আজব পৃথিবী

Sunday, January 15, 2017

রাজধানী নেই যে দেশে

পৃথিবীর সব দেশেরই একটি করে রাজধানী থাকে। যেখান থেকে দেশটির প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। কিন্তু একমাত্র এই দেশটিতে নেই কোন রাজধানী!দেশটির নাম নাউরু। আরেক নাম প্লিজ্যান্ট আইল্যান্ড নামেই পরিচয়। চোখজুড়ানো নৈসর্গিক দৃশ্য। পৃথিবীর একমাত্র দেশ এটাই, যার কোন সরকারি রাজধানী নেই। আয়তনের বিচারে পৃথিবীর তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। জনসংখ্যার বিচারে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম।নাউরুর রাষ্ট্রীয় নাম ‘নাউরু প্রজাতন্ত্র’। পাপুয়া নিউগিনির উত্তর-পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দ্বীপ নাউরু। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে দ্বীপটি জার্মানি দখল করে নেয়।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান এটিকে দখল করে। ১৯৬৮ সালের ৩১ জানুয়ারি দেশটি জাপানের কাছ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। আয়তন মাত্র ২১ বর্গকিলোমিটার। মুদ্রার নাম অস্ট্রেলীয় ডলার। এ দেশের বেশির ভাগ মানুষ খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী। শিক্ষার হার ৯৯ শতাংশ।

ভদ্র দানব

প্রতিদিন তিনি ১০ হাজার ক্যালোরি গ্রহণ করেন! এরমধ্যে ৩৬টি ডিম থাকে সকালের নাস্তায়, ৭ পাউন্ড মাংস, ৫ লিটার দুধ এবং আরও তো রয়েছেই। খাদ্যতালিকার এই বিস্ময়কর বহর যার, শারীরিক অবয়বেও ঠিক ততটাই বিশাল তিনি। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার এই ব্যক্তিটির ওজন ৪৩০ কেজিরও মতো। পাকিস্তানের হাল্ক নামে পরিচিত পাওয়া এই অতিকায় মানুষটির নাম আরবাব খাইজার হায়াত। (সূত্র: মেইল অনলাইন)এমন বিপুল খাদ্যাভাস ও বিশালাকায় শরীর নিয়ে কোন সমস্যায় পড়তে হয়না ২৫ বছর বয়সী এই তরুণের। এই ‘ভদ্র দানবের’ জনপ্রিয়তাও কিন্তু কোন অংশেই কম নয়। তার সাথে একটি সেলফি তুলতে দূর দূরান্ত থেকে শত শত লোক প্রতিদিনই তার বাসায় আসে।স্থানীয়দের মাঝে তার ‘পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তির’ পরিচিতি হায়াত ছড়িয়ে দিতে চান বিশ্বে, হতে চান বিশ্বতারকা।
তার শক্তিমত্তার বিষয়টি একটি ভিডিওতেই বেশ স্পষ্ট, যেখানে বিপরীত দিকে ঘুরতে চাওয়া একটি ট্রাক্টরকে রশি দিয়ে টেনে আটকে রাখতে দেখা যায়। এছাড়াও একটি জাপানিজ চ্যাম্পিয়নশীপে ১০ হাজার পাউন্ডেরও বেশি ভার তুলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।হায়াতের স্বপ্নও এই ভারোত্তলন বা রেসলিং জগতের তারকা হওয়ার। ভারোত্তোলনে চ্যাম্পিয়ন হতে চান তিনি। বলেন, “আমি চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। আল্লাহকে ধন্যবাদ আমাকে এমন অবয়ব দেয়ার জন্য। আমি কিছুদিনের মধ্যেই ভারোত্তোলনের জগতে নাম লেখাবো।”পাকিস্তানের মারাদানের বাসিন্দা হায়াতের ওজন বাড়তে থাকে কিশোর বয়সেই। তখনই তিনি ভারোত্তোলনে আসার চিন্তা করেন এবং স্বেচ্ছায় ওজন বাড়াতে থাকেন বলে জানান। তিনি বলেন, “আমার ওজন নিয়ে কোন সমস্যা হয়না। তবে শক্তিমত্তায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে হলে আমাকে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।”“আমার তাৎক্ষণিক লক্ষ্য ওয়ার্ল্ড রেসলিং এন্টারটেইনমেন্টে (ডাব্লিউডাব্লিউই) প্রবেশ করা। ওজনের বিষয়টিতে আমি নজর রাখছি। এবং এ ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ নিচ্ছি।”
প্রতিবেশীদের মধ্যে এখনই তারকা হায়াত। পাকিস্তান জুড়ে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বলে পরিচিত। প্রতিদিন শতশত লোক তার সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে আসে এবং এই ‘ভদ্র দানবের’ সাথে সেলফি তোলে।হায়াত বলেন, “এখানকার লোকদের কাছ থেকে আমি অনেক ভালোবাসা ও প্রশংসা পাই। কিন্তু আমি এখানেই থেমে যেতে চাই না। আমি বিশ্ব তারকা হতে চাই ““পাকিস্তানে স্ট্রংম্যান বা ভারোত্তোলনে তেমন সুযোগ না থাকলেও আমি আশা করি শীঘ্রই এক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে।”

