আজব পৃথিবী

Sunday, July 17, 2016

১০১ বছর বয়সে বিশ্বরেকর্ড

আসন্ন ব্রাজিলের রিও অলিম্পিকে দর্শকদের নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিতে কঠিন অনুশীলনে ব্যস্ত নামকরা সব সাঁতারুরা। এরইমধ্যে সেইসব সাঁতারুকে অবাক করে দিয়েছেন শতবর্ষী জাপানি নারী মেইকো নাগাওকা। ১০১ বছর পার করেও তিনি দিব্বি সাঁতার কেটে গড়লেন বিশ্ব রেকর্ড।জাপানের চিবা শহরে চলছে বর্ষীয়ানদের সাঁতার প্রতিযোগিতা। টুর্নামেন্টে ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইল বিভাগে ছিলেন ১০১ বছরের নাগাওকা। শতবর্ষ পার করা এই নারী সাঁতারুর সাঁতার দেখতে দর্শকরা ছিলেন উৎসুক। সবাইকে চমকে দিয়ে ২৬ মিনিট ১৬.৮১ সেকেন্ডে তিনি পার করেন নির্দিষ্ট দূরত্ব।
পানি থেকে উঠে আসতেই করতালিতে সম্মান জানানো হয় এই শতাব্দী প্রাচীন এই সাঁতারুকে। একটানা সাঁতার কেটেও ক্লান্ত নন নাগাওকা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি জানান, অন্তত ১০৫ বছর পর্যন্ত সাঁতার কাটতে চাই। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, একসময় প্রতিযোগিতা রোমাঞ্চকর পর্যায়ে চলে যায়। তখন পানির মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে ৮০ বছরের এটসুকো আজুমির সঙ্গে ১০১ বছরের নাগাওকার। সুন্দর ছন্দে জল কেটে দুজনেই ফিনিশিং লাইনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।
তবে শেষ পর্যন্ত আশি বছরের আজুমি জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন না হতে পেরেও কোনো দুঃখ নেই নাগাওকার। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে তাকে ঘিরেই ছিল যাবতীয় কৌতুহল। নাগাওকা বলেন, ‘যখন আমি সাঁতার কাটি তখন আমি আমার নিজেকে নিজের মতো করে পাই।প্রসঙ্গত, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯১৪ সালে জন্ম হয় নাগাওকার। দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা। বিংশ শতাব্দীর প্রায় পুরোটাই তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। আর মনের আনন্দে সাঁতার কেটেছেন। এখনো সেই অভ্যাসটি ছাড়তে নারাজ তিনি।

Wednesday, June 29, 2016

নগ্ন' মহিলার মত দেখতে গাছের ফল

আসল না নকল? যে প্রথমবার দেখবেন, সে চোখ কচলে আরও একবার দেখবেন। এমা! এটা কী? এরকম আবার কোনও গাছের ফল দেখতে হয় নাকি? সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় আলোড়ন ফেলে দিয়েছে এই গাছ।বলা হচ্ছে, গাছের নাম 'নারীলতা'। অনেকে আবার একে লিয়াথামবারাও বলে থাকেন।  এই গাছের ফল দেখতে একদম ঠিক এক 'নগ্ন' নারীর মত। ভারতের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে এই গাছের দেখা মেলে। প্রতি ২০ বছর অন্তর অন্তর এই গাছে ফল ধরে। একজন 'নগ্ন' মহিলার মত দেখতে সেই ফল দেখলে চমকে উঠতে হয়।
কিন্তু অদ্ভুতভাবেই কোনও নেচার জার্নালে এই গাছের উল্লেখ নেই। আর সেখানেই রহস্য। গাছের অস্তিত্ব নিয়ে ধন্দে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। যদিও পৌরাণিক কাহিনী ও বিশ্বাস অনুযায়ী এই গাছের অস্তিত্ব রয়েছে।

