আজব পৃথিবী

Sunday, March 13, 2016

এশিয়ার সবথেকে পরিচ্ছন্ন গ্রাম

প্লালিস্টিকের যে কোনো সামগ্রী এখানে নিষিদ্ধ। রাস্তাঘাট ঝকঝকে তকতকে, ময়লা-আবর্জনার দেখা পাওয়া মুশকিল। চারপাশে ফুলের বাগান। গ্রামটিকে বলা হয় এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম। ভারতের একেবারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট এই গ্রামটির নাম মাওলিনং।ভারতের মেঘালয় রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামটিতে ২০০৩ সালের আগে পর্যটকদের পদচ্ছাপ পড়তো না। মেঘালয়ে ছিল না কোনো সড়ক। যেতে হতো শুধুমাত্র পায়ে হেঁটে। মাওলিনং-এ খাসি উপজাতিদের বসবাস। বিরল মাতৃতান্ত্রিক সমাজের জন্য খ্যাত এ গ্রাম। এই খাসি সমাজে ধন-সম্পদের মালিক হন মেয়েরা। মায়ের সম্পদের একমাত্র উত্তরাধিকারী হন সবচেয়ে ছোট মেয়েটি। মায়ের নামের পদবি গ্রহণ করে সন্তানরা।তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিন্ন কারণে এ গ্রামটি বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। সেটি হলো, গ্রামের ব্যতিক্রমধর্মী পরিচ্ছন্নতা। ভারতের বড় বড় শহরের ধুলাবালি আর কোলাহল থেকে অনেক আলাদা এ গ্রাম। গ্রামের কোনায় কোনায় দেখা মিলবে বাঁশের তৈরি ডাস্টবিন। স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়মিত বিরতির পরপর সড়ক ঝাড়ু দেয়।
প্লাস্টিকের ব্যাগ ফেলে দিতে দর্শণার্থীদের প্রতি কড়া নির্দেশমূলক সংকেত চোখে পড়বে প্রায়ই। আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা একেবারেই নিষিদ্ধ। নিজের ছোট কিন্তু উজ্জ্বল পারিবারিক বাড়িটির সামনে বসে আছে বনিয়ার মাওরোহ। মাওরোহর ভাষ্য, আমরা প্রতিদিন পরিষ্কার করি। কারণ, আমাদের দাদা-দাদি ও পূর্ব-পুরুষরা আমদের শিখিয়েছে কীভাবে গ্রাম ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হয়। কারণ, পরিচ্ছন্ন থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
১২ বছর আগে এ গ্রামে প্রথম সড়ক নির্মিত হয়। তারপর ডিসকোভার ইন্ডিয়া নামে একটি ট্রাভেল ম্যাগাজিনের এক সাংবাদিক ঘুরে যান গ্রামটি। তারপরই তার লেখা একটি নিবন্ধে গ্রামটিকে এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। এরপরই যেন দর্শণার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে গ্রামটিকে ঘিরে। ভরা মৌসুমে প্রতিদিন ২৫০ পর্যটক এ গ্রামে বেড়াতে যান। গ্রামের জনসংখ্যা বেড়ে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ক্রমেই, খ্যাতির বিড়ম্বনার মুখোমুখি হয় মাওলিনং। গ্রামের একটি অতিথিশালার মালিক ৫১ বছর বয়সী রিশোত খোংথোহরেম।তিনি বলেন, এখানে এখন শব্দ দূষণ চলে। আমি গ্রাম পরিষদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরিষদ কর্তৃপক্ষ গ্রাম থেকে আরও দূরে নতুন একটি গাড়ি পার্ক করার স্থান নির্মাণে সরকারের কাছে চিঠি লিখেছে। মেঘালয় ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাবেক কর্মকর্তা দীপক লালু এ গ্রামের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে একেবারে প্রথম দিকে গ্রাম পরিষদকে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনিও এখন অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ নিয়ে চিন্তিত।তিনি বলেন, এখন কোথাও কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নেই। এক নারী হয়তো গোসল করছে। তার ছবি তুলে ফেলা হচ্ছে। যে সামাজিক বন্ধন গ্রামটিকে এক করে রেখেছে, তা নষ্ট হচ্ছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে মাওলিনং গ্রামে এতটা উদ্বেগ সৃষ্টি হয় ১৩০ বছর আগের একটি কলেরা মহামারি থেকে। তখন গ্রামে ছিল না কোনো স্বাস্থ্য সুবিধা। এ কারণেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকেই কলেরা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হতে থাকে।খোংথোহরেম বলেন, খ্রিষ্টান মিশনারিজ আমাদের পূর্বসূরিদের বলেছিল, তোমরা কলেরা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারবে, যদি ভালোভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পারো। ঘরে-বাইরে, জমিতে, গ্রামে, নিজের দেহে কিংবা খাবার গ্রহণের বেলায় – সবসময়ই পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে। এরপর থেকে মাওলিনং গ্রামে এ খুঁতখুঁতে অভ্যেস প্রতিষ্ঠা পায়। ফলে গ্রামটির ভিন্ন অর্জনও বেড়েছে।প্রকাশ্যে মলমূত্র ত্যাগ যেখানে প্রত্যন্ত ভারতে স্বাভাবিক বিষয়, সেখানে এ গ্রামের ৯৫টি বাড়ির সব কটিতে টয়লেট রয়েছে। এ গ্রামের প্রশংসা করেছেন খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মহাসড়কে ও স্মৃতিস্তম্ভের আশেপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য কুখ্যাতি আছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষদের। এ দুর্নাম দূর করতে মোদি শুরু করেন ক্লিন ইন্ডিয়া প্রচারাভিযান। আর এর অংশ হিসেবে এক রেডিও ভাষণে মোদি এ গ্রামের প্রশংসা করেন।মোদি বলেছিলেন, আমি জেনে চমৎকৃত হয়েছি, উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয়ে এমন একটি প্রত্যন্ত গ্রাম আছে, যেটি বছরের পর বছর ধরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে আসছে। এমন অর্জন নিয়ে মাওলিনং গ্রাম নিশ্চয়ই গর্বিত। অনেকে তবে মনে করেন, বাসিন্দাদের মঙ্গলের জন্য এ গ্রামে পর্যটকদের সংখ্যা সীমিত করতে হবে। পর্যটক বিশেষজ্ঞ লালু বলেন, তাদের অবশ্যই পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জানতে হবে। একটা পর্যায়ের পর ‘না’ বলতে পারতে হবে।

