আজব পৃথিবী

Tuesday, February 28, 2017

নানারকম ডিম দেবে এক মুরগিই

নিপাট বাদামি পালকের হৃষ্টপুষ্ট মুরগিটিকে দেখে তার ভেল্কির কথা ঘুণাক্ষরেও টের পাবেন না আপনি। সাধারণ মুরগির সঙ্গে এর তুলনা করলে চলবে না মোটেই। ছোট্ট একটি জিনের সামান্য নড়াচড়ায় এখন রীতিমতো তারকা এই মুরগি। নানা প্রজাতির ডিম একাই পাড়তে পারে জেনেটিক্যালি মডিফ্যায়েড এই মুরগি। শুনে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।নিজেদের গবেষণাগারে এমনই হাইব্রিড মুরগির জন্ম দিলেন এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ম্যাসাচুসেটসের আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স-এর এক সম্মেলনে এই অভিনব বিষয়টি সকলের সামনে তুলে ধরেন বিজ্ঞানীরা। এ সম্মেলনেই তারা জানান, জেনেটিক কারিগরির ফলে জন্ম নেওয়া হাইব্রিড এই মুরগি বিভিন্ন প্রজাতির ডিম পাড়তে পারবে।
শুধু তাই নয়, বার্ড ফ্লু’র মতো রোগও অনায়াসেই প্রতিরোধ করতে পারবে এই মুরগি। অর্থাৎ এর ডিম থেকে জন্ম নেওয়া কোনও মুরগিই বার্ড ফ্লু’র বাহক হবে না।এডিনবরার বিজ্ঞানীরা জানান, পাখিদের প্রজননে মুখ্য ভূমিকা নেয় ডিডিএক্স৪(DDX4) নামক জিনটি। জিন এডিটিং পদ্ধতিতে মডিফাই করা হয়েছে এই জিনটিই। তবে নিজের ডিম পাড়তে পারবে না হাইব্রিড এই মুরগি। তাহলে কীভাবে বিভিন্ন প্রজাতির মুরগির জন্ম দেবে সে?এডিনবরাহাইব্রিড ওই মুরগির দেওয়া কয়েক প্রজাতির ডিম।বিজ্ঞানীদলের প্রধান গবেষক মাইক ম্যাকগ্রিউ জানান, এই মুরগি আসলে সরোগেট মাদারের ভূমিকা পালন করবে। সেটা ঠিক কী রকম? যদি অন্য কোনো প্রজাতির মুরগির স্টেম সেল এনে হাইব্রিড মুরগির গর্ভে স্থাপন করা হয় তাহলে সেই প্রজাতির ডিম নিজের দেহে তৈরি করবে এই হাইব্রিড মুরগি। এবং সেই প্রজাতির মুরগির ডিম দেবে সে।
কিন্তু হঠাৎ কেন এই ধরনের মুরগি তৈরির কথা মাথায় আসল বিজ্ঞানীদের? ম্যাকগ্রিউ বলেন, ‘আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলুপ্ত প্রজাতির মুরগি সংরক্ষণ।’যেহেতু এই মুরগি অন্য প্রজাতির ডিমও পাড়তে পারে, তাই বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণ করতে নতুন এই হাইব্রিড মুরগি সাহায্য করবে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।ইতিমধ্যেই ‘রাম্পেল্স গেম’, ‘স্কটস ডাম্পি’, ‘সিসিলিয়ান বাটারকাপ’, ‘ওল্ড ইংলিশ ফেজ্যান্ট ফাউল’ প্রভৃতি বিরল প্রজাতির মুরগির ডিম পেড়েছে এই হাইব্রিড মুরগি। বিজ্ঞানীরা জানান, অদূর ভবিষ্যতে বিরল ও লুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে ফের নতুন করে বাঁচিয়ে তুলবে এই মুরগি।

১২৫ কেজি ওজনের পোয়া মাছ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় শাহপরীর দ্বীপে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ১২৫ কেজি ওজনের একটি পোয়া মাছ।  জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন একটি নৌকায় জেলে খুরশিদ আলম, রশিদ আহমদ ও নজির আহমদ মাছ ধরতে যান। নাফ নদীর মোহনা–সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় মঙ্গলবার ভোরে জাল পাতেন। সকালে জালে পোয়া মাছটি ধরা পড়ে।   এটির ওজন ১২৫ কেজি। জেলেরা জানান, মাছটি নিয়ে শাহপরীর দ্বীপের জেটিঘাটে ফিরে আসার পর উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।  নৌকার মালিক মোহাম্মদ হাসান জানান, টেকনাফের মাছ ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিনসহ কয়েকজন মিলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন।  ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার টেকনাফের বড় মাছ বাজারে মাছটি কেটে বিক্রি করা হবে। প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রির জন্য বুধবার মাইকিং করা হবে। এরই মধ্যে বেশ কিছু মাছ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।  বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাছটি বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করা হবে বলেও তিনি জানান।  শাহপরীর দ্বীপের স্থানীয় ব্যবসায়ী শরিফ হোসেন বলেন, এ রকম বড় মাছ গত দু যুগেও এ ধরনের বড় পোয়া মাছ তাঁরা দেখেননি। এ মাছ  মাছ খেতে বেশ  সুস্বাদু।  টেকনাফ উপজেলা  মৎস্য কর্মকর্তা সুজাত কুমার চৌধুরী বলেন, এ মাছ গভীর সাগরে পাওয়া যায়। নাফ নদীর মোহনায় সাধারণত পাওয়ার কথা নয়। মাছটি পথ হারিয়ে হয়তো এখানে ধরা পড়েছে। 

