আজব পৃথিবী

Sunday, April 23, 2017

একই দেহে দুই বোন

কারমেন আর লুপিতার একটি করে হৃদপিণ্ড, দু’টি করে হাত, একটি করে ফুসফুস থাকলেও তাদের পাঁজরের খাঁচা থেকে শরীরের বাকি অংশ কমন।মার্কিন দেশের কানেক্টিকাটের দুই কিশোরী কারমেন আর লুপিতার জীবনের কাছে চাহিদা এমন কিছু অসাধারণ নয়। তারাও আর পাঁচটা সমবয়সি কিশোরীর মতোই হোমটাস্ক করতে চায়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে চায় আর একটা থুড়ি দুটো ড্রাইভং লাইসেন্স পেতে চায়। এমনিতে তাদের ভাবনা-চিন্তা বা কাজকর্ম মোটেই তেমন ব্যতিক্রমী নয়। ব্যতিক্রম তাদের শরীরে। কারমেন আর লুপিতা কনজয়েনড টুইনস বা সংযুক্ত যমজ।কারমেন আর লুপিতার একটি করে হৃদপিণ্ড, দু’টি করে হাত, একটি করে ফুসফুস থাকলেও তাদের পাঁজরের খাঁচা থেকে শরীরের বাকি অংশ কমন। তাদের পাচনতন্ত্র, এমনকী জননাঙ্গও কমন। চার বছর বয়সে তারা হাঁটতে শেখে। তার পর থেকে ১২ বছর তারা কদম কদম এগিয়েছে। বুঝতে শিখেছে জীবনের মানে। জন্মের পরেই ডাক্তাররা তাদের আলাদা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এতে বিপদের সম্ভাবনা ছিল বলে করা হয়ে ওঠেনি।
১৬ বছর পরে আবার চিকিযসকরা নড়েচড়ে বসেছেন কারমেন আর লুপিতার কেস নিয়ে। তাঁদের বক্তব্য এই সময়ে তাদের আলাদা না করলে বিপদ দেখা দিতে পারে দু’জনেরই। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাত্রাৎকারে কারমেন আর লুপিতা দু’জনেই জানিয়েছে, তাদের এই অস্ত্রোপচারে মত নেই। কারণ, তারা এই ১৬ বছর ধরে যে জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তাতে তারা পরস্পরের থেকে আলাদা হলে মানসিক ভাবেই ভেঙে পড়বে।অস্ত্রোপচারে ভয় ছাড়াও আর একটা ভয় কারমেন আর লুপিতার পরিবারকে তাড়া করছে। এই পরিবারটি মেক্সিকো থেকে আগত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেক্সিকান শরণার্থী-সংক্রান্ত বিরোধিতা তাদের তাড়া করে বেড়চ্ছে। যে কোনও দিন আমেরিকা ছেড়ে চলে যাওয়ার আদেশ আসতে পারে, এই ভেবে চিন্তিত কারমেন আর লুপিতা আন্দ্রাদের পরিবার। আমেরিকা ছাড়লে সেখানকার চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবে কারমেন ও লুপিতা। সেই বিপদের দিনে কী হবে ভেবে শঙ্কিত তাদের পরিজন।

Tuesday, March 28, 2017

১৮ বছর নখ না কেটে রেকর্ড

ইতোপূর্বে আমরা নানা রকম বিশ্বরেকর্ড করার কথা শুনেছি। তবে এবার একটু ব্যতিক্রমী বিশ্বরেকর্ডের কথা শোনা গেলো আর তা হলো নারীর নখের বিশ্বরেকর্ড! আর এটি করেছেন এক নারী। তার নাম ক্রিস ওয়ালটন।যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস ওয়ালটনের নখগুলো দেখেছেন? প্রায় ছয় মিটার লম্বা! সবচেয়ে বড় নখের মালিক হিসেবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছেন তিনি।১৮ বছরে একবারও নখ না কেটে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন ক্রিস। সংগীত শিল্পী ক্রিসের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কী করলে নখ এত সুন্দর এবং বড় করা যাবে?ক্রিস হেসে বলেছেন, যথেষ্ট মিষ্টি খেলে এবং অনেক ধৈর্যশীল হলে। ১৮ বছরে একবারও নখ না কেটে নখের সাইজ এতো বড় করতে পেরেছেন তিনি। তার দীর্ঘদিনের সেই মর্যাদাও তিনি পেয়েছেন। অর্থাৎ এই স্বীকৃতি পেয়েছেন।