Saturday, March 12, 2016

কুকুরের বিয়েতে ৫ হাজার অতিথি!

ভারতে কুকুরের বিয়েতে প্রায় পাঁচ হাজার অতিথিকে দাওয়াত করে খাওয়ানো হলো। শনিবার উত্তরপ্রদেশের কৌশম্বী জেলার পাওয়ারা গ্রাম এই বিয়ের আয়োজন করা হয়।টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়, কুকুরের বিয়েকে উপলক্ষ করে মেতে উঠেছিল পাওয়ারা গ্রামের মানুষ। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে কুকুরের বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এবং প্রায় পাঁচ হাজার অতিথিকে দাওয়াত করে খাওয়ানো হয়। শুধু তাই নয় এদিন বাদ্য-বাজনা থেকে শুরু করে হালের ডিজে (ডিস্কো জকি) পর্যন্ত আনা হয়েছিল বিয়ের অনুষ্ঠানে। আর ডিজের তালে তালে নেচেছেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।স্থানীয়দের বরাত দিয়ে খবরে আরো বলা হয়, পাওয়ারা গ্রামের সন্তানহীন দুই বন্ধু বসন্ত ত্রিপাঠি আর জং বাহাদুরের দুটি কুকুরের নাম শাগুন আর শাগুনিয়া। কিছুদিন আগে দুই বন্ধু ঠিক করেন, ধুমধাম করে নিজেদের প্রিয় কুকুর দুটোর বিয়ে দেবেন। গ্রামবাসীকে কথাটি জানাতে ব্যতিক্রমী আয়োজনের খবরে তারাও নেচে উঠে। এরপর আজ দুপুরে এই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাছ

