আজব পৃথিবী

Sunday, January 31, 2016

অন্য রকম বিল্ডিং

১. চারকোনা ঘর
ঘর বা দালান তো চারকোনাই হবে। সেটাই তো সবসময় হয় আর হয়ে এসেছে। কিন্তু কানাডার হ্যাবিটেট ৬৭ নামের এই দালানটি কেবল একটি চারকোনা নয়, বরং বিশাল বিশাল অনেকগুলো চারকোনা ঘরের সমষ্টি। আর সেই ঘরগুলো মোটেই অন্যান্য স্বাভাবিক দালানের মতন এক সারিতে দাড়িয়ে নেই। অনেকটা বাচ্চারা কিউব খেলার সময় যেমন উল্টো-পাল্টা অনেকগুলো চারকোনা অংশ এখানে সেখানে জোড়া দিয়ে দেয়, এ দালানটির অবস্থাও অনেকটা সেরকম। তবে অনেক বেশি অন্যরকম হলেও বাস্তবে এখানে বসবাস করতে খুব একটা সমস্যা হয়না কারো। এই আর্টিকেলের প্রচ্ছদে দেখে নিন এই দালানের ছবিটি।
২. আঁকাবাঁকা দালান
ভাবছেন দালান- সে আর কত আঁকাবাঁকা হতে পারে? এর আগের নাচুনে দালানটাওতো বাঁকাই ছিল। তাহলে? হ্যাঁ, সেটা তো বাঁকা ছিলই। তবে এ বাঁকা দালানটা একটু অন্যরকমেরই বাঁকা। প্রথম দেখায় পুরোপুরি কার্টুনের জগত্ থেকে তুলে আনা কোন ঘরই মনে হবে দালানটিকে। অনেকটা পানির ঢেউ এর মতন এঁকেবেঁকে দোল তোলা অদ্ভূত এ দালানটি নির্মিত হয় ২০০৩ সালে। জ্যান মার্কিন জেনসার ও পার ডাহলবারের চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পোল্যান্ডের সপোটে নির্মান করা হয় দালানটি। যেটি কিনা বর্তমানে ক্রুকড হাউজ বলেই বেশি পরিচিত।
৩. নাচুনে দালান
দুপাশের দুটো স্বাভাবিকভাবে দাড়িয়ে থাকা দালানকে মাঝখান থেকে অনেকটা নাচের ভঙ্গীতে দাড়িয়ে রয়েছে কোমর বাঁকানো এক দালান। জড়িয়ে রয়েছে পাশের দালানটাকে। শুনতে অদ্ভূত লাগছে? সত্যিই অবাক করা এই নাচুনে দালানটি আছে আর প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করে চলেছে হাজার হাজার দর্শককে চেক রিপাবলিকের প্রাগের দিকে। আজ থেকে অনেক বছর আগে ভিন্ন কিছু করার চিন্তা থেকেই ফ্রাঙ্ক গেহরীর সহযোগিতায় এই দালানকে নাচতে শেখান আরেক স্থপতি ভ্লাডো মিলুনিক। সেই শুরু! আজ অব্দি পৃথিবীর অদ্ভূত আর রোমান্টিক দালানের তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছে এই নাচুনে দালান।
 ৪.পাথরে চ্যাপ্টা দালান
পাথর দ্বারা নির্মিত দালান নিশ্চয় দেখেছেন এর আগে। দেখেছেন পাথরের তৈরি গুহাও। কিন্তু এমন কোন দালান কি দেখেছেন যেটাকে প্রথম দেখায় মনে হবে পাথরের ভেতরে পড়ে চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া কিছু একটা? দেখে না থাকলে চলে যান পর্তুগাল আর দেখে নিন পাথরের তৈরি এই অদ্ভূত স্থাপনাকে। দালানটির আর সবকিছু স্বাভাবিক আর দশটা দালানের মতন হলেও এর চারপাশে ঘিরে রয়েছে বিশাল বিশাল কিছু পাথর। যেগুলো কেবল ঘিরে থেকেই সন্তুষ্ট হয়নি, অনেকটা মিশে গিয়েছে দালানটির সাথে। পিষে দিয়েছে। কোথাও কোথাও দেয়ালের তোয়াক্কাও করেনি। তবে পাথরের গায়ে গা মিশিয়ে থাকুক কিংবা অন্যকোনভাবেই থাকুক, পাথরে চ্যাপ্টা হওয়া পর্তুগালের এই দালানটিতে নিরাপত্তার কোন অভাব হবেনা আপনার। একেতো পাথরে তৈরি। তারওপর রয়েছে বুলেটপ্রুফ জানলা আর ইস্পাতের দরজা!

