আজব পৃথিবী

Saturday, June 17, 2017

অক্টোপাস রাস্তা

দূর থেকে মনে হবে যেন অক্টোপাস তার আট পা মেলে দিয়েছে চারদিকে। কেউ কেউ গায়ে গায়ে লেগে থাকা সাপও বলতে পারেন, যেন এঁকেবেঁকে চলেছে। পাঁচ স্তরের রাস্তা বানিয়ে চমকে দিয়েছে বেইজিং।সবচেয়ে উঁচু রাস্তাটি মাটি থেকে ৩৭ মিটার উপরে। এক স্তর থেকে অপরটিতে পৌঁছাতে তৈরি রয়েছে ১৫টি র‌্যাম্প। আটটি মুখে রাস্তা ধরে বেরিয়ে যাবে গাড়ি। ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে 'বার্ডস নেস্ট' নামে অলিম্পিক ভিলেজ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল চীন। পাখির বাসার মতো দেখতে সেই স্টেডিয়ামের স্থাপত্যে মুগ্ধ হয়েছিল বিশ্ব।  এবার আট বছরের প্রচেষ্টায় দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর চংকিংয়ে বানানো হয়েছে আধুনিক স্থাপত্যের বিস্ময় পাঁচ স্তরে হুয়াংজুয়েন রাস্তাটি। তবে তাক লাগাতে এই রাস্তা বানানো হয়েছে, এমনটা নয়। চংকিংয়ের গ্রাম ও শহরের নির্মাণ কমিটি জানিয়েছে, বিমানবন্দর, এক্সপ্রেস রাস্তা, মূল সড়কের মধ্যে যোগাযোগ রাখতেই এমনটা বানানো হয়েছে। একেকটি রাস্তা ধরে পৌঁছে যাওয়া যাবে একেকটি গন্তব্যে। তবে রাস্তা পার হতে গেলে নেভিগেশন ব্যবস্থার সাহায্য নিতে হবে। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ওয়েবো জানিয়েছে, কেউ যদি একটি পথ ভুল করে তাহলে আবার ফিরে এসে গন্তব্যে পৌঁছাতে একদিন লেগে যাবে। 

Thursday, June 1, 2017

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে শেষ হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম বিমান ‘পল অ্যালেন’র প্রাথমিক নির্মাণকাজ। এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান ছিল হাওয়ার্ড হুগসের ‘স্প্রুস গুজ’। বুধবার প্রথমবারের মতো চাকায় ভর করে হ্যাঙ্গার থেকে বেরিয়ে আসে পল অ্যালেন।মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটির দুই পাশের পাখনার দৈর্ঘ্য ৩৮৫ ফিট করে, যা একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। এর উচ্চতা ৫০ ফিট এবং জ্বালানিবিহীন অবস্থায় ওজন ৫ লাখ পাউন্ড। এটি আড়াই লাখ পাউন্ড জ্বালানি বহনে সক্ষম। ওজন বহনের সক্ষমতাসহ এটির মোট ওজন হতে পারে সর্বোচ্চ ১৩ লাখ পাউন্ড।
২৮টি চাকা আছে পল অ্যালেনের। আছে বোয়িং ৭৪৭-এর ছয়টি জেট বিমান। বিমানটি এতই বড় যে এর জন্য বিশেষ নির্মাণ নির্মাণ ছাড়পত্র দিতে হয়েছে মার্কিন সরকারকে। যে কোনও ব্যক্তি সামনে বিমানটি পাহাড়ের মতো মনে হবে।বিমানটি নামকরণ করা হয়েছে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিয়াটল সিহকের মালিক পল অ্যালনের নামে। এর কারণ, তার অর্থায়ন ও উদ্যোগেই নির্মিত হয়েছে এই বিশালাকৃতির ‘দানব’।
তবে এই বিরাট বিমান কিন্তু কোনও যাত্রী বহন করবে না। এতে বহন করা হবে রকেট। আকারে বড় কোনও রকেট, বা একসঙ্গে অনেকগুলো রকেট বহনের জন্য ব্যবহৃত হবে এটি।বর্তমানে ‘অরবিটাল এটিকে’ নামের একটি কোম্পানির সঙ্গে মিলে মহাকাশে স্যাটেলাইট প্রেরণের পরিকল্পনা করছে অ্যালেনের ‘স্ট্রাটোলাঞ্চ’ কোম্পানি। ওই স্যাটেলাইট পাঠানোর ক্ষেত্রে একেকটি রকেটের ওজন হবে ১ হাজার পাউন্ড। ওইসব রকেট বহনের কাজেই ব্যবহৃত হবে এই বিমান।

