজের বিস্তৃতির বর্ণনায় বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন মত দিয়েছেন। কেউ মনে করেন এর আকার ট্রাপিজয়েডের মতো যা ছড়িয়ে আছে স্ট্রেইটস অব ফ্লোরিডা বাহামা এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ এবং ইশোর পূর্ব দিকের আটলান্টিক অঞ্চলজুড়ে। আবার কেউ কেউ এগুলোর সঙ্গে মেক্সিকো উপসাগরকেও যুক্ত করেন। তবে লিখিত বর্ণনায় যে সাধারণ অঞ্চলের ছবি ফুটে ওঠে তাতে রয়েছে ফ্লোরিডার আটলান্টিক উপকূল সান জুয়ান,পুয়ের্তো রিকো মধ্য আটলান্টিকে বারমুডার দ্বীপপুঞ্জ এবং বাহামা ও ফ্লোরিডা স্টেইটসের দক্ষিণ সীমানা। আর এখানেই ঘটেছে অধিকাংশ দুর্ঘটনা। এ অঞ্চলের রহস্যময়তার একটি দিক হলো কোনো জাহাজ এ ত্রিভুজ এলাকায় প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেতার তরঙ্গ প্রেরণে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং এর ফলে জাহাজটি উপকূলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হয়। একসময় তা দিক নির্ণয় করতে না পেরে রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়।

কিন্তু কেন এ রহস্য??
যদি আপনি এটাকে রহস্য হিসেবেই মানেন তাহলে তো আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন এ রহস্য ভেদ করতে। এত এত রহস্যের ঘিরে আটকে পড়া আপনাকে এবার কিছুটা উদ্ধার করার দায়িত্ব আমার। এই রহস্যের সঠিক কোনো কুল কিনারা আজ পর্যন্ত কেউই করতে না পারলেও বিজ্ঞানীদের তৎপরতাও থেমে নেই। লরেন্স ডেভিড কুসচ হলেন অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির রিসার্চ লাইব্রেরিয়ান এবং ‘দ্য বারমুডা ট্রায়াঙ্গল মিস্ট্রি:সলভড’এর লেখক। কুসচ-এর গবেষণায় যা পাওয়া যায় তা হলো,এ অঞ্চলে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় নিয়মিত আঘাত হানে যা জাহাজ ও উড়োজাহাজ নিখোঁজ হওয়ার অন্যতম কারণ। তাঁর গবেষণায় উঠে আসা অন্যান্য কারনগুলোর মধ্যে আরো আছে,

মিথেন হাইড্রেড:
এই অঞ্চলে এই সব অঘটনের অন্যতম একটি কারন হচ্ছে মিথেন হাইড্রেড। বিশ্বের যেসব স্থানে সবচেয়ে বেশী গ্যাস হাইড্রেটযুক্ত পলি পাওয়া গেছে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এলাকা তার মধ্যে অন্যতম । কন্টিনেন্টাল সেলভে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ মিথেন হাইড্রেট অনেক জাহাজ ডোবার কারণ বলে ধারনা করা হয়।

কম্পাসের ভুল নির্দেশনা:
কম্পাসের পাঠ নিয়ে বিভ্রান্তি অনেকাংশে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের কাহিনীর সঙ্গে জড়িত। এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে কম্পাস থেকে চুম্বক মেরুর দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে এর দিক-নির্দেশনায় বিচ্যুতি আসে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যুক্তরাষ্ট্রে শুধু উইসকনসিন থেকে মেক্সিকো উপসাগর পর্যন্ত সরলরেখা বরাবর চৌম্বক উত্তর মেরু সঠিকভাবে ভৌগোলিক উত্তর মেরু নির্দেশ করে। ওই ত্রিভুজ এলাকাজুড়ে কম্পাসের এমন বিচ্যুতি সাধারণের কাছে রহস্যময় মনে হয়। কিন্তু এটি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।

হ্যারিকেন:
হ্যারিকেন হলো শক্তিশালী ঝড়। ঐতিহাসিকভাবেই জানা যায় আটলান্টিক মহাসাগরে বিষুব রেখার কাছাকাছি অঞ্চলে শক্তিশালী হ্যারিকেনের কারণে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে আর ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার। রেকর্ড অনুসারে ১৫০২ সালে স্প্যানিশ নৌবহর ‘ ফ্রান্সিসকো দ্য বোবাডিলা ‘ এমনি একটি বিধ্বংসী হ্যারিকেন ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।

গলফ স্ট্রিম:
গলফ স্ট্রিম হলো মেক্সিকো উপসাগর থেকে স্ট্রেইটস অব ফ্লোরিডা হয়ে উত্তর আটলান্টিকের দিকে প্রবাহিত উষ্ণ সমুদ্র স্রোত। একে বলা যায় মহাসমুদ্রের মাঝে এক নদী। নদীর স্রোতের মতো গলফ স্ট্রিম ভাসমান বস্তুকে স্রোতের দিকে ভাসিয়ে নিতে পারে। যেমনি ঘটেছিল ১৯৬৭ সালের ২২ ডিসেম্বর ‘ উইচক্রাফট ‘ নামের একটি প্রমোদতরীতে। মিয়ামি তীর থেকে এক মাইল দূরে এর ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিলে কোস্টগার্ডকে জানানোর পরই গলফ স্ট্রিমকবলিত হয়ে অদৃশ্য হয়ে যায় জাহাজটি।