তিমিকে মাছ বলা যায় না। বলা যায় না হাঙরকেও। তাহলে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মাছ কোনটি? উত্তর বলতে গেলে মাথা চুলকাতে হয়, তাই না? আসলেই তাই, নিত্যদিনের কর্মযজ্ঞে খেই হারিয়ে এই প্রশ্নটা মাথায়ই আসে না। তবে আশা করি আজকের পর থেকে জিরো টু পাঠকদের আর মাথার চুল ছেঁড়ার দরকার হবে না। কারণ আজকে আমরা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মাছের গল্প শোনাবো।২০ মিটার লম্বা আর ওজনে প্রায় উনিশ টন। সবচেয়ে বড় মাছ হওয়ার জন্য আর কী চাই! সম্প্রতি কাতারের গবেষকরা এই মাপের এক মাছের কথা নিশ্চিত করেছেন। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় এই মাছটার নামও অদ্ভুত। হাঙর-তিসি (whale sharks)।কাতারের জীববিজ্ঞানীরা সম্প্রতি গালফ উপসাগরে হোয়েল শার্কের শরীরে স্যাটেলাইট লাগিয়ে এই গবেষণা চালিয়েছেন। এর আগে  হোয়েল শার্ক নিয়ে কখনোই ঐভাবে গবেষণা হয়নি। তাই এতোদিন এই মাছ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কিছুই জানত না।