১২২ যমজের বাস একটি গ্রামেই

ইউক্রেনের একটি ছোট্ট গ্রাম। জনসংখ্যা ৪ হাজার। নাম 'যমজ ভূমি'। নামের বিশেষত্ব এই গ্রামে বাস করে বিশ্বের সবচেয় বেশি যমজরা। সংখ্যাটা ১২২। যা বিশ্বের আর কোথাও নেই। ৬১ জোড়া জমজের বাসস্থান 'যমজ ভূমি' আগেই ইউক্রেনের রেকর্ড বুকেও নাম লিখিয়েছে।এবার চলতি বছরের মে মাসে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও নাম লেখাতে যাচ্ছে এই গ্রামটি। ২০০৪ সালে ওই গ্রামে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক যমজের জন্ম হয়েছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রতি বছরেই ওই গ্রামে এক থেকে দুটি করে যমজ সন্তানের জন্ম হয়।

২৮ বছর পর শহরে প্রথম সন্তান

দীর্ঘ ২৮ বছর পর এই প্রথম এক নবজাতকের জন্ম হয়েছে ইতালির উত্তরাঞ্চলের শহর ওসটানায়।  তার নাম রাখা হয়েছে পাবলো। গত সপ্তাহে তুরিন নামের এক হাসপাতালে পাবলোর জন্ম হয়েছে। তার জন্মের মধ্য দিয়ে শহরের জনসংখ্যা একজন বেড়ে দাঁড়াল ৮৫। ইটালির সংবাদপত্র ‘লা স্টাম্পা’র খবরে এ তথ্য জানা যায়।ওসটানার মেয়র গিয়াকোমো লোমবার্দো জানান, গত শতকের শুরুতে এই শহরে জনসংখ্যা ছিল এক হাজারের মতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শহরের জনসংখ্যা কমতে থাকে। ১৯৭৫ সাল থেকে শহরের জনসংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে। পরের ১০ বছরে, ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে এই শহরে জন্ম নেয় মাত্র ১৭টি শিশু।ইতালির প্রায় সব ছোট শহরে জনসংখ্যা কমছে। এর কারণ তরুণরা কাজের সন্ধানে ছোট শহর ছেড়ে পাড়ি জমাচ্ছে বড় শহরে। নতুন শিশু পাবলোর বাবা জোসে ও মা সিলভিয়াও বছর পাঁচেক আগে এ শহর ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু শহরের পাশে পাহাড়ে চাকরি পেয়ে যাওয়ায় তারা থেকে যান।