Monday, May 29, 2017

যেসব দেশে সেনাবাহিনী নেই

বিশ্বের বহু দেশ সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে ভালোবাসে, নিজেদের সামরিক বহর নিয়ে হাজির হয় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে। অপরদিকে এমন সব দেশ আছে, যাদের সামরিক বাহিনী বলে কিছু নেই। 
এমন কিছু দেশের নাম দেয়া হলো যাদের কোনো সেনাবহিনী নেই। তারপরও তারা আছে বেশ সুখে-শান্তিতে –
কস্টারিকা
মধ্য অ্যামেরিকার এই দেশটির সংবিধানই বলে যে, দেশের কোনো সামরিক বাহিনী থাকবে না। এই পরিস্থিতি চলছে ১৯৪৯ সাল যাবৎ। জাতিসংঘের শান্তি বিশ্ববিদ্যালয় এই কস্টারিকায়। 
অ্যান্ডোরা
ইউরোপের এই ছোট্ট দেশটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১২৭৮ খ্রিষ্টাব্দে। আ্যান্ডোরার নিজস্ব সামরিক বাহিনী নেই, কিন্তু প্রয়োজনে স্পেন ও ফ্রান্স দেশটিকে সুরক্ষিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অ্যান্ডোরার আয়তন মাত্র ৪৭৮ বর্গমিটার, যা কিনা জাকার্তার মতো কোনো বড় শহরের চেয়ে কম। 
লিখস্টেনস্টাইন
ইউরোপের কেন্দ্রে এই ছোট্ট দেশটি তাদের সামরিক বাহিনী বাতিল করে দিয়েছে সুদূর ১৮৬৮ সালে, আর্থিক কারণে। যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনী গঠন করা চলে, তবে কোনোদিন তার প্রয়োজন পড়েনি। দেশটি ছোট হলেও সমৃদ্ধ: মাথাপিছু আয় বিশ্বে শুধুমাত্র কাতার-এর চেয়ে কম। 
ভ্যাটিকান
ইটালির রাজধানী রোম-এর একাংশ।  ভ্যাটিকান হলো বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ, আয়তনে শূন্য দশমিক চার বর্গ কিলোমিটার৷ জনসংখ্যা ৮৪০। কাজেই জনসংখ্যার হিসেবেও ভ্যাটিকান বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ। 
সামোয়া
প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপরাজ্যটি নিউজিল্যান্ড থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে ১৯৬২ সালে। সে যাবৎ দেশটির কোনো সামরিক বাহিনী নেই। নিউজিল্যান্ড প্রয়োজনে দেশটির প্রতিরক্ষার জন্য সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 
তুভালু
প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপরাজ্যটির আয়তন মাত্র ২৬ বর্গ কিলোমিটার; জনসংখ্যা মাত্র দশ হাজার। তুভালু কমনওয়েল্থের সদস্য। এখানকার শাসনব্যবস্থা এক ধরণের সংসদীয় রাজতন্ত্র। 
নাউরু
প্রশান্ত মহাসাগরের এই দ্বীপরাজ্যটির আয়তন ২১ বর্গ কিলোমিটারের কিছু বেশি; জনসংখ্যা ১০,০০০। নাউরু মাইক্রোনেশিয়ার অংশ।
গ্রেনাডা
অতলান্তিক মহাসাগরের ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত দেশটি আসলে মাত্র একটিমাত্র দ্বীপ, যার আয়তন ৩৪৪ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা এক লক্ষ ৫০০০। দেশটি কমনওয়েল্থের সদস্য। শাসনব্যবস্থা: সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। 

