আজব পৃথিবী

Wednesday, November 25, 2015

১১০ বছর বয়সে ছেলে সন্তানের বাবা

চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেকটা বিস্ময় সৃষ্টি করে ১১০ বছর বয়সে ফুটফুটে একটি পুত্রসন্তানের জনক হয়ে সবাইকে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মৌলভি আবুল ওয়ালা খান।১০০ বছরেরও বেশি বয়স পার করায় এখন খুব ভালো চোখেও দেখতে পাননা তিনি। তবে তার এই বয়সে পুত্র সন্তানের বাবা হতে পেরে তিনি বেজায় খুশি তা তাকে দেখেই বোঝা গিয়েছে। নিজের পুত্রসন্তানের জন্মের খবর শোনা মাত্র আর এক মুহূর্ত দেরি করেননি ছুটে চলে এসেছেন হাসপাতেলে তার ফুটফুটে ছেলে সন্তানটিকে দেখতে। এ সময় সিএনজি থেকে হেঁটে হাসপাতালে প্রবেশ করতে অন্যের সাহায্য নিতে দেখা গেছে বৃদ্ধ আবুল ওয়ালাকে।

অপরদিকে এই বয়সে ছেলে সন্তানের বাবা হয়ে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি করা খবরটি শুনে হাসপাতালে এসে বাচ্চাটিকে এক নজর দেখতে ভির জমাতে শুরু করে তার গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের শত শত মানুষ।নিজের সঠিক জন্মতারিখ এবং প্রকৃত বয়স জানাতে না পারলেও আবুল ওয়ালা জানিয়েছেন, তার শত বছর বয়স পেরিয়েছে আরো ১০ বছর আগেই। সেই হিসেবে তার বর্তমান বয়স ১১০ বছর।আবুল ওয়ালার প্রথম স্ত্রী মারা গেছেন ৩৫ বছর আগে, তার বয়স যখন ৭৫ বছর। এরপর দীর্ঘদিন সন্তানসন্ততি আর নাতিপুতি নিয়ে থাকলেও আট বছর আগে মৌলভি আবুল ওয়ালা দ্বিতীয় বিয়ে করেন নূরনাহার বেগমকে। ওই সময় তার স্ত্রীর বয়স ছিল ২৭ বছর। বর্তমানে নূরনাহার বেগমের বয়স ৩৫ বছর।

১১০ বছরের আবুল ওয়ালা আর ৩৫ বছরের নূরনাহার দম্পতির সংসারে রোববার রাতে সন্দ্বীপ মেডিক্যাল সেন্টারে জন্ম হয়েছে ফুটফুটে একটি পুত্রসন্তানের। কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই নূরনাহার বেগমের স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে বলে জানা গেছে।চিকিৎসক ডা. রিয়াজ উদ্দীন (রুবেল) জানান, চিকিৎসাশাস্ত্রে সাধারণত ৭০-৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত একজন পুরুষের শুক্রাণু সক্রিয় থাকে। তবে তার এই বয়সে সন্তানের বাবা হওয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেকটা বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।এ সময় স্বাভাবিক একটি শিশু জন্ম দেওয়ার পর মা ও শিশু উভয়ই সুস্থ রয়েছেন বলে চিকিৎসক রুবেল নিশ্চিত করেন।উল্লেখ্য, মৌলভি আবুল ওয়ালা সন্দ্বীপ উপজেলার হরিশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার আগের সংসারে অনেক বয়স্ক নাতিপুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বয়সী দম্পতি