দৈত্যাকার ঢেউ:
হঠাৎ করেই সমুদ্রে দৈত্যাকার ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে এমনকি শান্ত সমুদ্রেও এমন ঘটতে পারে। তবে একথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে এমন ঢেউ নিয়মিত সৃষ্টি হয়।

চালকের ভুল :
অনেক জাহাজ এবং বিমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার তদন্তে দেখা গেছে এর অধিকাংশই চালকের ভুলের কারণে দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। যেমন- কোস্টগার্ড ১৯৭২ সালে ভিএ ফগ-এর নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে বেনজিন-এর পরিত্যক্ত অংশ অপসারণের জন্য দক্ষ শ্রমিকের অভাবকে দায়ী করেছে। তবে রহস্যের কারণ হলো থ অনেক নিখোঁজের ঘটনারই উপসংহারে পৌঁছানো যায়নি কেননা এর কোনো ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ইচ্ছাকৃত ধ্বংসসাধন:
যুদ্ধের সময় অনেক জাহাজ শত্রুপক্ষের অতর্কিত আক্রমণে ডুবে গেছে বলেও মনে করা হয়। যেমন মনে করা হয় ১৯১৮ সালে ইউএসএস সাইক্লপস এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এর সিস্টার শিপ প্রোটিয়াস এবং নিরিয়াসকে জার্মান ডুবোজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। তবে পরবর্তীতে জার্মান রেকর্ড থেকে এর সত্যতা প্রমাণ করা যায়নি।

জলদস্যুদের আক্রমণে:
আবার ধারণা করা হয় জলদস্যুদের আক্রমণে অনেক জাহাজ নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারে। ওই সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাংশে এবং ভারত মহাসাগরে মালবাহী জাহাজ চুরি খুব সাধারণ ঘটনা ছিল। ১৫৬০ থেকে ১৭৬০ পর্যন্ত ক্যারিবিয়ান অঞ্চল ছিল জলদস্যুদের আখড়া। তাই জলদস্যুদের আক্রমণেও জাহাজ নিখোঁজ হতে পারে।

একটা জিনিস চিন্তা করেন, আপনি শেষ কবে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে এই ধরনের দুর্ঘটনার খবর শুনেছেন? নিকট অতীতে শুনেননি। কারন বিজ্ঞান এখন অনেক উন্নত, তাই অধুনিক বিজ্ঞানে তথাকথিত কল্পকাহিনীর কোনো স্থান নেই। ইউএস নেভি সারা বিশ্বের জলপথের যে ম্যাপ তৈরী করেছে তার মধ্যে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কোনো উল্লেখই নেই।বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল সম্পর্কে আসলে এত ছোট একটা লেখায় সব বলা সম্ভব নয়। সবকিছু জানার পর এটাকে আপনি কি রহস্য হিসেবে দেখবেন নাকি নিছকই একটি মিথ হিসেবে দেখবেন, সে একান্তই আপনার সিদ্ধান্ত।

জীবন পার ইট-মাটি খেয়ে!

ভারতের কর্ণাটকের বাসিন্দা পাক্কিরাপ্পা হুনাগুন্দি। বয়স ৩০ বছর। ১০ বছর বয়সে প্রথম এমনি এমনি খেয়েছিলেন ইট, মাটি আর নুড়ি পাথর। সেই শুরু। এরপর জীবনের ২০টি বছর আপাতদৃষ্টিতে এ অখাদ্যই খেয়ে যাচ্ছেন পাক্কিরাপ্পা। প্রতিদিন প্রায় তিন কিলো ইট, মাটি ও নুড়ি পাথর খান তিনি। এতে তার কোনো সমস্যাই হয় না বলে দাবি করলেন পাক্কিরাপ্পা।চিকিৎসকরা এটাকে একটা রোগ বলেই সাব্যস্ত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা এমন একটা রোগ যে রোগে শুধুমাত্র অখাদ্যের প্রতি মানুষের আকর্ষণ তৈরি হয়।

পাক্কিরাপ্পা বলেন, ““আমি বিশ বছর ধরে ইট খেয়ে যাচ্ছি। আমি ইট খেতে ভালোবাসি। এটা এখন আমার জীবনের একটা অংশ। ১০ বছর বয়স থেকে শুরু করে আমি এখনও ইট খেয়ে যাচ্ছি। আমি ভাত না খেয়ে থাকতে পারবো কিন্তু ইট না খেয়ে একদিনও কাটাতে পারবো না। আমার কোন রোগ-বালাই নেই। আমার দাঁতও খুব ভালো আছে। আমি কোনো সমস্যা ছাড়াই যে কোনো শক্ত জিনিসে কামড় দিতে পারি।”পাক্কিরাপ্পার মা গত ২০ বছর ধরেই ছেলেকে এই ইট খাওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সবই বৃথা।