১৮ বছর আগে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার

ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল শহরের একটি হাসপাতাল থেকে ১৮ বছর আগে চুরি হওয়া এক নবজাতককে সাউথ ক্যারোলিনা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। কামিয়াহ মবলিকে ১৯৯৮ সালের জুলাই মাসে অপহরণ করা হয়েছিল। তাকে গোপন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ উদ্ধার করে।সাউথ ক্যারোলিনার ওয়াল্টারবরোর কর্তৃপক্ষ বলছে, এই অপহরণের জন্য গ্লোরিয়া উইলিয়ামস নামে ৫১ বছর বয়সী এক মহিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। মিস মবলি এতদিন অন্য নামে পরিচিত ছিলেন এবং এই মিস উইলিয়ামসকেই মা বলে জানতেন। জ্যাকসনভিলের শেরিফ অফিস বলছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মিস মবলির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। সে পুরো সুস্থ, সবল, স্বাভাবিক একজন ১৮ বছরের তরুণী এখন।কর্মকর্তারা বলছেন, এই অপহরণের ঘটনাটি নিয়ে এর আগে অন্তত আড়াই হাজার 'গোপন সংবাদ' যাচাই বাছাই করেছেন তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গত বছর পাওয়া একটি 'গোপন সংবাদে' কাজ হয়। মিস মবলি যখন অপহরণ হয়, তখন তার কোন ছবি ছিল না। বর্ণনা শুনে শিল্পীর আঁকা একটি ছবিই ছিল ভরসা। জ্যাকসনভিলের ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের একজন স্বাস্থ্য কর্মীর ছদ্মবেশে এক মহিলা মাত্র আট ঘণ্টা বয়সী মিস মবলিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।তার মা সানারাকে ওই মহিলা এসে বলেছিল শিশুটির জ্বর হয়েছে এবং তার পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রয়োজন। এই বলে সে মিস মবলিকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। সানারা তার সদ্য অপহৃত কন্যাকে উদ্ধারে তৎপর হন এবং ঘটনাটি গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জাগায়।যদিও মিস মবলির জন্মদাতা-জন্মদাত্রীকে খবরটি জানানো হয়েছে, খবর পেয়ে তারা 'উল্লসিত'ও হয়েছেন, কিন্তু কর্মকর্তারা বলছেন, মিস মবলি যেহেতু একজন প্রাপ্তবয়স্ক, ফলে তিনি কি করবেন সেটা এখন তার উপরেই নির্ভর করবে।"সে যখন অপহৃত হয়েছিল, তখন সে ছিল সদ্যোজাত শিশু, পুরো ব্যাপারটি বুঝে ওঠার জন্য তার এখন সময় প্রয়োজন। আমরা তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করি, আপনাদেরও করা উচিত", বলেন জ্যাকসনভিলের শেরিফ মাইক উইলিয়ামস। 