Tuesday, June 21, 2016

বিয়ের আশায় ৪৭ বছর

বাড়ি ভারতের রাজস্থানে। একবার পণ করেছিলেন, মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস না করলে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন না। এখন বয়স ৮২। কিন্তু এই বয়সেও মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের আশায় পরীক্ষা দিয়ে চলেছেন ৪৭ বছর ধরে। কিন্তু শিব চরণের বিয়ের ভাগ্যের শিকা বোধ হয় আর ছিঁড়ল না। কারণ, এ বছরের মাধ্যমিকেও পাস করতে পারেননি এই হতভাগ্য মানুষটি।ঘটনার শুরু ১৯৬৯ সালে। সেবার প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন শিব চরণ। এরপর থেকে নিয়মিত পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু পাস করতে পারছেন না। একবার পণ করেছিলেন, মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করতে না পারলে বিয়ে করবেন না। এ যাত্রায় আর বোধ বিয়ে করা হলো না মন্দিরে বসবাস করা শিব চরণের।দেশটির মাধ্যমিক পরীক্ষার রাজস্থান রাজ্যে বোর্ডের ফল গতকাল রোববার সন্ধ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। এবারও ব্যর্থ হলেন শিব চরণ।
রাজস্থানের বেহরোর শহরের কোহারি গ্রামে থাকেন শিব চরণ। ওই গ্রামের শিওজিরাম ও পাপ্পু বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্র এ গ্রাম থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে। তিনি ৪৭ বছর ধরে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন।পণ করেছিলেন, পরীক্ষায় পাস না করলে বিয়ে করবেন না। যেহেতু এবারও পাস করতে পারলেন না। তাই তাঁর বিয়ে করাও হলো না। আজ সোমবার আইএএনএসকে শিব চরণ বলেন, জীবন থাকা পর্যন্ত আমি পাসের জন্য পরীক্ষা দিয়ে যাব। ‘এটা শুধু আমার কাছে পরীক্ষায় পাস করা নয়। এটা আমাকে বিয়ে করার সুযোগ করে দেবে।’ বলছিলেন শিব চরণ।শিব চরণের কোনো বাড়ি নেই। থাকেন জয়পুরের একটি মন্দিরে। তাঁর জীবন চলে রাজ্য সরকার থেকে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া পেনশনের অর্থে। বয়সের কারণে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে, কানেও কম শোনেন। কিন্তু এসব সমস্যা থাকলেও পাসের জন্য তিনি নিয়মিত পরীক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে অনড়।শিব চরণ ১৯৯৫ সালে অঙ্ক বাদে বাকি সব বিষয়ে পাস করেছিলেন। এ বছর তিনি কোনো বিষয়ে পাস করতে পারেননি। কোনো কোনো বিষয়ে তিনি শূন্য পেয়েছেন।১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। ওই বছর পাস না করায় সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত পরীক্ষা দিয়ে চলেছেন এবং পাস করাই তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য।

Sunday, June 19, 2016

৬৯ সন্তান এক নারীর গর্ভে

বিশ্বজুড়ে রেকর্ডের শেষ নেই। কেউ সবচেয়ে বেশি বিয়ে করে রেকর্ড গড়েন। কেউ স্থুলকায় হয়ে রেকর্ড করেন। কেউ আবার শুক্রানু দানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শত শত সন্তানের বাবা হয়ে রেকর্ড করছেন। তবে এবার যে রেকর্ডটির কথা বলবো তা শুনলে অবিশ্বাস্যই মনে হবে। একজন স্ত্রীর থেকে সর্বাধিক সন্তান পাওয়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন এক বাবা। এ বাবার বাড়ি রাশিয়ার মস্কোয়। তার সন্তানের সংখ্যা ৬৯। এখানেই শেষ নয়। অনেকে ভাবতে পারেন প্রতিবছর একটা করে সন্তান জন্ম দিলেও তো ৬৯ বছর লেগে যাওয়ার কথা। সেটা সত্য। তবে ওই ব্যক্তির স্ত্রী ফিওডোর তাকে ১৬ জোড়া যমজ, সাত সেট ট্রিপলেট (একসঙ্গে তিনটি বাচ্চা হওয়া) ও চার সেট কোয়াড্রুপ্লেট (একসঙ্গে চারটি বাচ্চা হওয়া) সন্তান উপহার দিয়েছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে ওই নারী কখনো কোন একক সন্তান জন্ম দেননি।

Tuesday, June 14, 2016

বাধ্যতামূলক অন্তঃসত্ত্বা বিয়ের আগেই

বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা বা মা হওয়া, এ কথা শুনলে সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন ওঠে মেয়েটির চরিত্র নিয়ে। এমন দুর্ঘটনায় সমাজের লোকলজ্জার ভয়ে গর্ভপাত করাতে বাধ্য হন অনেকে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে, মেয়েদের বিয়ের আগে অন্তঃসত্ত্বা বা মা হওয়াটা বাধ্যতামূলক।সেখানে মাতৃত্বই দেয় পছন্দের সেই পুরুষকে বিয়ের অধিকার। এটাই রেওয়াজ পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার উত্তরপ্রান্তে ভূটান সীমান্তে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ‘টোটো’দের। ওই অঞ্চলটি টোটেদের জন্যই পরিচিত টোটোপাড়া নামে। মাত্রই কয়েক ঘর, জনসংখ্যায় সব মিলিয়ে হাজার দেড়েকের কিছু বেশি। কোনমতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন এই উপজাতিরা।টোটো সমাজে কোনো মেয়েকে পুরুষের বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। ছেলেটির পছন্দ হলে, মেয়েটিকে ওই পুরুষের সঙ্গে একবছর সহবাস করতে হবে। তার মধ্যে মেয়েটি গর্ভবতী হলে, তবেই বিয়ে করার উপযুক্ত হয়ে উঠবেন। তবে, বিয়ের বন্ধনে বাঁধা পড়ার আগে দুই পরিবারের অনুমতি নিতে হবে যুগলকে।