Wednesday, March 9, 2016

সবচেয়ে ক্ষুদ্র রাজ্য

পাথুরে কুঠারের আকৃতির এক দ্বীপ। চর্তুপাশে সাগর নিয়ে সারদিনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত পৃথিবীর বিখ্যাত উপকূল সামেরালদা। পাহাড়ি দ্বীপটিতে নেই কোনো রাস্তা-ঘাট, এমনকি পর্যটকদের জন্য কোনো হোটেল পর্যন্ত নেই। তবে বসবাসের যে একেবারেই কোনো বন্দোবস্ত নেই তা কিন্তু নয়। দ্বীপের বেলাভূমিতে থাকা স্বচ্ছ সাদা বালুই হলো পর্যটকদের আরামের বিছানা। আর এখানেই আমার সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছিল অ্যান্টনিও বারতোলিওনির সঙ্গে। অবশ্য আমার কাছে তিনি অ্যান্টনিও নামে পরিচিত হলেও স্থানীয়দের কাছে কিন্তু তিনি টনিনো নামেই সর্বাধিক পরিচিত। দ্বীপের একমাত্র যে রেস্টুরেন্ট তারই মালিক এই ৮৩ বছর বয়সী টনিনো। বলা যায়, স্বল্প সংখ্যক জনগোষ্ঠির এই দ্বীপটির একছত্র অধিপতি হিসেবে গত ২২ বছর ধরে টনিনো বেশ দাপটের সঙ্গেই আছেন। তার এই পাঁচ
বর্গকিলোমিটার এলাকার রাজত্ব নিয়ে তিনি বেশ আনন্দেই থাকেন।‘আমিও হয়তো এই পৃথিবীর সবচেয়ে সাধারণ রাজা। এই দ্বীপের রাজা হিসেবে আমি স্রেফ বিনে পয়সায় খাবারটুকুই পাই।’ আমাকে হাসতে হাসতেই কথাগুলো বলছিলেন টনিনো। সম্প্রতি তাভোলারা রাজ্য তার ১৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করলো, যদিও কাগজে কলমে মাত্র ২৫ বছর হলো ইতালির অধীনতা থেকে দ্বীপটি বের হতে পেরেছে। হয়তো মনে হতে পারে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ নিয়ে ইতালি থেকে বের হয়ে যাওয়ার কি দরকার ছিল। কিন্তু ঘটনার শুরু সেই ১৮০৭ সালে, যখন টনিনোর পরদাদা গিলিপ্সি বারতোলিওনি এই দ্বীপের প্রথম অধিবাসী হলেন। তাভোলারা রাজ্যের যে নথিপত্র সংরক্ষিত আছে তাতে পরদাদা গিলিপ্সিকে অর্ধেক মেষপালক এবং অর্ধেক জলদস্যু হিসেবে দেখানো হয়েছে।
গিলিপ্সি একদিন অনুধাবন করতে পারলেন এই দ্বীপে একধরণের বিরল ছাগল দেখা যায় যাদের দাতগুলো অনেকটাই স্বর্ণাভ। সমুদ্র তীরবর্তী শৈবাল খাওয়ার কারণেই ছাগলগুলোর দাতের রং পরিবর্তন হয়ে গেলেও সারদিনিয়ার শাসক কার্লে অ্যালবার্তোর কাছে খবর গেল যে এই দ্বীপে বিরল প্রজাতির ছাগল দেখা গেছে। এই সংবাদ পাবার পর শাসক অ্যালবার্তো তাভোলারা গেলেন শিকার করতে ১৮৩৬ সালে। আর সেই শিকারে অ্যালবার্তোকে সহায়তা করেছিলেন গিলিপ্সির ২৪ বছরের ছেলে পাওলো। ‘যখন কার্লো অ্যালবার্তো দ্বীপে নামলেন তখন তিনি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বললেন, আমি সারদিনিয়ার রাজা কার্লো অ্যালবার্তো। তখন আমার পরদাদা উত্তরে বলেছিলেন, বেশ, আমি তাভোলারার রাজা পাওলো।’অ্যালবার্তো পাওলোর সহচর্যে দ্বীপে তিনদিন কাটালেন। ওই সময় সেই বিরল ছাগল শিকার করে তার মাংসে ভোজন করে বেশ তৃপ্ত হয়েছিলেন অ্যালবার্তো। তৃপ্ত অ্যালবার্তো একসময় পাওলোকে বললেন, ‘পাওলো, তুমি সত্যিই তাভোলারার রাজা।’ টনিনোর মতে, অ্যালবার্তো দ্বীপ ছেড়ে যাবার আগে এটা নিশ্চিত করে গিয়েছিলেন যে তাভোলারা সরকারিভাবে কখনোই সারদিনিয়ার অংশ নয়। অ্যালবার্তো নাকি নিজের দেশে ফিরে গিয়ে পাওলোকে রাজাজ্ঞানে চিঠি লিখেছিলেন। ওই ঘটনার পরপরই পাওলো তার নিজের বাসস্থানের দেয়ালটি রং করেন এবং সেখানে রাজপরিবারের পরিবারের ইতিহাসের আদলে নিজের পরিবারের ইতিহাসের পর্যায়ক্রম লিখতে শুরু করেন। তিনি যখন মারা যান, তার শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তার কবরের উপর একটি মুকুট দেয়া হয়েছিল। যদিও জীবিত থাকাকালীন সময়ে তিনি কখনো ওই মুকুট পরিধান করেননি।ভূমধ্যসাগরের বুকে বহাল তবিয়তে থাকা তাভোলারা দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে বেশ কয়েকবার রাজনীতির মাঠ গরম হয়েছিল। আর রাজনীতির সেই প্যাচ থেকে বের হবার জন্য তাভোলারাকেও কিছু মিত্র তৈরি করতে হয়েছিল। ইতালির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একজন ছিলেন গিলিপ্সি গারিবাল্ডি, তিনিই প্রথম তাভোলারার রাজপরিবারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। ১৯০৩ সালে মাত্র ৩৩জন আদিবাসীর এই দেশটির সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে বাধ্য হন সারদিনিয়ার তৎকালীন রাজা ভিট্টোরিও ইম্মানুয়েল দ্বিতীয়।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজপ্রাসাদ বাকিংহ্যাম প্যালেসে এখনও একটি আলোকচিত্র দেয়ালে টানানো আছে। সেই ছবির ক্যাপশনে লেখা আছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র রাজ্য। আর নিঃসন্দেহে সেই রাজ্যটি হলো তাভোলারা। কিন্তু সবসময়ই যে তাভোলারা পরামর্শক দিয়ে জিতে গিয়েছিল তা নয়। ১৯৬২ সালে বহুজাতিক সশস্ত্র সংস্থা ন্যাটো তাভোলারাতে ঘাটি বানালে রাজ্যের সার্বভৌমত্ব প্রথমবারের মতো খর্ব হয় এবং এককথায় স্বাধীনতাই চলে যায়। ন্যাটো দ্বীপটিকে এমনভাবে ব্যবহার করতে শুরু করে যে কারণে দ্বীপের বাসিন্দারা গোটা দ্বীপের ক্ষুদ্র একটি অংশে চলাফেরা করতে পারতো। কিন্তু সময়ের ফেরে ন্যাটোও থাকতে পারেনি দ্বীপটিতে।গত চল্লিশ বছর ধরে টনিনো নিজে পর্যটকদের ঘুরে দেখান চর্তুপাশ। আগে সান পাওলো বন্দর থেকে নৌকায় করে তাভোলারাতে আসতে হতো, কিন্তু বর্তমানে ফেরি চলাচলের কারণে মাত্র পঁচিশ মিনিটেই বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র রাজ্যটিতে যাওয়া সম্ভব সান পাওলো থেকে। টনিনোর ভাষায়, ‘খুব সম্ভবত আমার পরিবারের বেশ সুন্দর অতীত ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমরা এখানে বেশ কঠোর পরিশ্রম করি আর সাদাসিধে জীবনযাপন করি, যেমনটা অন্যরা করেন।’