Sunday, January 8, 2017

ড্যান্সিং ফরেস্ট

গাছ, সেও নাকি আবার নাচে? বাল্টিক সমুদ্রের তীরে আছে এমনই এক জায়গা যেখানে গাছেরা নিয়েছে অদ্ভুত অবয়ব। বেড়ে উঠেছে এমন ভাবে যেন একেকটি গাছ একেক ভঙ্গিমায় নাচ করছে। কুরোনিয়ান স্পিট ন্যাশনাল পার্কে দেখা পাবেন এই গাছেদের। পার্কের কেয়ারটেকার ড্যান্সিং ফরেস্ট নাম দিয়েছেন বনটির। আর স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন উন্মত্ত বন।ভিন্নধর্মী এই বনটি পাইন গাছের। কিন্তু চিরাচরিত পাইনের গুঁড়ির মত নয় এই গাছেদের গুঁড়ি। এরা বিভিন্নভাবে বাঁকিয়ে, কখনো বৃত্তাকারে, কখনো সর্পিল ভঙ্গিতে উপরে উঠে গেছে। বিভিন্ন ধরণের আকৃতি বনের মাঝে তৈরি করেছে ভিন্ন কিন্তু মজার এক আবহ। ভ্রমণকারীরা মনে করেন, ২০ বছরেরও বেশী বয়সী পাইন গাছেরা এরকম অদ্ভুত ভাবে নিজেদের বাঁকিয়ে নিচ্ছে। কয়েক বছর আগে পার্কে ম্যানেজার স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আহবান করেন এই বনের রহস্য উন্মোচন করার জন্য। কিন্তু নিশ্চিত কোন কারণ জানা যায় নি।নানান রকম প্রচলিত কথা আছে ড্যান্সিং ফরেস্টকে নিয়ে। কেউ মনে করেন, মাটির গঠনের কারণে এখানকার গাছেরা অদ্ভুত অবয়ব নেয়। আবার কেউ মনে করেন, এখানকার আবহাওয়া পজেটিভ এবং নেগেটিভ উভয় প্রকার এনার্জি বিরাজ করে। যার দ্বন্দ্বের কারণে এমনটা ঘটে। তবে সবচেয়ে স্বীকৃত মত হচ্ছে, সমুদ্রতীরবর্তী বনটির সারাক্ষণ শক্তিশালী বাতাসের সাথে লড়াই। এই বাতাসের কারণেই নিজেকে টিকিয়ে রাখতে এমন বাঁকিয়ে যায় তারা।কিন্তু কারণ যাই হোক, বনটি মজার। যে কোন ভ্রমণকারীর জন্যই এটি হতে পারে চমৎকার উপভোগ্য একটি অভিজ্ঞতা। 