চার বোনের পেশা

মেক্সিকোর টাবাসকো রাজ্যের চার বোনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের দৈনিক ডেইলি মেইল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মেক্সিকোর উন্নত অঞ্চলগুলোর অন্যতম টাবাসকোতে গর্ভ ভাড়া বা ‘সারোগেসি’ বাণিজ্যের বাজার এখন প্রায় ৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের। সেখানে হারনান্দেজ বোনদের মতো অনেকেই গর্ভ ভাড়া দিয়ে রুটিরুজি জোগান। গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিঃসন্তান দম্পতির মুখে হাসি ফোটানোই এই চার বোনের কাজ। শুধু গর্ভ ভাড়া দিয়েই প্রতি বছর ১০ হাজার পাউন্ড (১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা) আয় করেন মেক্সিকোর এই চার বোন।ডেইলি মেইলকে এই চার বোন জানান, গর্ভ ভাড়া দিয়ে তাঁরা নয় মাসে যা রোজগার করেন, সেই পরিমাণ অর্থ আয় করতে তাঁদের ভাইদের ২০ বছর সময় লাগবে। 
হার্নান্দেজ বোনদের সবচাইতে বড় জন মিলাগ্রোস (৩০) জানান, তাঁর হাত ধরে বাকি তিন বোনের এই ব্যবসায় আসা। এখন মার্থা (২৯), মারিয়া (২৭) এবং পাউলিনা (২২) এই ব্যবসায় বেশ আয় করছে।মিলাগ্রোস বলেন, ‘প্রতিটি নারীর কাছে তাঁর সন্তান অমূল্য ধন। কিন্তু আধুনিক যুগে সন্তান ধারণে অক্ষম নারীদের মা হওয়ার ধরন পাল্টেছে। দিন যত এগোচ্ছে, প্রযুক্তি ততই মানুষের অপূর্ণতাকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাই জমি ভাড়া নিয়ে ফসল উৎপাদনের মতো মায়ের গর্ভ ভাড়া নিয়ে সন্তান উৎপাদন আজ আর অবাক হওয়ার কোনো বিষয় নয়।
তিনি জানান, নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তানের জন্য একটি ব্যবস্থা গর্ভ ভাড়া বা সারোগেশন। সারোগেশনের অর্থ হলো গর্ভধারণে সক্ষম মায়ের ভ্রুণে শুক্রাণু প্রতিস্থাপন করে সন্তান লাভ। তবে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রে সারোগেশনের ব্যয় খুব বেশি। আর তাই ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রের সন্তান ধারণে অক্ষম নারীরা সারোগেশনের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে বেশি।
হার্নান্দেজ বোনদের মেঝো জন সার্গস মার্থা বলেন, ২৩ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের এক নিঃসন্তান দম্পতির জন্য গর্ভধারণ করেছিলেন তিনি। ৩৬ বছর বয়েসের ওই নারী ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। ক্যান্সারের কারণে তাঁর গর্ভাশয়ের একটি অংশ অপসারণ করতে হয়। এতে চিরদিনের মতো সন্তান ধারণে অক্ষম হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু তাঁর যে একটা সন্তান চাই।
শেষে মেক্সিকোর এক এজেন্টের (চিকিৎসক) মাধ্যমে তাঁর (মার্থা) সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই নারী। শেষে তাঁর মাধ্যমেই সন্তানের মুখ দেখেছিলেন ওই নারী। দেশগুলোতে গর্ভ ভাড়া দেওয়া আইনত অবৈধ। তবে এই অঞ্চলের দরিদ্র নারীদের অভাবের সুযোগ নিয়ে তাদের দিয়ে এই কাজটি করিয়ে নিচ্ছেন চিকিৎসকরা। আর পরিবারে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য আনতে নিজেদের গর্ভ ভাড়া দেন দরিদ্র নারীরা। আর এই দরিদ্র নারীদের দিয়েই ব্যবসা করে যাচ্ছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও বেসরকারি হাসপাতাল। কিন্তু এই যে এত টাকার বাণিজ্য হচ্ছে, তার খুব সামান্যই পাচ্ছেন গর্ভ ভাড়া দেওয়া নারীরা। 
শুধু তাই নয়, এসব নারীরা দরিদ্র ও অল্পশিক্ষিত হওয়ায় অনেক সময় তাঁদের না জানিয়েই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় জানা যায়, কিছুসংখ্যক চিকিৎসক নিশ্চিত সাফল্যের আশায় অনেক নারীকে না জানিয়েই গর্ভে পাঁচ থেকে ছয়টি ভ্রূণ প্রবেশ করিয়ে থাকেন। অথচ চিকিৎসাশাস্ত্র বলছে, এটি ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে গর্ভ ভাড়া দেওয়া নারীর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