Sunday, March 19, 2017

কাগজের বাড়ি

আমরা সাধারণত পুরনো পত্রিকা নানান কাজে ব্যবহার করে থাকি। আর ঝাল মুড়ি বা ঠোঙায় পেপার বা পত্রিকার ব্যবহার এখনো অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু নমনীয় ও হালকা এই খবরের কাগজ দিয়ে কী একটা বাড়ি বানানো সম্ভব?হ্যাঁ, এমনটাই করেছেন এলিস স্টেনম্যান নামের যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যক্তি। সংবাদপত্রের কাগজ দিয়ে বিশালাকারের বাড়ি নির্মাণ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার স্টেনম্যান ১৯২২ সালে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটানোর জন্যে একটি বাড়ি নির্মাণের চিন্তা করেছিলেন। পরবর্তীতে তৈরি করেন এই কাগজের বাড়ি।

পত্রিকার কাগজের তৈরি বাড়িটি অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুয়েটসে রকপোর্ট নামক এলাকায়। এই বাড়ি নির্মাণের সবকিছুতেই খবরের কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি বাড়ির মালিক এর নামও রেখেছেন ‘পেপার হাউস’।
একতলা এই লাল রঙের বাড়িতে ঢুকতেই প্রথমে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা। এরপর বামে মোড় নিলেই চোখে পড়বে খুব সাধারণ এক লগ কেবিন বা কাঠের কক্ষ। কিন্তু আসলে তা নির্মিত হয়েছে সাধারণ কাগজ দিয়ে। অন্য আর দশটা সাধারণ বাড়ির মতোই কাঠের খুঁটি, একচালা ছাদ এবং মেঝে ইত্যাদি দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে স্টেনম্যান নামের এই ব্যক্তির মাথায় নতুন বুদ্ধি খেলে। তিনি পুরনো খবরের কাগজ এক পরতের উপর আর এক পরত কাগজ আঠা দিয়ে লাগিয়ে দেয়াল তৈরি করে ফেলেন। এবং তাতে সুন্দর করে বার্নিশ করে তার ‘পেপার হাউস’ নির্মাণ করেন।বাড়ির দেয়াল বানানোর পাশাপাশি তিনি পরবর্তীতে চেয়ারসহ অন্যান্য জিনিসপত্রও তৈরি করে ফেলেন। আর সেগুলো শুধুমাত্র কাগজ দিয়ে। এমনকি জানালার পর্দা ও দেয়ালের ঘড়িতেও সংবাদপত্রের কাগজ ব্যবহার করেন তিনি। শুধুমাত্র পিয়ানো এবং ফায়ার প্লেসের ইটগুলো ছাড়া সবই কাগজ দিয়ে তৈরি।

এমনকি বাড়িতে ব্যবহৃত আঠাও নিজে তৈরি করেন ঘরে বসে। ময়দা, পানি আর আপেলের খোসা দিয়ে সেই আঠা তৈরি করেন তিনি। কিন্তু কী কারণে স্টেনম্যান তার বাড়িতে সংবাদপত্রের কাগজ ব্যবহার করার ইচ্ছা করেছিলেন তা জানা যায়নি। তবে তার সন্তানরা ধারণা করেন, তিনি খুব সস্তা এবং সহজলভ্য উপাদান দিয়ে কিছু করতে চেয়েছিলেন।