পক্কিরাপ্পার ভাষ্য, "ইট ছাড়া আমাকে অমৃত এনে দিলেও আমি খাবো না। আমার মা আমাকে চিকেন ফ্রাই দিয়ে খেতে জোর করেন, আমার তা ভালো লাগে না। আমার দরকার ইট, মাটি আর নুড়ি পাথর।"ওই গ্রামেরই একজন বাসিন্দা বলেন, 'আমি পাক্কিরাপ্পাকে ছোটোবেলা থেকেই চিনি। আমরা যেখানে একটা ছোটো পাথর খেলেই সমস্যা হয়, সেখানে পাক্কিরাপ্পা প্রতিদিন পাথর খেয়েই যাচ্ছে।"পাক্কিরাপ্পার একজন বন্ধু বলেন, "সে ধীরে ধীরে বিখ্যাত হয়ে ওঠছে। কিন্তু আমাদের এটা খারাপ লাগে। আমরা চাই কেউ তাকে সঠিক চিকিৎসাটা দিক। সে খুবই গরিব। তার পক্ষে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। আর সে হয়তো তার চিকিৎসা করাবেও না।"পাক্কিরাপ্পা একজন দিনমজুর। গ্রামে কাজ করেই সে তার পরিবার চালায়। কিন্তু এখন সে পুরো দেশ ঘুরে বেড়াতে আগ্রহী। সে পুরো দেশবাসীকে তার এই কৃতিত্ব দেখাতে চায়।


অদ্ভুদ পাখি

 এই পাখির নাম "Lyrebird"। এই পাখির বাসস্থান ক্যাঙ্গারুর দেশ অষ্ট্রেলিয়ায়। আমাদের দেশে এই পাখির তেমন নাম ডাক না থাকলেও সুদুর অষ্ট্রেলিয়ায় কিন্তু এটি বেশ জনপ্রিয়। এই পাখি চড়ুই প্রজাতির পাখি। বলা চলে এই প্রজাতির সব থেকে বৃহৎ আকৃতির পাখি এটি। কিন্তু চড়ুই পাখির মত এরা খুব একটা উড়াউড়ি পছন্দো করে না। মূলত এরা হেঁটে বেড়াতে পছন্দো করে। এদের আছে শক্তিশালী পা এবং দেহের তুলনায় অনেকটা ছোট পাখা। অনেকটা মুরগীর মত।

এই Lyrebird এর দু'টি প্রজাতি পাওয়া যায়ঃ

* Superb Lyrebird

* Albert's Lyrebird

এই দুই প্রজাতির মধ্যে Super Lyrebird আকার আকৃতিতে বড় হয়ে থাকে। Superb Lyrebird এর মধ্যে স্ত্রী Lyrebird লম্বায় ৭৪-৮৪ সেঃমিঃ এবং পুরুষ ৮০-৮৯ সেঃমিঃ হয়ে থাকে। আর এই Superb Lyrebird চড়ুই প্রজাতির মধ্যে ৩য় সর্ব বৃহৎ পাখি। আর Albert's Lyrebird পাখি গুলি Superb Lyrebird পাখি গুলির তুলনায় কিছুটা ছোট হয়ে থাকে। পুরুষ Lyrebird সর্বোচ্চ লম্বায় ৯০ সেঃমিঃ আর স্ত্রী Lyrebird ৮৪ সেঃমিঃ পর্যন্ত হয়ে থাকে। শুধু যে ছোট হয় তাই না এই Albert's Lyrebird এর Superb Lyrebird এর মত সুন্দর পাখাও থাকে না।

Superb Lyrebird পাওয়া যায় ভিক্টরিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস এবং দক্ষিণ পূর্ব কুইন্সল্যান্ডে এছাড়াও তাসমানিয়ায় ১৯ শতকের প্রথম দিকে এই পাখি খুঁজে পাওয়া যায়। অনেক Superb Lyrebird এখন সংরক্ষিত আছে মেলবর্নের Dandenong Ranges National Park and Kinglake National Park এ আর সিডনির the Royal National Park এ। আর Albert's Lyrebird খুঁজে পাওয়া যায় অল্প কিছু জায়গায় তার মধ্যে অন্যতম দক্ষিন কুইন্সল্যান্ড রেনফরেস্ট।
 এরা বাসা বানায় মাটিতে ঐ যে মুরগির মত। আর এখানেই ডিম পারে। আর এই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ৫০ দিন সময় লাগে।পুরুষ গুলি বেশ আক্রমনাত্মক হয়। এরা নির্দিষ্ট এলাকা দখলে নিয়ে থাকে যেখানে অন্য কোন Lyrebird এর প্রবেশ সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। আর একজন পুরুষ Lyrebird নিয়ন্ত্রনে ৭-৮টি স্ত্রী Lyrebird থাকে। এই পাখি গুলির জীবন কাল ১৩ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর জন্ম নেওয়ার পর পুরুষ Lyrebird ৬ থেকে ৮ বছরের মধ্যে বংশ বিস্তারের উপযোগি হয়ে ওঠে আর স্ত্রী Lyrebird ৫ থেকে ৬ বছর বয়সেই বংশ বিস্তারের উপযোগি হয়ে উঠে।