Sunday, May 28, 2017

বিয়ের আগে মা হওয়াটা বাধ্যতামূলক যেখানে

অদ্ভুত নিয়ম চালু রয়েছে পশ্চিম বঙ্গের মাদারিহাটে। যেখানে মেয়েদের বিয়ের আগে মা… হওয়াটা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ আগে মেয়েদের সাথে ১ বছর গোপন মিলন করা বাধ্যতামূলক! বিয়ের সমাজে নারী পুরুষের যৌন সম্পর্কের বৈধতা দিয়ে থাকে বিবাহ। এটা সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি। তবে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়া-মাদারিহাট।সেখানে মাতৃত্বই দেয় পছন্দের সেই পুরুষকে বিয়ের অধিকার। এটাই রেওয়াজ ‘টোটো’দের। সেখানে সবমিলিয়ে ১ হাজার ৫৮৪ টোটোর বাস। এখনো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন এই উপজাতিরা।টোটো সমাজের পুরুষদের কোনো মেয়েকে বেছে নেয়ার অধিকার রয়েছে। ছেলেটির পছন্দ হলে মেয়েটিকে তার সঙ্গে ১ বছর সহবাস করতে হবে। তার মধ্যে মেয়েটি গর্ভবতী হলে তবেই বিয়ে করার উপযুক্ত হয়ে উঠবেন।তবে বিয়ে করতে হলে আগে ২ পরিবারের অনুমতি নিতে হবে।

১১২টি দেশের জাতীয় সংগীত গাইতে পারেন

মালয়েশিয়ার ৩১ বছর বয়সী থিয়ান সি শিয়েন ১১২টি দেশের জাতীয় সংগীত মুখস্থ করেছেন। কেবল মালয় ও ইংরেজি ভাষা জানলেও এতগুলো ভাষার গান দিব্যি গাইতে পারেন।পেশায় আইনজীবী শিয়েন ২০০২ সালে শখের বশে জাতীয় সংগীত শিখতে শুরু করেন। তারপর একে একে এশিয়া, ইউরোপ এবং দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকার প্রায় সব দেশের জাতীয় সংগীত শিখে নেন। শিয়েন দাবি করেন, তিনি প্রায় হুবহু সুরে ১১২টি জাতীয় সংগীত গাইতে পারেন। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় সংগীতও তিনি শিখেছেন, যা কিনা পাঁচটি ভিন্ন ভাষায় গাইতে হয়। ড্যানিশ ও আরবি সুর রপ্ত করতে তাঁর বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে ফরাসি, স্প্যানিশ ও জার্মান কিছুটা সহজ মনে হয়েছে।শিয়েন এখনো নতুন নতুন জাতীয় সংগীত সংগ্রহ করছেন এবং শিখছেন। কারণ, পাঁচটি মহাদেশের প্রতিটি দেশের জাতীয় সংগীত শিখে নিতে চান তিনি। এই বিশেষ দক্ষতার জন্য বিশ্বজুড়ে অনেক বন্ধু পেয়েছেন। তিনি পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাজ্যে, সেখানে আরও অনেক দেশের ছাত্রছাত্রীকে বন্ধু হিসেবে পান। গানের কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেই শিয়েনের। তবে সুর শুনে শুনে আয়ত্ত করার দক্ষতা তাঁর আছে। আর তাঁর আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তার মাত্রা ১৭৬, যা কিনা ‘অসাধারণ প্রতিভাধর’ বা তার কাছাকাছি পর্যায়ের। হয়তো এ কারণেই তিনি এতগুলো ভাষার গান ও সুর মনে রাখতে পারেন। কুয়ালালামপুরের একটি তেল ও গ্যাস কোম্পানিতে আইনি পরামর্শকের চাকরি করেন শিয়েন। বললেন, জাতীয় সংগীত শিখতে গিয়ে তিনি ইতিহাসের অনেক বিষয় জানতে পারেন। যেমন: ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা একই ব্যক্তি—কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।একমাত্র অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশই বাকি আছে, যার কোনো দেশের জাতীয় সংগীত এখনো শিয়েন শেখেননি। এ নিয়ে মজা করেন এভাবে, ‘পেঙ্গুইনরা যদি আমাকে একটা গান শিখিয়ে দিত, আমি সর্বাত্মক চেষ্টা নিয়ে শিখতাম।’  