অথবা পুরনো জিনিস হয়তো নতুন করে ব্যবহারের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন তিনি। আবার ধারণা করা হয়, সংবাদপত্রের কাগজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। এমনকি তিনি একটি মেশিনের ডিজাইন করেন যা দিয়ে পেপার ক্লিপস বানানো যায়। মূলত তিনি পরিকল্পনা করেছিলেন, বাড়ির বাইরের অংশ বিশেষ কিছু দিয়ে ঢেকে দিবেন কিন্তু যখন দেখলেন পেপার ক্লিপ দিয়ে বানানো দেয়াল ও ছাদ প্রথমবার শীতের ধকল কাটিকে টিকে গেল তখন অতিরিক্ত নিরাপত্তার খরচের চিন্তা বাদ দেন।

মাত্র দুই বছরের মধ্যেই স্টেনমেন তার কাগজের বাড়ি নির্মাণ শেষ করেন। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত সেখানে বসবাস করেন। প্রায় ১ লাখ সংবাদপত্রের কাগজ ব্যবহার করে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
বর্তমানে নব্বই বছরের অধিক সময় ধরে টিকে থাকা কাগজের বাড়িটির দেয়ালের চটা উঠতে শুরু করেছে। ১৯৪২ সালে স্টেনম্যানের মৃত্যুর পরে বাড়িটি এখন একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে।

ভাসমান গ্রাম

লেক বকোডি। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট শহর থেকে প্রায় ৮০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত বকোডি গ্রাম। সেই গ্রামেই লেক বকোডির অস্তিত্ব। এটি একটি কৃত্রিম লেক, যা ১৯৬১ সালে গড়ে তোলে দেশটির বিখ্যাত বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওরোজলানি থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি’।বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি সেখানে গড়ে তোলে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার কাজ ছিল লেক থেকে ঠান্ডা পানি কারখানায় টেনে এনে তা গরম করে পুনরায় লেকে ফেরত পাঠানো। উদ্দেশ্য, প্রচণ্ড শীতল এই লেকের পানি যেন কখনো জমে বরফ হয়ে না যায়। এমনকি শীতকালেও নয়।

মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে লেকটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মাছ ধরার ক্ষেত্র হিসেবে। যারা মাছ ধরতে ভালোবাসেন তারা সেখানে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মাছ শিকার করতেন।
অল্প কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয়রা এই লেকের পানির মধ্যে গড়ে তোলেন ছোট ছোট কিছু ভাসমান কাঠের নীড়, যা অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ। এসব ঘরে যাতায়াতের জন্য তারা দীর্ঘ কাঠের রাস্তাও তৈরি করেন। ক্রমেই এটি হয়ে ওঠে একটি ভাসমান গ্রাম।


ভাসমান বাড়িঘরের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই লেকটি খুব অল্প সময়ে অত্যন্ত দর্শনীয় হয়ে ওঠে। ইন্টারনেটের সুবাদে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এর ‌সৌন্দর্য। ক্রমেই বাড়তে থাকে বিদেশি পর্যটক ও ফটোগ্রাফারদের ভিড়। স্থানীয়দের কাছে এটি হয়ে ওঠে বাড়তি আয়ের একটি উৎস।
কিন্তু ২০১৫ সালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয় ওরোজলানি থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি। ফলে এই লেকের পানি আর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকে না, ঠান্ডায় জমে যায়। বর্তমানে যা মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলছে এই ‌পর্যটন শিল্পের ওপর।

