আজব পৃথিবী

Monday, July 7, 2014

আটলান্টিস" রহস্য

পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত সমাধান না হওয়া যত রহস্য আছে, তার মধ্যে অন্যতম হল এই আটলান্টিস। যিশুখ্রিস্টের জন্মের ৩৫৫ বছর আগে আটলান্টিসের কথা প্রথম জানিয়েছিলেন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো। আজ থেকে প্রায় দশ-বারো হাজার বছর আগে আটলান্টিক মহাসাগরের কাছে অবস্থিত এই দেশটিতে নাকি ছিল অত্যন্ত উন্নত এক সভ্যতা। অনেকের বিশ্বাস, গ্রিক দ্বীপ ক্রিটের কাছাকাছি ছিল আটলান্টিস। শোনা যায়, বিজ্ঞানে প্রচণ্ড উন্নত ছিল আটলান্টিস। ইঞ্জিনিয়াররা ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ। তাদের তৈরি বন্দর, প্রাসাদ, মন্দির, খাল এবং জাহাজ তৈরি বা মেরামতির ব্যবস্থা ইত্যাদিতে ছিল অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া। বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঠাণ্ডা ও গরম জলের ঝরনার ব্যবস্থা ছিল।

প্লেটোর বয়ান অনুযায়ী এক ভয়ংকর ভূমিকম্প আর প্রবল জলোচ্ছ্বাসের ফলে এক রাতের মধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরের নিচে তলিয়ে যায় এ শহর। আটলান্টিস রহস্য ভেদ করার জন্য বহু বছর আগে থেকেই পণ্ডিত ও গবেষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে আটলান্টিস বলে কোনো দেশের আদৌ কোনো অস্তিত্ব ছিল না কোনোদিন। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন সত্যিই পৃথিবীর বুকে একসময় ছিল অত্যন্ত উন্নত এই সভ্যতা। তবে আজ পর্যন্ত মেলেনি কোন তথ্য প্রমাণ।

তবে সম্প্রতি গবেষকেরা জানালেন একদম ভিন্ন একটি তথ্য! তাঁদের দাবী, হারানো আটলান্টিস খুঁজে পেয়েছেন তারা!

এই চাঞ্চল্যকর খবর দিয়েছেন আমেরিকার একটি রিসার্চ টিমের মুখ্য গবেষক, কানেকটিকাটের হার্টফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রিচার্ড ফ্রিয়ান্ড। তারা নাকি জানতে পেরেছেন হারিয়ে যাওয়া আটলান্টিসের সন্ধান! তিনটি দেশের গবেষকদের একটি দল মাটি ভেদ করতে পারে এরকম অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে স্পেনের ‘দোনানিয়া ন্যাশনাল পার্ক’-এর মাটির নিচে খুঁজে পেয়েছেন ক্যানাল সিস্টেমের প্রমাণ। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি দেখে তাদের ধারণা হয়েছে, এই ন্যাশনাল পার্কের বিস্তীর্ণ জলাভূমির নিচে চাপা পড়ে আছে একটা আস্ত শহর, আর সেটা যে রহস্যে ঘেরা আটলান্টিসই, তাতে কোনো সন্দেহ নেই তাদের। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে জার্মান পদার্থবিদ রাইনার কুন বলেছেন, যিশুখ্রিস্টের জন্মের ৮০০ থেকে ৫০০ বছর আগে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এই শহর। ফ্রিয়ান্ড বলেছেন, গবেষণা চলছে এবং খুব শিগগিরই হারিয়ে যাওয়া এ শহরের অস্তিত্বের যাবতীয় প্রমাণ পেশ করবেন তারা।

সত্যিই কি সমাধান হতে চলেছে আটলান্টিস রহস্য? হারিয়ে যাওয়া গার্ডেন অফ ইডেনের ধ্বংসাবশেষ কি শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাবে? যদি সত্যিই প্রাচীন এ সভ্যতার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়, তাহলে তা হবে মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা, মিশর, ব্যাবিলন ইত্যাদির সভ্যতার চেয়ে অনেক পুরনো। আর তখন যে পৃথিবীর ইতিহাস আবার নতুন করে লিখতে হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