Tuesday, March 8, 2016

যমজ শিশুর ভিন্ন পিতা

ভিয়েতনামে একজোড়া যমজ শিশুর মধ্যে অসামাঞ্জস্যতা দেখা দেয়ায় সন্দেহবশত তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। এরপর বেরিয়ে পড়ে বিস্ময়কর এক তথ্য। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল মতে, ঐ দুই যমজ শিশুর পিতা ভিন্ন দুই ব্যক্তি।   ঘটনাটি ঘটেছে ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলের হোয়া বিন প্রদেশে। ২ বছর বয়সি এই দুই শিশুর একজনের মাথায় ঘন ঢেউ খেলানো চুল, অন্যজনের মাথায় পাতলা সমান চুল। এখান থেকেই মূলত সন্দেহের উৎপত্তি হয়। ভিয়েতনাম নিউজ জানিয়েছে, সন্দেহ হওয়ায় এই যমজ শিশুর বাবা এবং মা দুজনেই ডিএনএ পরীক্ষা করেন।পরীক্ষার আগে তারা ধারণা করেছিলেন, হয়তো হাসপাতালে ভুল করে তাদের যমজ একটি সন্তান রেখে, অন্য কোনো শিশুকে নিয়ে এসেছিলেন তারা।কিন্তু হানিও জেনেটিক অ্যানালিসিস এন্ড টেকনোলজি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা করার পর ফলাফলে দেখা যায়, এই দুই সন্তানের মা একজনই। কাজেই হাসপাতালে ভুল করে শিশুকে ফেলে আসার সন্দেহ বাদ।কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, ৩৪ বছর বয়স্ক স্বামী কেবল এক সন্তানের জনক। ফলে ডাক্তাররা একে অভিহিত করছেন বিরল ‘বাই প্যারেন্টাল’ ঘটনা বলে। এ ধরনের ঘটনা গোটা ভিয়েতনামে এই প্রথম ঘটেছে।নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডক্টর কেইথ এডেলম্যান সংবাদ মাধ্যম সিএনএনকে বলেছেন, দুইবার যৌন মিলনের মাধ্যমে কোনো নারীর পক্ষে একইসাথে বাই প্যারেন্টাল যমজ গর্ভধারণ করা সম্ভব। নারীদের ডিম্বাণুর জীবনকাল ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টা। অথচ একটি শুক্রাণুর জীবনকাল ৭ থেকে ১০ দিন। এই সময়ের মধ্যেই হয়তোবা আরেকটি ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়েছে। 

Sunday, March 6, 2016

দীর্ঘতম গুহা

দীর্ঘদিন যাবত এই গুহাটি লোক চক্ষু আড়ালে ছিল। এটিকে সিন ডুনের গুহা নামে পরিচিত ছিল। ২০০৯ সালে সর্বপ্রথম এই গুহাটি আবিষ্কার হয়ে থাকে। এটি ৫০০ ফিট লম্বা এবং ৬৫০ ফিট চওড়া। এই গুহাটির ভিতরে নিজস্ব বন, নদী এবং নিজস্ব আবহাওয়া রয়েছে।