Saturday, March 18, 2017

বিশ্বের ‘নোংরাতম’ মানুষ

কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ৬০ বছর। এবং এই সময়ে একবারের জন্যও তাঁর গায়ে এক ফোঁটাও জল পড়েনি। অবাক করা ঘটনাই বটে। তবে ‘দ্য তেহরান টাইমস’-এর রিপোর্ট অনুয়ায়ী, ৮০ বছরের আমু হাজি-র এটাই সার সত্য। জল-সাবান গায়ে দেওয়াতে তাঁর ঘোরতর আপত্তি যে রয়েছে, শুধু তাই নয়। ‘স্নান’ শব্দটি শুনলেই হাজির কেমন পাগল পাগল লাগে। দক্ষিণ ইরানের ফারস জেলার একটি পরিত্যক্ত গ্রাম দেজগা। সেখানেই মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়ান বৃদ্ধ হাজি। এত বছরের অপরিষ্কার শরীরে যে মাটির আস্তরণ জমেছে, তাতে মাঝেমাঝে তাঁকে প্রকৃতির উপরে পড়ে থাকা পাথর বলে মনে হয়। এমন ভাবেই হাজিকে বর্ণনা করেছেন আশপাশের গ্রামীণ মানুষজন। নিজের বলতে কেউই নেই আমু হাজির। কানাঘুষো সোনা যায়, যুবক বয়সে প্রেমে আঘাত পেয়েই নাকি এই জীবন বেছে নিয়েছিলেন তিনি। 
আমু হাজির থাকা-খাওয়া বড় অদ্ভুত। শজারুর পচা মাংস খেয়ে পেট ভরান তিনি। আর প্রকৃতির কোলই তাঁর বিছানা। গ্রামের মানুষ ইট দিয়ে একটি ঘরের মত বানিয়ে দিয়েছে তার জন্য। ইচ্ছে হলে বুড়ো হাজি সেখানেও থাকেন মাঝেমধ্যে।বেড়ে যাওয়া চুল-দাড়ি কাটার কোনও প্রশ্নই নেই আমু হাজির। যখন মনে হয় চুল-দাড়ি বেড়ে গিয়েছে, তখন আগুনে পুড়িয়ে দেন। বিশ্বের সব থেকে ‘অপরিষ্কার’ মানুষের খেতাব এখন আমু হাজির কাছেই। এর আগে সেই খেতাবে জয় করেছিলেন ৬৬ বছরের এক ভারতীয়, কৈলাস সিংহ। ৩৮ বছর গায়ে জল-সাবান দেননি সিংহমশায়। 

কিম রাজার দেশের ৭ নিয়ম

১) উত্তর কোরিয়ায় আছে মাত্র তিনটি টিভি চ্যানেল: নরম বিছানায় গা এলিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা একের পর এক চ্যানেল পাল্টানোর বিলাসিতায় যারা অভ্যস্ত, তাঁদের জন্য নরক কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটি। সরকার অনুমুদিত মাত্র তিনটি চ্যানেল বরাদ্দ উত্তর কোরীয় জনগণের জন্য। 
২) অপরাধে হাজতবাস তিন প্রজন্মের: কোনও অপরাধ করলে তার শাস্তি পেতে হবে অপরাধীর তিন প্রজন্মকে। এই নারকীয় বিধানে হাজার হাজার নির্দোষ ব্যক্তির জীবনাবসান হয়েছে অন্ধকার জেলে। 
৩) চুল কাটতে হবে সরকারের নির্দেশ মতো: সেলুনে বসে কেতা করে চুল ছাঁটলে যেতে হবে হাজতে। স্বৈরাচারী কিমের দেশে সরকারের ঠিক করে দেওয়া আঠাশ’টি স্টাইল অনুকরণ করেই চুল ছাঁটতে হয় নাগরিকদের। ২০১৩ সাল থেকে এই নিয়ম চালু করা হয়। 
৪) অনুমতি ছাড়া থাকা যাবে না রাজধানীতে: উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং-এ থাকতে হলে নিতে হবে বিশেষ অনুমতি। ওই দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ রাজধানী। একমাত্র সমাজের উচ্চশ্রেণীর ব্যক্তিরাই ওখানে থাকার অনুমতি পান। 
৫) বাচ্চাদের স্কুলে পাঠালে সঙ্গে দিতে হবে ডেস্ক-বেঞ্চ: শিক্ষার মত মৌলিক অধিকারের জন্য নাগরিকদের দিতে হয় বাড়তি টাকা। শুনলে অবাক হবেন, স্কুলে ভর্তি হতে গেলে সঙ্গে নিতে হবে ডেস্ক-বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু বইয়ের উপর ও জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। 
৬) সঙ্গে বাইবেল রাখলে হবে সাজা: বাইবেল নাকি পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রতিক। তাই উত্তর কোরিয়ায় নিষিদ্ধ এই ধর্মগ্রন্থটি। বাইবেল বিতরণের অপরাধে একবার গুলি করে মারা হয়েছিল এক খ্রিস্টান মহিলাকে।
৭) জনপ্রিয় মার্কিন বহুজাতিক সংস্থার পণ্যে নিষেধাজ্ঞা: বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাপল, সোনি ও মাইক্রোসফটের দ্রব্য নিষিদ্ধ উত্তর কোরিয়ায়। ওই বহুজাতিক সংস্থাগুলির নির্মিত আইফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যে ব্যবহার করলে প্রাণদণ্ডও হতে পারে ওই দেশে। 