Sunday, June 15, 2014

স্বচ্ছ নীল পানির অসাধারণ সুন্দর সৈকত

প্রাকৃতিক এই সুইমিং পুলটি সুয়া ওশ্যান ট্রেঞ্চ। এটি সামোয়াতে অবস্থিত।

অসাধারণ সুন্দর নীলের রাজ্য, সাবাহ, মালয়েশিয়া।

স্বচ্ছ পানিতে পাথরের কারুকাজ, জেনি লেক, ওয়ওমিং।

ব্রাজিলের অপরূপ নীল সৌন্দর্য। বোনিতো, ম্যাতো গ্রোসো দো সুল, ব্রাজিল।

ফ্রান্সের স্বচ্ছ নীলের হাতছানি। ক্যালানকে ডে সোরমিওউ, ফ্রান্স।

জাপানের নীল পানির স্বচ্ছতা কাঁচকেও হার মানায়। পানারি আইল্যান্ড, ওকিনাওয়া, জাপান।

স্বচ্ছ নীল পানি আর দূর দ্বীপের দেশ, পুরোটাই রূপকথার ছবি। কায়োস কোচিনোস, হন্ডুরাস।

হাওয়াইয়ের সমুদ্র সৈকত অনেক আগে থেকেই বেশ জনপ্রিয়। আর এখনো হানাউমা সৈকত, ওয়াহু নিজের সৌন্দর্য ধরে রেখেছে।

গ্রিসের অসাধারণ সমুদ্র সৈকত কোরফু।

অসাধারণ স্বচ্ছ পানির সৈকত লিনাপাক্যান আইল্যান্ডের ছবি। এর অবস্থান ফিলিপাইনে।

মালদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জের অসাধারণ স্বচ্ছ নীল পানির সৈকত।

স্বচ্ছ নিলের সমারোহ। বোড্রাম, তুর্কি।

কায়ো কোকো, কিউবা।

অসাধারণ এই স্বচ্ছ নীল পানি দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তে ইচ্ছে করবে সকলেরই। এটি কালা ম্যাকারেল্লেটা, মেনোরকা, স্পেনে অবস্থিত।

৭টি দারুণ সুন্দর বুকশপ

লাইভ্রারিয়া লিলো বুকশপ :  এই বুকশপটি পর্তুগালের একটি কফি শপে অবস্থিত। এটি স্থাপত্য নিদর্শনের আদলে ১৮৮১ সালে তৈরি করা হয়।

ডমিনিক্যান বুকশপ : এই বুকশপটি একটি বাই সাইকেল স্টোরে অবস্থিত। এটি হল্যান্ডের ডোমিনিক্যান গির্জার পাশে ১৩ শতকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর পর ২০০৭ সালে গোথিক বিল্ডিং আমস্টারডাম ভিত্তিক ডিজাইন ফার্ম এর বইয়ের পুনঃবিন্যস্ত করে।


দ্য বুক বাজ : বই এর দোকান নদীতে ?শুনতে কি অদ্ভুত লাগছে? একটি ৬০ ফুট খালের নৌকায় করে বইয়ে চলেছে একটি বুকশপটি। এটি যুক্তরাজ্যে অবস্থিত।এখানে প্রায় সব ধরনের বই পাওয়া যাবে। নৌকায় বসে চা পান এর সাথে আলাপচারিতার পাশাপাশি পছন্দের কোন লেখকের বই কিনতে পারবে লোকজন। এই বুকশপটির দায়িত্বে আছেন হেনশো নামের এক ইংরেজ ভদ্রলোক।

বার্টস বুকশপ : এটি ওজাই কালিফর্নিয়ায় অবস্থিত।প্রায় ৫৫ বছরের পুরোনো একটি বাড়িতে ৫৫ হাজার বইয়ের সংগ্রহশালা দিয়ে এই বুকশপটি ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বার্টার বুকশপ : এই বুকশপটি ইংল্যান্ডের ভিক্টোরিয়ান ট্রেন স্টেশনে অবস্থিত। ১৮৮৭ সালে ভিক্টোরিয়ান ট্রেন স্টেশন এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্রেতাদের জন্য রয়েছে সুন্দর চেয়ার,সোফার ব্যবস্থা।

এল এটিনিও গ্রান্ড স্পিলিন্ডিড : প্রকৃতপক্ষে এটি সঙ্গীত জলসার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯১৯ সালে। প্রায় এক শতক পর ২০০০ সালে এই জলসা ঘরটি বিখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গ্রুপো ইশা এর কাছে লিজ দেয়া হয়। লিজ নেয়ার পর জলসা ঘরটি সংস্কার করে বইয়ে সজ্জিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে এখানে বছরে প্রায় দুই লাখের মত লোক আসে।

লা কাভার্ন বুক শপ : দুইটা ট্রেনকে সংযুক্ত করে এই বইয়ের সংগ্রহশালাটি তৈরি করা। এটি উত্তর প্যারিসে অবস্থিত।

ভাসমান মসজিদ!