Saturday, March 5, 2016

বাঘ, ভালুক আর সিংহ ৩ বন্ধু

১৫ বছর ধরে বন্ধু ওরা। একেবারে অন্তরঙ্গ বন্ধু। দীর্ঘ এই সময়টি ধরে একবারের জন্যও একজন ছেড়ে যায়নি অন্যকে। ওদের তিনজনের নাম বালু, লিও এবং শের খান। বসবাস যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে। নাহ, আমি কোনো মানুষের কথা বলছি না। বলছি তিনটি হিংস্র প্রাণির কথা। এর একটি মার্কিন কালো ভালুক (বালু), আফ্রিকান সিংহ (লিও) এবং বাংলাদেশের রয়েল বেঙ্গল জাতের বাঘ (শের খান)। অবিশ্বাস্য হলেও গত ১৫ বছর ধরে জর্জিয়ার একটি অভয়ারণ্যে একসাথে বাস করে আসছে ওরা। প্রাণিগুলোর বয়স যখন এক বছরের কম তখন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ‘নোয়া‘স আর্ক অ্যানিমেল শেল্টারে’ নিয়ে আসা হয় ওদের। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা অঙ্গরাজ্যের একটি বাড়ি থেকে ২০০১ সালে পুলিশ ওই প্রাণিগুলোকে উদ্ধার করার পর এখানে নিয়ে আসা হয়। তখন থেকেই কর্তৃপক্ষ ওদের একসঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। আর সেই থেকে বন্ধু ওরা। 
নোয়া’স আর্কের সহাকারী পরিচালক ড্যানি স্মিথ বলেন, আমরা তাদের আলাদা রাখতে পারতাম, কিন্তু সে সময় তারা একটি পরিবারের মতো এসেছিল। যে কারণে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তাদের একত্রে রাখারই সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের জানা মতে এটাই একমাত্র জায়গা যেখানে এই তিনটি হিংস্র পশুকে একত্রে রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে পর্যটকরা এদের বন্ধুত্বের সাক্ষী।এই দীর্ঘ সময়ে তাদের একবারই আলাদ‍া করা হয়েছিল যখন ভাল্লুক বালোর সংক্রামণ চিকিৎসা করতে বাম পা থেকে জিন খুলতে ‍অস্ত্রপ্রচারের দরকার হয়েছিল।সে সময় শের খান এবং লিওকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন তারা বালোর ফিরে আসারই অপেক্ষা করছে। একটু বড় হওয়ার পরে তাদের ভিন্ন জায়গায় রাখার সামর্থ্য আমাদের ছিল না। কিন্তু এখন তাদের দেখলেই মনে হবে যেন তারা একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া তিন ভাই। তাদের এ বন্ধন এত বেশি শক্ত যে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হলে তারা বন্ধুশূন্য হয়ে পড়বে।
তিনি আরো বলেন, বালোর সঙ্গে শের খানেরই বেশি ভাব। কারণ লিও দিনের বেশিটা সময় ঘুমিয়ে কাটাতেই পছন্দ করে। আমেরিকান এই কালো ভাল্লুক বাংলাদেশি বাঘের ঘাড়ে হাত দিয়ে এমনকি গৃহপালিত বেড়ালের মতো জিহ্বা দিয়ে চেটেও আদর করে, এ দৃশ্য দেখলে সত্যিই অদ্ভুত এবং জাদুর মতো মনে হয়।আবার লিও ঘুম থেকে জাগলে ক্ষুধা পাওয়ার আগে পর্যন্ত তিনজন খেলতে থাকে। তিন শিকারি প্রাণীরই অন্যকে হত্যা করার ক্ষমতা থাকলেও অশ্চর্যজনকভাবে তারা একে অন্যের প্রতি খুবই সহনশীল আচরণ করে।শের খান একটু গম্ভীর প্রকৃতির, নড়াচড়া কম করতে পছন্দ অথচ বালো তাকে দক্ষ হাতে পরিচালানা করে ঠিক খেলার সঙ্গী বানিয়ে নেয়। এখন নোয়া’র আর্কই যেন তাদের বাড়ি হয়ে উঠেছে। আর কখনও হয়তো বা তারা আলাদা থাকাতেও পারবে না।ড্যানি স্মিথ আরও বলেন, তারা একসঙ্গেই ঘুমায় বলে তাদের থাকার ঘরটি খুবই মজবুত করে তৈরি করা হয়েছে। থাকার ঘরের সঙ্গে আমরা একটি চৌবাচ্চার ব্যবস্থাও করেছি। কারণ শের খান এবং বলো দুজনই পানিতে নামতে ভালোবাসে।