Thursday, March 16, 2017

উল্টো রেস্টুরেন্ট

কেউ যখন নতুন কোনো পণ্য মানুষের কাছে তুলে ধরে তখন প্রথম প্রশ্ন ওঠে, মানুষ কেন ওই নতুন পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হবে? তা সেটা খাবার অথবা রেস্টুরেন্ট যাই হোক না কেন। এ কারণে গ্রাহকের কাছে নিজেদের একটু ব্যতিক্রমভাবে উপস্থাপন করতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র অথচ চাপা প্রতিযোগিতা লেগেই থাকে। নিজেদের ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে সর্বক্ষণ চলে সেই প্রতিযোগিতা। কোনো কিছু যদি প্রথমত দেখে ভালো না লাগে তাহলে মানুষ তার প্রতি সহজে আকৃষ্ট হয় না। আর এখন তো মানুষ খোঁজে সব সময় ভিন্ন কিছু। তারা ভাবে তাদের পোশাক থেকে খাবার সবই ভিন্ন হবে। যারা এমন ভিন্ন ও আকর্ষণীয় সব কিছুর খোঁজে রয়েছেন তাদের বলছি, ঘুরে আসুন জার্মানির উল্টো রেস্টুরেন্ট থেকে।
যারা নিউজিল্যান্ডের বল্ডুইন স্ট্রিট দেখেছেন তারা মনে করেন, পৃথিবীর সব আশ্চর্য জিনিস তারা দেখে ফেলেছেন। আসলে তা নয়। সমগ্র পৃথিবীটাই আশ্চর্যরকম জিনিসে ভর্তি। কিছু আশ্চর্য আছে সৃষ্টির জন্মলগ্ন থেকেই, আবার কিছু জিনিস মানুষ নিজেই তৈরি করেছে। ঠিক তেমনি আশ্চর্য এক ক্যাফে তৈরি করা হয়েছে জার্মানিতে। ক্যাফেটিকে প্রথমে বলা হতো ‘টপেলস হাউস’। ‘টপেল’ পদবির একটি পরিবার এই বাড়িটির মালিক। তবে এটি বর্তমানে একটি ক্যাফে। এটির অনন্য বৈশিষ্ট হলো- এই ক্যাফের সব কিছু উল্টো। ভাবছেন মজা করছি, একাবারেই তা নয়।
বাড়ির আদলে এই ক্যাফেটি প্রথমত বাইরে থেকে দেখতে উল্টো। আপনার দেখে মনে হবে বড় কোনো ঝড়ে এটি উল্টে গেছে। যদিও এটি তৈরি করাই হয়েছে এমন করে। আপনাকে এই ক্যাফেতে ঢুকতে হবে একটি এন্টিকের কাজ করা জানালা দিয়ে। তারপর বসার ঘর, শোবার ঘর সব জিনিস উল্টো। এমনকি সিলিং ল্যাম্পগুলো মেঝের সঙ্গে লাগানো। ভেতরে ঢুকে মনে হবে আপনি ছাদে দাঁড়িয়ে আছেন আর সব কিছু আপনার মাথা নিচে।শুধু তাই নয়, এখানে যে গ্লাসে করে কফি অথবা বিয়ার খেতে দেয়া হয় সেটিও উল্টো। সত্যি খুবই চমকপ্রদ এই ক্যাফে। এবং এটি আপনার জীবনে একটি অন্য রকম অভিজ্ঞতার স্মৃতি হয়ে থাকবে।