টাক সম্মেলনে অদ্ভুত রশি টানাটানি

জাপানের কেশহীনদের এক বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন ৩০ ব্যক্তি। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চলে অদ্ভুত রশি টানাটানি প্রতিযোগিতা। এর সদস্য সংখ্যা ৬৫। প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাদের মাথায় একটি সাকশন কাপ লাগায় যার একপ্রান্তে থাকে লাল পাতলা রশি। এরপর দুজন দুপাশ থেকে সেই রশি টানতে থাকেন। ‘বল্ড মেন ক্লাব’ বা কেশবিহীনদের এই ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিতি হয়েছে ১৯৮৯ সালে। জাপানে টোকো লোকদের সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে এই ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়। 

Sunday, February 26, 2017

হোটেল থেকে কম নয় যে জেলগুলি

ব্যাস্টয় প্রিজন, নরওয়ে –  ব্যাস্টয় দ্বীপের উপর অবস্থিত এই জেলে ১০০ জন কয়েদি থাকার স্থান রয়েছে৷ এখানে নিরাপত্তার তেমন প্রয়োজন পড়ে না৷ ছোট ছোট কটেজের মতো জেল, টেনিস কোর্ট, মাছ ধরার লেক, রেসকোর্স – এত কিছু রয়েছে এখানে কয়েদিরা প্রায় ভুলেই যান যে তাঁরা জেলে রয়েছেন৷ 
এইচএমপি এডিওয়েল, স্কটল্যান্ড – ৭০০ জন কয়েদি থাকতে পারে এই জেলে এবং তারা রাজকীয়ভাবেই থাকে৷ সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা সময় প্রত্যেক কয়েদিকে আলাদা করে দেওয়া হয়৷ যখন তাঁরা মুক্তভাবে নিজেদের মতো করে কাটাতে পারে৷ 
ওটাগো কারেকশন ফেসিলিটি, নিউজিল্যান্ড – জেল না বলে একে সংশোধনাগার বলা ভাল৷ এখানে প্রত্যেক কয়েদিকে আলাদা করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় গঠনমূলক কাজের জন্য৷ যাতে ছাড়া পেয়ে তাঁরা সমাজের মূলস্রোতে ফিরে যেতে পারেন৷ তবে এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ কড়া৷ 
জাস্টিস সেন্টার লিওবেন, অস্ট্রিয়া – এখানে সাধারণত অহিংস কয়েদিদেরই রাখা হয়৷ আর এই কয়েদখানার প্রত্যেকটি কামরা এক একটি ওয়ান বেডরুম ফ্ল্যাটের মতো৷ আলাদা রান্নাঘর ও অ্যাটাচড বাথরুম সহ৷ 
জেভিএ ফুলসবুয়েট্টেল প্রিজন, জার্মানি – সাধারণত যারা যাবজ্জীবনের সাজা কাটছে তারাই এখানে থাকে৷ বিশাল এই জেলের ক্যাম্পাস যেন কয়েদিদের কাছে ছোট্ট একটা শহরই৷ ঘরে সুন্দর খাটের পাশে বসার জায়গা, পড়ার টেবিল, বাথরুমে শাওয়ার সবই আছে৷ কয়েদিদের জন্য লন্ড্রি মেশিনও রয়েছে৷ আলোচনা-পর্যালোচনা ও বিনোদনের জন্য রয়েছে আলাদা ঘর৷ 

Monday, February 13, 2017

ছাগলের বিশ্বরেকর্ড

অস্ট্রিয়ার এক ছাগল সম্প্রতি গড়েছে বিশ্বরেকর্ড। ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনালে (ইউপিআই) প্রকাশিত একটি খবরে জানা যায়, ছাগলটির নাম রাশপুতিন। রাশিয়ার জার দ্বিতীয় নিকোলাসের উপদেষ্টা রাশপুতিনের নামানুসারে তার এই নামকরণ। তবে এই রাশপুতিন নামের ছাগলটির বয়স এখন আট বছর। তার শিং মেপে দেখা গেছে, তার সেটা বিস্তৃত প্রায় ৫৩.২৩ ইঞ্চি! এর ফলে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্তৃত শিংয়ের অধিকারী হিসেবে গিনেস বুক অব রেকর্ডের খাতায় নাম উঠে গেছে তার। এর আগে যে ছাগলটি সবচেয়ে বিস্তৃত শিংয়ের বিশ্বরেকর্ড করেছিল, তার নাম ছিল আংকেল সেম। যুক্তরাষ্ট্রের সেই ছাগলটির শিং বিস্তৃত ছিল ৫২ ইঞ্চি। অর্থাৎ রাশপুতিনের শিংয়ের ব্যবধান এক  ইঞ্চিরও বেশি।  ছাগল রাশপুতিনের মালিক মার্টিন পারকার তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই মূলত রেকর্ড ভাঙার আশা নিয়ে ছাগলটির শিং মাপা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘ছাগলটির বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন থেকে আমি তার শিং মাপতে শুরু করি। আমার এক সুইস কলিগ তাঁর ছাগলের শিং দিয়ে রেকর্ড ভাঙার জন্য চেষ্টা করছিলেন, তাঁকে দেখে আমিও আমার ছাগলের শিং মাপতে থাকি।’ মার্টিন জানান, তাঁর ছাগলটি চমৎকার। ছাগলটি কখনো শিং দিয়ে কাউকে আঘাত করে না। 