থিবীর সবচেয়ে বেশি বয়সী দম্পতির সন্ধান পাওয়া গেছে।  বর ব্রিটিশ নাগরিক জর্জ কিরবি (১০৩) এবং কনে ডরেন লাকি (৯১)। তারা অফিসিয়ালি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বয়সী নতুন বিবাহিত দম্পতি। বিয়ের দিন তাদের দুইজনের মিলিত বয়স ছিল ১৯৪ বছর ২৮০ দিন।গত জুন মাসে তারা দুইজন ইস্ট বোর্নের লাঙ্ঘাম হোটেলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সেদিন জর্জের ১০৩ তম জন্মদিন ছিল। তবে তাদের বিবাহের বয়স গিনেস রেকর্ডে ভেরিফাইড হওয়ার জন্য পাঁচ মাস সময় লেগে গেল। পূর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সে বিয়ে করার রেকর্ড করেছিলেন ১৯১ বছর ১২৬ দিনের এক দম্পতি।১৯৮৮ সাল থেকে জর্জ ও ডরেন বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু এবার তাদের ছেলেমেয়ের জোরাজোরিতে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।জর্জ এ বছরের ভ্যালেন্টাইন ডে সম্পর্কে বলেন, তিনি ডরেনকে হাঁটু গেড়ে বসে প্রপোজ করেননি, কারণ তিনি চিন্তা করেছিলেন হাঁটু গেড়ে বসলে হয়ত তিনি উঠে দাঁড়াতে পারবেন না। তাদের দুইজনের ঘরে সাতজন ছেলেমেয়ে এবং ১৫ জন নাতিনাতনি রয়েছে।

Tuesday, November 24, 2015

যাওয়া যায় না বিশ্বের এমন সাতটি জায়গা

নর্থ ইয়র্কশায়ারের রয়্যাল এয়ারফোর্স স্টেশন। এখান থেকেই তথভ পাঠানো হয় মার্কিন ও ব্রিটিশ আর্মিকে। কিছু কিছু স্যাটেলাইট আমেরিকার এনএসএ কন্ট্রোল করে। এটাই বিশ্বের সবথেকে বড় ইলেট্রিক মনিটরিং সিস্টেম।
পাইন গ্যাপ হল এমন একটি জায়গা যেখান থেকে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে তাদের স্পাই স্যাটেলাইট কন্ট্রোল করে। যেসব স্যাটেলাইট চিন ও রাশিয়ার কিছু অংশে নজরদারি চালায়। সেখানে ঢুকতে গেলেই একটি সাইনবোর্ডে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া থাকে যে সেখান থেকেই যেন গাড়ি ঘুরিয়ে নেওয়া হয়।
নর্থ সেন্তিনেল আইল্যান্ড হল আন্দামান নিকোবর দ্বিপপুঞ্জের একটি দ্বীপ। এখানে বসবাস করে সেন্তিনেল প্রজাতির মানুষ। তারা বিশ্বের শেষ প্রজাতি যারা এখনও পর্যন্ত বহির্জগতের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ না রেখেই জীবন ধারণ করে।
রাশিয়ায় মাটির তলায় একটি গুপ্ত জায়গা রয়েছে যেখানে সুড়ঙ্গ দিবে রাশিয়ার যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যাওয়া যায়। সুড়ঙ্গটির নাম মেট্রো ২। রাশিয়ার প্রশাসন কখনও এই সুড়ঙ্গের কথা স্বীকারও করে না আবার অস্বীকারও করে না।
ব্রিটেনের রাণীর শয্যাগৃহ। যেখানে কখনই প্রবেশ করা সম্ভব নয়। বাকিংহাম প্যালেসের অন্যান্য জায়গায় যাওয়ার অনুমতি থাকলেও রানীর শয্যাগৃহ পাহারা দেয় স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড।
একসময় মানুষ থাকত ইতালির পোভেগ্লিয়া আইল্যান্ডে। কিন্তু একসময় দ্বীপটা শূন্য হয়ে যায়। মনে করা হয় আপাতত ভূতেদের আখড়া ওই দ্বীপ। তাই ওখানে প্রবেশ নিষেধ।
ক্যাথলিক চার্চের অনেক গোপন নথি রয়েছে ভ্যাটিকান সিটির গোপন আর্কাইভে। তাই পোপ ও কয়েকজন অত্যন্ত মেধাবী মানুষ ছাড়া কারও প্রবেশ নিষেধ ওই গোপন জায়গায়।