সমুদ্রে মুরগি ঘুরছে

মানুষকে সাত সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার কথা শোনা যায়। কিন্তু, তাই বলে মুরগী! অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনাটি সত্যি। দুই বছর ধরে এক মুরগি এক অভিযাত্রীর সঙ্গী হয়ে ঘুরছে নানা সমুদ্রে। ইতিমধ্যেই স্প্যানিশ শাষিত ক্যানারি দ্বীপ থেকে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল হয়ে তারা ঘুরে বেড়িয়েছে ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ডে। সেখানে উত্তর দিকে যাত্রা করে তারা গেছে আর্কটিক সাগরে। বর্তমানে তার অবস্থান করছে গ্রিনল্যান্ডে। খবর-বিবিসির।সৌভাগ্যবান ওই মুরগির নাম মনিক। আর তার সঙ্গীর নাম গাইরেক সুডি। ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলে তার বাস। বিশ্ব ভ্রমণের গোড়ার দিকে ২০১৪ সালে ক্যানারি আইল্যান্ডে থেকে সে মনিককে তার জাহাজে ওঠায়। মনিকের কাজ হলো জাহাজের ডেকে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা।গাইরেক সুডি বলেন, "শুরুতে আমি ভেবেছিলাম এই অভিযানে সঙ্গী হিসেবে একটি বিড়াল নেয়া যায় কি না। কিন্তু ভেবে দেখলাম, বিড়াল নেয়ার ঝামেলা অনেক। কিন্তু তার অনেক দেখাশুনা দরকার হবে। কিন্তু মুরগির ক্ষেত্রে সেটা হবে না। আর বাড়তি পাওনা হবে ডিম।"সমুদ্রের পানিকে একটুও ভয় করে না মনিক। দিনের বেলা মনিক ৩৯ ফুট লম্বা জাহাজের পুরোটা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়ায়। আর রাত হলে, কিংবা আবহাওয়া খারাপ থাকলে, তাকে তার ছোট্ট ঘরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।

স্ত্রীর ওপর রাগ ৪৮ বছর

স্ত্রীর ওপর রাগ করে ৪৮ বছর ধরে বনে বাস করছেন এক ব্যাক্তি। এটা কোনো ঠাকুরমার ঝুলির গল্প নয়। একেবারে বাস্তব। ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ৭১ বছরের বৃদ্ধ কেন্নাচাপ্পা গৌড়া ঘর ছেড়েছিলেন সেই ১৯৬৮ সালে। এরপর থেকে একা একা তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে সুলিয়া এলাকার মারগাঞ্জ অভয়ারণ্যে বাস করছেন তিনি।সম্প্রতি ভারতের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানে উঠে আসে তাঁর বনবাস জীবন কাহিনী। এরপর তাঁকে নিয়ে খবর প্রকাশ করে দেশটির অনেক সংবাদমাধ্যমই।ভারতের সংবাদমাধ্যম জিনিউজ জানিয়েছে, ২২ বছর বয়সে ষাটষট্টি সালে বিয়ে করেছিলেন কেন্নাচাপ্পা। স্ত্রী উমা ছিলেন রাগী প্রকৃতির। একদিন কথা কাটাকাটির কারণে স্ত্রী তাঁকে পরিবারের সদস্যদের সামনে গায়ে হাত তোলেন। সেদিনই রাগে-ক্ষোভে বনবাসী হন কেন্নাচাপ্পা। বাড়ি ছাড়ার সময়ে প্রতিজ্ঞা করেন, যত দিন পর্যন্ত উমা না মারা যাবেন তত দিন তিনি বাড়ি ফিরবেন না। এরপর থেকে বনে বনেই কাটছে ৭১ বছর বয়েসী এই বৃদ্ধের জীবন।
এদিকে জিনিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে নারীর জন্য ঘর ছেড়েছেন কেন্নাচাপ্পা সেই নারী অর্থাৎ তাঁর স্ত্রী এখনো জীবিত। কয়েক বছর আগে স্বামীর সন্ধান পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্বামীকে ফিরিয়ে আনতে যাননি এবং তাঁর একমাত্র ছেলেকেও বাবার কাছে যেতে দেননি উমা। তাঁর বিশ্বাস, স্রষ্টা কপালে যা লিখে রেখেছেন তাই হবে।
এদিকে টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিয়া টাইমসকে কেন্নাচাপ্পা গৌড়া জানান, নারকেল পাতা দিয়ে বানানো একটি ছোট্ট ঘরে থাকেন তিনি। জঙ্গলে কৃষিকাজ করে উৎপন্ন আলু দিয়ে বানানো খাবার খেয়েই কাটে তাঁর দিন। এভাবেই এত বছর বেঁচে আছেন তিনি।