মাত্র ১১ মিনিটে লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক

চার্লস বম্বারডিয়ার একটি হাইপারসনিক জেট বিমানের নমুনা নকশা করেছিলেন যেটা কিনা ম্যাক-১০ গতিবেগে (শব্দের চেয়ে ১০ গুণ গতিতে) চলতে পারে। স্কিমার নামের এই বিমানটি লন্ডন শহর থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে নিউইয়র্কে পৌছুতে পারবে মাত্র দেড় ঘণ্টায়। কিন্তু চার্লস এবার আরেকটি হাইপারসনিক বিমান তৈরির কথা জানিয়েছেন। এটা লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক যেতে পারবে অবিশ্বাস্য ১১ মিনিটে। চার্লস বম্বারডিয়ার কানাডার এয়ারক্র্যাফট কোম্পানি বম্বারডিয়ার ইন করপোরেশানের সাথে যুক্ত। তিনি বলেছেন, এই নতুন বিমানটির গতিবেগ পৌঁছাবে ম্যাক-২৪। এই গতি স্কিমারের গতির দ্বিগুণেরও বেশি এবং কনকর্ড বিমানের চেয়ে ১২ গুণ বেশি। তত্ত্বমতে তিনি দাবি করেছেন, এই বিমান এক ঘণ্টারও কম সময়ে ২০ হাজার কিমি ভ্রমণ করতে পারবে ১০ জন যাত্রী নিয়ে। 
কানাডার এই বিমান প্রকৌশলী হাইপারসনিক স্কিমারের নকশা করেছিলেন গত বছর। চার ডানার ঐ বিমান ৭৫ জন যাত্রী নিয়ে ম্যাক-১০ গতিতে চলতে সক্ষম। কোন বিমানের গতি যদি শব্দের গতির চেয়ে বেশি হয় তাকে বলা হয় সুপারসনিক বিমান। কিন্তু সেই গতিবেগ বেড়ে যদি শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ হয় তাহলে সেটাকে বলে হাইপারসনিক বিমান। ম্যাক-১ গতি হচ্ছে ঘণ্টায় গড়ে ১১৯৫ কিমি। এটাই শব্দের গতি। যে বিমান ম্যাক-২ গতিতে চলে তার গতি শব্দের দ্বিগুণ। 

দুই বউ ঘরে না আনলে সারা জীবন জেল

আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এরিত্রিয়ার সমস্ত পুরুষকে ন্যূনতম দু’টি বিবাহ করতেই হবে। যদি দেশের কোনও পুরুষ বা নারী এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান, তা হলে শাস্তি হবে যাবজ্জীবন জেল।একে চন্দ্র, দুয়ে পক্ষ। এক্ষেত্রে প্রথম পক্ষ এবং দ্বিতীয় পক্ষ, দুটোই বাধ্যতামূলক। এমনই আজব আইনে সিলমোহর দিল এরিত্রিয়া সরকার।আরবিক দেশগুলির মধ্যে এরিত্রিয়াতেই শুধুমাত্র এমন আজব আইন জারি করা হয়েছে। রীতিমতো ধর্মীয় আইনের মাধ্যমে এই নির্দেশকে মান্যতা দিলেন গ্র্যান্ড মুফতি।আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এরিত্রিয়ার সমস্ত পুরুষকে ন্যূনতম দু’টি বিবাহ করতেই হবে। যদি দেশের কোনও পুরুষ বা নারী এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান, তা হলে শাস্তি হবে যাবজ্জীবন জেল।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশে পুরুষের আকাল পড়েছে। এর আগে দীর্ঘদিন ইথিওপিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের কারণে অনেক পুরুষ হারিয়েছে এরিত্রিয়া। ক্রমশ পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে এই দেশ। তাই দেশের স্বার্থেই এই আইন বলবৎ করল সরকার।

Thursday, January 28, 2016

ধূমপানে দীর্ঘায়ু!