যেসব গহীন রহস্য সাগরের বুকে লুকিয়ে আছে

পানির প্রতি টান মানুষের স্বভাবজাত। সৃষ্টির সেই শুরু থেকে বেঁচে থাকার পাশাপাশি মনের ক্ষুধা মেটাতেও পানির ওপরে নির্ভর করে আসছে মানুষ। আর সেটা যদি হয় সাগরের নীলচে লবণাক্ত পানি তবে তো কোনো কথাই নেই! পানের উপযোগী না হলেও মনকে সতেজ করে তুলতে যুগের পর যুগ সাহায্য করে এসেছে সাগর। অসাধারণ সব সৌন্দর্যের ভান্ডার সাজিয়ে রেখেছে নিজের গভীর বুকের মাঝে। শুধু সৌন্দর্যই নয়, সাগরের অতল গভীরতার ভেতরে লুকিয়ে আছে অনেক অনেক রহস্যও! এমন কিছু অমীমাংসিত রহস্য চুপটি করে লুকিয়ে আছে সাগরের মাঝে যেগুলোর কোনো ধরণের সমাধান আজ অব্দি পাওয়া যায় নি। আসুন জেনে নিই সাগরের এমনই কিছু অদ্ভূত রহস্যের কথা।
১. ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেল
পৃথিবীতে মোট ১২ টি এমন স্থান রয়েছে বলে মনে করা হয় যেখানে এর চৌম্বকীয় আকর্ষণ প্রচন্ড বেশি। আর এমনই এক স্থান হচ্ছে ডেভিলস সী বা শয়তানের সাগরের ভেতরে অবস্থিত ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেল। জাপান আর বোনিন দ্বীপের মাঝখানে সাগরের মাঝে অবস্থিত এই স্থানটিকে জাপানীরা সবসময়ই ড্রাগনের আস্তানা বলে ভেবে এসেছে। জাপানিজ পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এখানে এক ভয়ঙ্কর ড্রাগন বাস করে যার ক্ষুধা দূর করা একেবারেই সম্ভব না। আর তাই প্রায়ই সেটা নিজের কাছে আসা জাহাজ আর মানুষকে খেয়ে ফেলে। নিজের ক্ষুধা মেটায়। সেই থেকে এর নাম হয়ে গিয়েছে ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেল। ১২০০ শতাব্দীর দিকে কুবলাই খান বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছেন জাপানকে দখলে নিতে। এগোতে চেয়েছেন শয়তানের সাগরের মাঝ দিয়ে। প্রতিবারেই ব্যাপক সংখ্যক মানুষ আর জাহাজ হারাতে হয়েছে তাকে।শুধু তিনিই নন, আজ অব্দি অগণিত জাহাজ আর উড়োজাহাজ স্রেফ হাওয়া হয়ে গিয়েছে এখানটায় এসে। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের বিপরীতে অবস্থিত হলেও ঠিক ওটার মতনই রহস্য জমা হয়ে আছে ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেলকে ঘিরেও। কারো কারো মতে মাঝে মাঝেই এক রহস্যময় নারীকে দেখতে পাওয়া যায় সাগরের ঐ বিশেষ জায়গাটিতে। ১৯৫০ সালে ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেলকে অনিরাপদ বলে ঘোষণা দিলেও এরপর অনেকেই চেষ্টা করেছেন এখানকার রহস্য ভাঙতে। আর তাদের ভেতরে একজন 'ল্যারি কুছে' নিজের বইয়ে জানান, ওখানে আর কিছুই না, রয়েছে এক বিশাল আগ্নেয়গিরি। আর যতসব রহস্যময় উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে আজ অব্দি সবগুলোর পেছনে হাত রয়েছে একমাত্র ঐ সমূদ্র আগ্নেয়গিরিরই!
২. বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল
ব্যাপারটা অনেকটা একই রকম। ঠিক গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের মতনই আরেকটা ট্রায়াঙ্গেল খুঁজে পাওয়া যায় সমূদ্রের ভেতরে। যেখানটায় একের পর এক ঘটে যেতে থাকে অদ্ভূত সব ঘটনা। হাওয়া হয়ে যেতে থাকে এক এক করে অনেক মানুষ, বিমান, জাহাজ- সবকিছু! কি আছে এমন ওখানে? কি ওটার রহস্য? আজও জানতে পারেনি কেউ। শয়তানের ট্রায়াঙ্গেল নামে পরিচিত রহস্যময় স্থানটিতে ভিনগ্রহবাসীদের হাত আছে বলে মনে করেন অনেকে। নির্দিষ্ট করে কোন স্থানটিতে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল আছে সেটা বলা যায় না। তবে অতলান্তিক মহাসাগরের ভেতরেই কোন একটা জায়গায় আছে সেটা। অনেকের অনেক মত আছে একে নিয়ে।
তবে অনুসন্ধানকারী লেখক কুছে জানান কোন একটামাত্র কারণকেই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্য বলে মনে করাটা বোকামি। এরচাইতেও বড় বোকামি হচ্ছে যতগুলো জাহাজ হারিয়েছে সেগুলোর সবগুলোকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের শিকার বলে ধরে নেওয়া। হতেও তো পারে সেটা অন্য কোন কারণে হারিয়ে গিয়েছে বা ধ্বংস হয়েছে। তবে যে যাই বলুক, এখনো পর্যন্ত ব্যাপারটা ঠিক সেখানটাতেই আটকে আছে যেখান থেকে একদিন এটার শুরু হয়েছিল।
৩. আর্কটিক সাগরের রহস্য
জাহাজ আর মানুষকে উধাও করে দেওয়ার ব্যাপারে এগিয়ে আছে যে তৃতীয় সাগরটি সেটা হচ্ছে আর্কটিক সাগর। প্রায়ই কোনো না কোনো কারণে হুট করে উধাও হয়ে যাচ্ছে এর ওপর দিয়ে ভাসতে থাকা জাহাজেরা। তবে মাঝে মাঝে জাহাজগুলো বেঁচে গেলেও রক্ষা পাচ্ছেনা এর ভেতরের মানুষ। ১৮৭২ সালে সাগরের ওপর হঠাৎ মেরি ক্যালেস্টে জাহাজটিকে দেখতে পাওয়া যায়। সওদাগরী জাহাজটিতে প্রচুর খাবার আর ঠিক স্থানে ঠিক জিনিসপত্র বজায় থাকলেও কেবল ছিল না ভেতরের মানুষগুলো। সবকিছু ফেলে মাঝ সাগরে কোথায় গেল তারা? প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি আজও। সেই শুরু।এরপর এইচএমএস সাপ্পোহ, ইউএসএস সাইক্লোপস, এমভি জয়তা, ফ্লাইং ডাচম্যান, বেচিমো, ক্যারোল এ. ডেরিং, লেডি লোভিবন্ড ও অক্টাভিয়াসের মতন বিখ্যাত সব ভুতূড়ে জাহাজের জন্ম দিয়েছে সাগরটি। কখনো মানুষ উধাও, কখনো মানুষ সহ জাহাজ। কখনো ছায়াময় ভুতূড়ে জাহাজের উত্পত্তি আবার কখনো পাগল কিছু মানুষকে উপহার দেওয়া- এভাবেই এখন পর্যন্ত নিজের রহস্যকে বজায় রেখেছে আর্কটিক। যেগুলোর উত্তর জানে না কেউ!