Saturday, February 11, 2017

যুবকের মাথা সিংহের মুখে

নিজের পোষা সিংহের মুখের ভেতর হুমাইদ কখনও তার হাতটি ঢুকিয়ে দিচ্ছেন, কখনও বা আস্ত মাথাটাই রাখছেন সিংহের হাঁ-মুখের মধ্যে। আর তার পরই ঘটে যাচ্ছে অবিশ্বাস্য ঘটনা। বিপদের সঙ্গে খেলা করাই কিছু মানুষের নেশা। অ্যাডভেঞ্চারের তাগিদে বিপদকে আলিঙ্গন করেন তারা। তাতেই তাদের আনন্দ। পার্সিয়ান গালফ অঞ্চলে ধনীদের মধ্যে বর্তমানে এক নতুন অ্যাডভেঞ্চারের নেশা দানা বেঁধেছে। তারা বাড়িতে চিড়িয়াখানা তৈরি করে সেখানে বাঘ-সিংহকে পোষ্য করে রাখা শুরু করেছেন। হুমাইদ আলবুকাইশ তাদের মধ্যে একজন। পার্সিয়ান এই ধনকুবেরের আয়ের উৎস অজানা, কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় তার পোস্ট করা ভিডিওগুলো এখন বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তার সঙ্গত কারণও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আরও অনেক ধনকুবেরের মতোই তিনিও নিজের বাড়িতে চিড়িয়াখানায় পূর্ণায়ত বাঘ-সিংহকে পোষ্য করে রেখেছেন। এই সমস্ত হিংস্র জন্তু তার কাছে একেবারে শান্ত আকার ধারণ করে। তাদের সঙ্গে হুমাইদের খেলাধুলোর ভিডিও এখন সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কিন্তু কী করছেন তিনি তার পোষ্যদের সঙ্গে? তার কীর্তিকলাপ দেখে হাড় হিম হয়ে যাচ্ছে দর্শকদের।একটি বেশ দীর্ঘায়ত ভিডিও নিজের সোশাল মিডিয়া পেইজে পোস্ট করেছেন হুমাইদ। তাতে দেখা যাচ্ছে, নিজের পোষা সিংহের মুখের ভিতর হুমাইদ কখনও তার হাতটি ঢুকিয়ে দিচ্ছেন, কখনও বা আস্ত মাথাটাই রাখছেন সিংহের হাঁ-মুখের মধ্যে। সিংহটিও একান্ত বাধ্য পোষ্যর মতোই আঁচড়ও আসতে দিচ্ছে না তার মালিকের শরীরে।একা হুমাইদকেই অবশ্য এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে তা নয়, তার বন্ধুবান্ধবরাও বেড়াতে গিয়েছেন তার চিড়িয়াখানায়, সেই দৃশ্যও ধরা পড়েছে সেই ভিডিওতে। বন্ধুরাও তার মতোই অসমসাহসী। তারাও হুমাইদের মতোই অনায়াসে খেলায় মেতে যাচ্ছেন মাংসাশী জন্তুদের সঙ্গে। কেবল এক তরুণীকে দেখা গিয়েছে যিনি সিংহীর আদরে ভয়ের চোটে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন। 

খেয়ে বিশ্বরেকর্ড

মুরগির মাংস বা চিকেন সুস্বাদু খাবার হওয়ায় অনেকেরই কাছে এটি প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু যতই প্রিয় হোক না কেন, কতটুকুই আর খাওয়া যেতে পারে এই চিকেন। যদি বলি একই জায়গায় বসে একই সময়ে খাওয়া যেতে পারে ৪০৯ পিস চিকেন উইং। অবাস্তব মনে হলেও বব সাউডেট নামের এক ব্যাক্তি এই কাজ করে গড়ে ফেলেছেন বিশ্বরেকর্ড। জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ‘উইং বোউল ২৫’ শিরোনামে মুরগির পাখা বা চিকেন উইং খাওয়ায় একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রতিযোগিতায় প্রথম হন ৫০ বছর বয়সী বব সাউডেট। আর তারা জন্য তিনি খেয়েছেন ৪০৯ পিস চিকেন উইং।এই জয়লাভ করে প্রথম পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে সাউডেট জিতেছেন মেডেল, নগদ ১০ হাজার ডলার ও একটি গাড়ি।