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মরণব্যাধি ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের কারণ ধূমপান। চিকিৎসকদের এই সতর্কবাণী সবারই জানা। কিন্তু নেপালে ১১২ বছরের এক বৃদ্ধা দাবি করছেন, ধূমপান করলে মানুষ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। তার প্রমাণ তিনি নিজে। ৯৫ বছর ধরে তিনি ধূমপান করছেন। ধূমপানের কারণেই নাকি এত দীর্ঘদিন বেঁচে আছেন তিনি! বুধবার দি সান পত্রিকা এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, বাতুলি লামিচান নামের ওই নারী প্রতিদিন ৩০টির বেশি সিগারেট খান। এভাবেই ধূমপান করে আসছেন ৯৫ বছর ধরে। এই ধূমপানের জন্যই তিনি এত দিন বেঁচে আছেন!
১৯০৩ সালে জন্ম নেয়া এই নেপালি নারী ১৭ বছর বয়সে  ধূমপানে আসক্ত হন। বাতুলির ভাষ্য, “আমার বয়স কত তা কখনোই গ্রাহ্য করি না। আমার দীর্ঘ জীবনে অনেক পরিবর্তন দেখেছি। আমি ৯৫ বছর ধরে ধূমপান করছি। ধূমপানে আসলেই কোনো ক্ষতি নেই।”ধূমপানের ঝুঁকি সম্পর্কে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সতর্কবাণীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাতুলি নিয়মিতই ধূমপান করে যাচ্ছেন। তবে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি সিগারেট না খাওয়ার জন্য ধূমপায়ীদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বাতুলি নিজেও এই ধরনের সিগারেট এড়িয়ে চলেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি ‘বিডিস’ নামের এক ধরনের সিগারেট খান তিনি। এর ভেতরে টেন্ডু নামের এক পাতা থাকে, যা তামাকপাতা দিয়ে মোড়ানো থাকে।   বাতুলির স্বামী আট দশক আগে তাকে ছেড়ে ভারতে চলে যান। তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় ছেলের বয়স ৮৪ বছর। অন্য চার সন্তান অনেক আগেই মারা গেছে। গত বছরের ভয়াবহ ভূমিকম্পে বাতুলির বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর থেকে একটি মন্দিরে বসবাস করছেন তিনি। বাকি জীবনটা এখানেই কাটানোর বাসনা তার।বাতুলি মনে করেন, আধুনিক যুগের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি হতাশা ও চাপের মধ্যে থাকে। তারা বেশি কাজ করতে পারে না। বৃদ্ধ বয়সে অলস হয়ে যায় তারা। ফলে তারা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে না।বাতুলির কথামতে, দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে হলে আপনাকে হতে হবে কর্মক্ষম। একই সঙ্গে হতাশা ও চাপমুক্ত জীবন যাপন করতে হবে। সব সময় আপনাকে হাসিখুশি ও সুখী থাকতে হবে। তাহলেই দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন আপনি।

Tuesday, January 26, 2016

হারিয়ে যাওয়া প্রেম ফিরে এল ৭০ বছর পর

সালটা ১৯৪৪। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাথায় নিয়ে দিন কাটছে পৃথিবীর। তখন সদ্য ২১ পেরিয়েছেন নরউড থমাস। তিনি প্রেমে পড়েছিলেন সপ্তদশী জয়েস মরিসের। যুদ্ধ তাঁদের দূরে সরিয়ে দেয়। এতো পর্যন্ত এই গল্পে অভিনবত্ব কিছুই নেই। ছিলও না। অন্তত গত ৭২ বছর। আর তারপর? হঠাত্ পূণর্মিলন। হ্যাঁ। প্রেম পরিণতি না পেলেও হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকাকে খুঁজে পেয়েছেন ৯৩ বছরের থমাস।
অস্ট্রেলিয়ায় নিজের বাড়িতে বসেই ছেলের কাছে বায়না ধরেন ৮৮ বছরের মরিস। অনলাইনে খোঁজ করতে হবে হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকের। খুঁজেও পেয়ে যান। মরিসকে খুঁজে পেয়েই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান থমাস। শুধু এক বার জড়িয়ে ধরবেন। তাঁদের স্বপ্নপূরণে এই সপ্তাহে স্কাইপ কল সেট আপ করেছিলেন থমাসের ছেলে স্টিভেন থমাস ও মরিসের ছেলে রবার্ট মরিস। তারপরই তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্কাইপ। থমাসকে লন্ডন থেকে অস্ট্রেলিয়ার ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডে পৌঁছে দিতে পারে তার জন্য ফান্ডরেজিং ক্যাম্পেন শুরু হয়েছে স্কাইপে। কী কথা হয়েছিল দু’জনের? স্কাইপ চ্যাট বলছে,
থমাস: তুমি আমাকে দেখতে পাচ্ছো?
মরিস: না, আমি পরিষ্কার দেখতে পাই না।
থমাস: আচ্ছা, আমি বলছি, আমি হাসছি…
সাত দশক পর মরিসের মুখে ‘টমি’ ডাক শুনে আপ্লুত হয়ে পড়েন থমাস।