Monday, November 23, 2015

বর, কনে, পাদ্রি সবাই যমজ!

যমজ দুই বোনের সাথে যমজ দুই ভাইয়ে বিয়ের খবর হয়তো আপনারা শুনে থাকবেন। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বর যমজ, কনে যমজ, বিয়ে যারা পড়িয়েছেন তারাও যমজ?এমনকি একই বিয়ের অনুষ্ঠানে বর ও কনে পক্ষের সাথে আরও দুই জোড়া যমজ শিশুও ছিল। এ রকমই একটি বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ভারতের কেরালায়। সেখানে দুই যমজ বোন বিয়ে করেছেন অন্য একটি পরিবারের দুই যমজ ভাইকে। আর তাদের বিয়ে পড়িয়েছেন গির্জার দুই যমজ পাদ্রি।আর তাদের সাথে ছিল যমজ ফুল বালিকা এবং যমজ পেজবয় (বিয়ের সময় কনের সাথে থাকে)। আর তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় পুলুর সেন্ট জেভিয়ার্স চার্চে।তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরও কোনো যমজ ছিল কি না তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে থাকলেও অবাক হবার কিছু নেই।

তিন বোনের এক স্বামী!

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ঘটনা। তিন বোনের স্বামী একজন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ বছরের জোয়ে ড্রেজার ক্রোয়ারট্রেট একে একে তিন বোনকে বিয়ে করেছেন। এই দম্পত্তি যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেকে বসবাস করছেন। বর্তমানে তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২৪ জন। জোয়ের স্ত্রী তিনজন হলেন- প্রথম স্ত্রী ভিকি ড্রেজার (৪২), দ্বিতীয় স্ত্রী এলিনা (৪১) ও তৃতীয় স্ত্রী ভেলেরি (৪২)। এর মধ্যে ভিকি ড্রেজার এবং ভেলেরি ড্রেজার আপন দুই বোন। অন্যজন এলিনা তাদের কাজিন।
জোয়ে প্রথম বিয়ে করেন ভিকিকে। পরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এলিনাকে এবং সবশেষ ২০০০ সালে তৃতীয় বিয়ে করেন ভেলেরিকে। প্রথম বিয়ের ২৫ বছর পর সবশেষ বিয়ে করেন। তিন বোনই ধর্মীয় রীতি ও বিধান মেনে জোয়েকে বিয়ে করেন।
জোয়ের বয়স যখন ১৮ বছর তখন থেকেই ভিকি এবং এলিনার সঙ্গে প্রেম শুরু। এরপর ডেটিং। আর ১৯৯০ সালে ধর্মীয় রীতিতে দুই জনকে বিয়ে করেন।স্ত্রী তিনজন হলেও সংসারে বেশ শৃঙ্খলার মধ্যেই জোয়ে ড্রেজার তাদের সময় দেন। প্রতিদিন বিকালে অফিস থেকে ফিরে একজন একজন করে তার স্ত্রীদের সময় দেন তিনি। এজন্য প্রত্যেকের নিজস্ব একটি করে বেড়রুম রয়েছে।
জোয়েকে নিয়ে প্রথম স্ত্রী ভিকি বলেন, একইদিনে জোয়ে এলিনাকে বিয়ে করেন। বিয়েতে আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম। আমাদের গোত্রে কোনো ধর্মীয় বিষয় আদালতের বিধান মতো কাজ করে না। তবে আমরা জানি এটি একটি বড় দায়িত্ব এবং চ্যালেঞ্জ। আমাদের গোত্র এবং সংস্কৃতির অংশ হলো প্রত্যেক যুগলকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা বহুবিবাহ করতে চায় এবং একের অধিক স্ত্রীকে বিয়ে করতে চায়।
জোয়ে হলেন কট্টর মর্মোন ধর্মের মানুষ যা ১৮৮০ সালে আমেরিকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই ধর্মের মানুষরা বহুবিবাহ এবং বড় পরিবারে বিশ্বাস করে। ভেলেরি এবং এলিনা এক সঙ্গে ফ্যামিলি ক্লিনিংয়ের ব্যবসা করেন।
তারা বলেন, জোয়ের ভেলেরিকে বিয়ে করা আমাদের কাছে বিরক্তিকর ছিল না। আমরা তাকে সম্মতি দেই বিয়ে করার জন্য। তিনি যেন একজন ভালো স্বামী হন। যা আমরা সবসময় আশা করি।
এদিকে ভেলেরি বলেন, আমি এবং ভিকি যখন তরুণ ছিলাম তখন আমরা একই পুরুষকে পছন্দ করতাম, তিনি হলেন জোয়ে। তিনি বলেন, আমি চিন্তা করেছিলাম আমরা একজনকেই স্বামী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি এবং তা খুবই ভালো একটি বিষয়।
এ প্রসঙ্গে ভিকি বলেন, আমরা জানি কিছু মানুষ আমাদের তিন বোনের এক স্বামী হওয়াকে ভালোভাবে নেয়নি। তিন বোনের একজন স্বামী এটা আমাদের জন্য খুবই ভাল। কারণ আমরা একে অপরকে ভালোভাবে বুঝতে পারি।
স্ত্রীদের নিয়ে জোয়ে বলেন, এলিনা এবং ভিকি ছিল খুবই ভালো বন্ধু। তারা সবসময় আমাকে তাদের সঙ্গী করার চেষ্টা করতো। আমিও চেষ্টা করতাম তাদের সঙ্গে একটি ভালো বন্ধুত্ব করার। আমি দুজনের প্রতি আকষর্ণ বোধ করতাম এবং আমি জানতাম, তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সম্পর্ক করতে হয় কীভাবে।
ভিকি এবং এলিনা ১০ বছর বয়সেই জোয়েকে বিয়ে করেন। আর তারা দুইজন জোয়েকে অনুপ্রাণিত করতেন যাতে ভেলেরির সঙ্গে সম্পর্ক হয়। ভেলেরি তার আগের বয়স্ক স্বামী ডোনাল্ডকে ডিভোর্স দেন। এর কারণ হলো ডোনাল্ডের ছয় জন স্ত্রী ছিল। আর তিনি ছিলেন জুয়াখোর এবং বদমেজাজি। এরপর থেকেই ভেলেরি জোয়ের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। একদিন বিকালে ভিলেরি জোয়ের প্রতি ভালবাসা ব্যক্ত করেন এবং তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন।
এ প্রসঙ্গে এলিনা বলেন, আমি যখন শুনলাম ভেলেরি আমাদের পরিবারের সদস্য হবেন। তখন আমি খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম। আগে থেকেই তার প্রতি আমার ভালোবাসা ছিল। তবে নতুন এই সম্পর্ক আমাদের পুরানো সম্পর্ককে আরও নতুন মাত্রা দিয়েছে।