নেদারল্যান্ডসই বিশ্বের একমাত্র দেশ নয়, যারা সমৃদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত৷ তাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য এই ভাসমান মসজিদটি তৈরি করেছেন ডাচ স্থপতিরা৷ মসজিদের উপরের কলামগুলো শুধু ভারসাম্যই রক্ষা করছে না, একই সঙ্গে মসজিদের ভেতরের দিকে আলোর যোগানও দিচ্ছে৷

ভাসমান গ্রাম!

ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত হা লং বে এলাকায় গেলে চোখে পড়বে এমন দৃশ্য৷ সেখানে ১,৬০০ মানুষ কাঠের তৈরি নৌকাবাড়িতে বসবাস করছে৷ হা লং বে’র অধিবাসীদের মূল আয়ের উৎস হচ্ছে মাছ ধরা, মুক্তা সংগ্রহ আর পর্যটন৷ এসব নৌকাবাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা মেটায় ডিজেল ইঞ্জিন৷

সৌন্দর্যের কয়েকটি স্থান

জিংপিং, গোয়াংঝি প্রভিন্স, চীনে অবস্থিত বয়ে চলা অসাধারণ সুন্দর ‘লী’ নদী ।

লাল-কমলা ফুলে ছেয়ে থাকা চীনের প্রাচীর। 

‘সাদা বালুর পাহাড়’ বা ‘হোয়াইট স্যান্ড মাউন্টেন’। এটি ঝিংজিয়ানে অবস্থিত।

 ‘ইয়ামড্রক লেক’। সত্যিই দমবন্ধ করা অসাধারণ সুন্দর পরিবেশ।

‘লাল পাথরের উপত্যকা’ (রেড রক ভ্যালী), এটি অবস্থিত ইউনতাইশানে। 

তিব্বতের ‘স্নো মাউন্টেন’ এবং লেক।

আকাশ ও পাহাড়ের এইরকম মিলন মেলা দেখতে চাইলেও যেতে হবে চীনে ।

নীলের সুদ্ধতা। এটিও ইয়াং ঝউ অং কউ লেকের একটি দৃশ্য।

পাহাড় ও নদীর অপূর্ব মিলন। এই স্থানটি তিব্বতের পাহাড়ের পাদদেশে। এই লেকটির নাম ইয়াং ঝউ অং কউ।

এই স্থানটিকে বলা হয় ‘হেভেন সুওয়াংওয়াই’।

সবুজের সমারোহে পাহাড়। এটি চীনের জুইলিনে অবস্থিত।

‘বেকডুসান হেভেন লেক’ । নামের মতোই স্বর্গীয় সুন্দর এই লেকটি।

‘ঝোউয়ের মাউন্টেন’। এই স্থানটি পুরোটাই তৈরি হয়েছে রেড স্যান্ডস্টোন দিয়ে।

কৈলাস পর্বত।

তিব্বতের পাহাড়ের নানা ধরণ অসাধারণ করে তুলেছে এই স্থানটি ।


ডুব দিলেই কঙ্কাল !

নদীর বহমান পানির দৃশ্য, সাঁতার কাটা অনেক মজার একটা অনুভূতি। শৈশবে নদীতে ঝাপিয়ে পড়ার অপরূপ স্মৃতি সত্যিই অনেক মজাদার।আপনি কি কখনও ভেবেছেন যদি এমন হয় যে, নদীতে ডুব দিলেন আর ভেসে উঠে দেখলেন আপনার গায়ে কিছুই নেই। শুধু হাড়গুলোই অবশিষ্ট আছে। তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে?অবাক করা হলেও সত্য স্পেনে এমন একটি নদী আছে, যেখানে ডুব দিলে কঙ্কাল হয়ে উঠতে হবে। এ নদীর পানি অত্যন্ত আম্লিক (pH-1.7-2.5) এবং ভারী ধাতু সমৃদ্ধ। এ কারণেই নদীটি অত্যন্ত ভয়ানক। এ নদীর কারণেই দেশটির অনেক গ্রাম স্থানান্তর করতে হয়েছে। এমনকি নদীটি বেশ কয়েকটি আস্ত পাহাড়ও গ্রাস করেছে।নদীটি মাইন (রিও টিনটো) খননের সময় উৎপন্ন হয়েছে। এই মাইনটি ব্যাপ্তি এতোটাই ব্যাপক যে এর আশেপাশের গ্রামগুলোকে অন্যত্র সড়িয়ে ফেলতে হয়েছে। এই খননের প্যাটার্ন অর্থাৎ নদীটি এতোটাই দৃষ্টি নন্দিত যে দেখলে মনে হবে আপনি চাঁদে আছেন।