পুরুষের গর্ভে ৪ মাসের সন্তান

হেডেন ক্রস। ব্রিটেনের প্রথম পুরুষ, যিনি মা হতে চলেছেন। গ্লুসেস্টরের বাসিন্দা হেডেন এখন ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বয়স ২০ বছর। হেডেন বর্তমানে আইনত একজন পুরুষ হলেও, তার জন্ম হয়েছিল নারী হিসেবে। মনের ডাক পেয়েছিলেন অনেক আগেই। পরে শারীরিকভাবেও পুরুষ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দেন হেডেন। চলে হরমোনের চিকিত্‍‌সা। আইনি দিক থেকেও জোটে পৌরুষের অধিকার। হেডেন ভেবেছিলেন, তার ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রেখে পরে তার থেকে সন্তানের জন্ম দেবেন। তবে ডিম্বাণু সংরক্ষণের জন্য ৪০০০ পাউন্ড খরচের ভার বহন করতে অস্বীকার করে ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস।এরপরই সন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য শারীরিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া কিছুদিনের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন হেডেন। ফেসবুকে খোঁজ চালিয়ে তিনি পেয়ে যান স্পার্ম ডোনারও। তার সাহায্যে প্রথম প্রচেষ্টাতেই এই ব্রিটিশ পুরুষ বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। কিছুদিনের মধ্যে তিনি সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন। তিনিই হবেন ব্রিটেনের প্রথম পুরুষ যিনি সন্তানের জন্ম দেবেন।১৬ সপ্তাহের প্রেগন্যান্ট হেডেন দারুণ আনন্দে জানালেন, 'আমার সন্তানকে আমি সবকিছু দিতে চাই। আমিই হব সেরা বাবা। এটা একটা মিশ্রিত অনুভূতি।' লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া থামিয়ে হেডেনের সন্তানসম্ভবা হওয়ার পথে বাধ সেধেছিলেন চিকিত্‍‌সকরা। তাদের আপত্তির তোয়াক্কা না করে, স্তন ও গর্ভাশয় কেটে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন হেডেন। 

বিশ্ব রেকর্ড

বয়স তার শুধু শরীরের বেড়েছে, বাড়েনি মনের। কমেনি মনের জোর। তাই তো ১০৫ বছর বয়সেও তার নাতিপুতিরা তাকে যুবকই মনে করেন। কেনই বা তা মনে করবেন না। এই বয়সে যে তিনি করে ফেললেন বিশ্বরেকর্ড। শতবর্ষ পাড়ি দেওয়া এই 'যুবক' সাইক্লিং করে মাত্র এক ঘণ্টায় পাড়ি দিলেন ২২.৫৪৭ কিলোমিটার পথ।রবার্ট মারশন্ড নামের এই ব্যক্তির বাস ফ্রান্সে। কর্মজীবনের নানা দিক শেষ করে, বর্তমানে ভালবাসেন বই পড়তে। এক সময় কাজ করেছেন সে দেশের দমকলকর্মী হিসেবে। কখনও ট্রাক ড্রাইভার, কখনও বা শুধুমাত্র গাছ কেটে দিন কেটেছে তার। ৬৮ বছর বয়স থেকে এক নতুন শখ পুরণে উদ্যোগী হন রবার্ট মারশন্ড। সাইক্লিং। ছোটখাটো নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিতে, এবারে তিনি গড়ে ফেললেন একেবারে বিশ্ব রেকর্ড। সাইক্লিং করে মাত্র  পথ অতিক্রম করেন এই বৃদ্ধ। প্যারিসের ভেলোড্রোম ন্যাশনাল ইনডোর ট্র্যাকে, ৯২টি ল্যাপে মাত্র এক ঘণ্টায় রবার্ট পাড়ি দেন ২২.৫৪৭ কিলোমিটার। রবার্ট নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১০ মিনিটের জন্য তা আর হয়ে উঠল না। তার কথায়, ‘আমি এখন প্রতীক্ষা করছি আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য।শতবর্ষ পাড়ি দেওয়া রবার্ট শরীর ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাইক্লিং ছাড়া কী কী করেন? তেমন কিছুই নয়। নিয়মিত শরীরচর্চার সঙ্গে রোজ রাত ন’টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। তার কোচ, জিরার্ড মিস্টলারের কথানুযায়ী, রবার্টের পরিমিত খাওয়া-দাওয়া, কোনও রকম নেশা না করাও তার সুস্থ থাকার অন্যতম কারণ। 