Sunday, November 22, 2015

শরণার্থীদের জন্য দ্বীপ

সিরিয়ান শরণার্থীদের সহায়তায় পুরো একটি দ্বীপ কিনতে যাচ্ছেন মিশরীয় ধনকুবের নাগিব সাওয়ারি। শরণার্থীরা যেন ভালোভাবে বসবাস করতে পারেন এজন্য ইতালি এবং গ্রিসে জমিও দেখা শুরু করেছেন তিনি।অভিবাসী ও শরণার্থীদের নিয়ে তৈরি মানবিক সঙ্কট নিরসনেই এই প্রয়াস বলে জানিয়েছেন তিনি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এ ঘোষণা দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৭টি দ্বীপ তালিকাভুক্ত করেছেন তিনি। হয়তো এখান থেকেই তিনি শরণার্থীদের জন্য উপযুক্ত একটি স্থান বেছে নেবেন যেখানে ২ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করতে পারবে। 
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফোর্বসকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, শরণার্থী সঙ্কট সমাধানে ভূমিকা রাখতে চান তিনি। এছাড়া কেনা দ্বীপটির নাম স্রোতে ভেসে আসা তিন বছর বয়সী শিশু আয়লানের নামে রাখতে চান তিনি। এছাড়া দ্বীপটিতে বাড়ি বানানোর জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর আগে তিনি ছাড়াও আরও দুই ধনকুবের শরাণার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন।নরওয়ের ধনকুবের পিটার স্টোরডালেন তার হোটেলে শরণার্থীদেরকে ৫০০ রাত বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্কে বসবাসকারী তুর্কি ধনকুবের হামদি উলুকায়া গত পাঁচ বছর ধরে তার প্রজেক্টে শরণার্থী নিয়োগ করছেন। এছাড়া তার টেন্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শরণার্থীদের ২০ লাখ ডলার সহায়তা করছেন।