Sunday, April 23, 2017

একই দেহে দুই বোন

কারমেন আর লুপিতার একটি করে হৃদপিণ্ড, দু’টি করে হাত, একটি করে ফুসফুস থাকলেও তাদের পাঁজরের খাঁচা থেকে শরীরের বাকি অংশ কমন।মার্কিন দেশের কানেক্টিকাটের দুই কিশোরী কারমেন আর লুপিতার জীবনের কাছে চাহিদা এমন কিছু অসাধারণ নয়। তারাও আর পাঁচটা সমবয়সি কিশোরীর মতোই হোমটাস্ক করতে চায়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে চায় আর একটা থুড়ি দুটো ড্রাইভং লাইসেন্স পেতে চায়। এমনিতে তাদের ভাবনা-চিন্তা বা কাজকর্ম মোটেই তেমন ব্যতিক্রমী নয়। ব্যতিক্রম তাদের শরীরে। কারমেন আর লুপিতা কনজয়েনড টুইনস বা সংযুক্ত যমজ।কারমেন আর লুপিতার একটি করে হৃদপিণ্ড, দু’টি করে হাত, একটি করে ফুসফুস থাকলেও তাদের পাঁজরের খাঁচা থেকে শরীরের বাকি অংশ কমন। তাদের পাচনতন্ত্র, এমনকী জননাঙ্গও কমন। চার বছর বয়সে তারা হাঁটতে শেখে। তার পর থেকে ১২ বছর তারা কদম কদম এগিয়েছে। বুঝতে শিখেছে জীবনের মানে। জন্মের পরেই ডাক্তাররা তাদের আলাদা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এতে বিপদের সম্ভাবনা ছিল বলে করা হয়ে ওঠেনি।
১৬ বছর পরে আবার চিকিযসকরা নড়েচড়ে বসেছেন কারমেন আর লুপিতার কেস নিয়ে। তাঁদের বক্তব্য এই সময়ে তাদের আলাদা না করলে বিপদ দেখা দিতে পারে দু’জনেরই। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাত্রাৎকারে কারমেন আর লুপিতা দু’জনেই জানিয়েছে, তাদের এই অস্ত্রোপচারে মত নেই। কারণ, তারা এই ১৬ বছর ধরে যে জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তাতে তারা পরস্পরের থেকে আলাদা হলে মানসিক ভাবেই ভেঙে পড়বে।অস্ত্রোপচারে ভয় ছাড়াও আর একটা ভয় কারমেন আর লুপিতার পরিবারকে তাড়া করছে। এই পরিবারটি মেক্সিকো থেকে আগত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেক্সিকান শরণার্থী-সংক্রান্ত বিরোধিতা তাদের তাড়া করে বেড়চ্ছে। যে কোনও দিন আমেরিকা ছেড়ে চলে যাওয়ার আদেশ আসতে পারে, এই ভেবে চিন্তিত কারমেন আর লুপিতা আন্দ্রাদের পরিবার। আমেরিকা ছাড়লে সেখানকার চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবে কারমেন ও লুপিতা। সেই বিপদের দিনে কী হবে ভেবে শঙ্কিত তাদের পরিজন।