Saturday, January 7, 2017

শুধু বালি খেয়ে সুস্থ রয়েছেন

বয়স তাঁর ৭৮ বছর। কিন্তু সমবয়সি অন্য যে কোনও বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার তুলনায় অনেক শক্তপোক্ত দেহ তাঁর। শরীরে এখনও থাবা বসাতে পারেনি জরা কিংবা অন্য কোনও বয়সঘটিত রোগ। এখনও কৃষিজমিতে কাজ করেন সকাল-সন্ধে। কিন্তু কুসমাবতী নামের এই মহিলার এমন সুস্বাস্থ্যের রহস্যটা কী? তাঁর নিজের দাবি, প্রতি দিন নিয়মিত বালি খাওয়ার অভ্যাসই তাঁর এই বার্ধক্যরূপী তারুণ্যের মূলে। শুনতে যতই অদ্ভুত লাগুক, বারাণসী নিবাসী কুসমাবতী বিগত ৬৩ বছর ধরে নিয়মিত বালি খেয়ে আসছেন। দিনে পাঁচ-ছ’ বার দু’ মুঠো করে বালি খান তিনি। এবং এই বিচিত্র অভ্যাসের ফলে তাঁর শরীর অসুস্থ হওয়ার পরিবর্তে বরং নীরোগ থাকে। কিন্তু কেন এমন অদ্ভুত অভ্যাস? কুসমাবতী দেবী জানালেন, তাঁর বয়স যখন বছর পনেরো, তখন এক বার দুরারোগ্য পেটের অসুখে শয্যাশায়ী হয়ে প়ড়েন তিনি। কোনও এক আত্মীয় পরামর্শ দেন, বালি খেলেই রোগমুক্তি ঘটবে। পরামর্শ শিরোধার্য করে বালি খেতে শুরু করেন কুসমাবতী। কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায় রোগ। সেই শুরু। তার পর ৬৩ বছর কেটে গিয়েছে, কিন্তু বালি খাওয়ার অভ্যাস কুসমাবতী ছাড়েননি। তাঁর ধারণা, বালির মধ্যে এমন‌ কোনও গুণ রয়েছে, যা তাঁকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। কারণ তাঁর দাবি, নিয়মিত বালি খাওয়ার ফলেই এই বয়সেও একেবারে সুস্থ রয়েছে তাঁর দেহ। কিন্তু বালি খেতে ঘেন্না করে না? কুসমাবতী জানান, ‘তা কেন! বরং বালি বেশ ভালই খেতে। অনেকটা নুন-চিনির মিশ্রণ যেমন হয়, তেমনই নোনতা-মিষ্টি স্বাদ হয় বালির।’ কুসমাবতীর বাড়ির লোকেরা আপত্তি করেন না? বৃদ্ধার ছেলে রমেশ বললেন, ‘আপত্তি করব কেন? ছোটবেলা থেকেই তো মা-কে বালি খেতে দেখছি। আর কোনও দিন তো এর জন্য মায়ের শরীর খারাপ হয়েছে বলে দেখিনি। আর মা যে শুধু বালিই খান, তা তো নয়। অন্যান্য খাবারদাবারের পাশাপাশি কয়েক মুঠো বালিও খেয়ে নেন, অনেকটা ওষুধের মতোই। মায়ের বিশ্বাস, বালি খেলে শরীর ভাল থাকে। সেই বিশ্বাস যদি সত্যি হয়, তা হলে বালি খাওয়ায় বাধাই বা দেব কেন আমরা!’তা রমেশ নিজেও মায়ের দেখাদেখি বালি খাওয়া শুরু করেন না কেন? রমেশ হেসে বলেন, ‘আরে না না। ও সব আমাদের কম্ম নয়। মা খেতে পারেন, কারণ মায়ের নিশ্চয়ই কোনও আলাদা ক্ষমতা রয়েছে। আমরা বালি খেলে অসুস্থ হয়ে পড়ব।’রমেশ যা-ই বলুন, কুসমাবতীর ধারণা, নিয়মিত বালি খেলে শরীরের উপকার বই অপকার হয় না। এই ৭৮ বছর বয়সেও তাই মু‌ঠো মুঠো বালি গলাধঃকরণ করে চলেছেন তিনি।