আজব পৃথিবী

Sunday, January 15, 2017

১৮ বছর আগে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার

ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল শহরের একটি হাসপাতাল থেকে ১৮ বছর আগে চুরি হওয়া এক নবজাতককে সাউথ ক্যারোলিনা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। কামিয়াহ মবলিকে ১৯৯৮ সালের জুলাই মাসে অপহরণ করা হয়েছিল। তাকে গোপন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ উদ্ধার করে।সাউথ ক্যারোলিনার ওয়াল্টারবরোর কর্তৃপক্ষ বলছে, এই অপহরণের জন্য গ্লোরিয়া উইলিয়ামস নামে ৫১ বছর বয়সী এক মহিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। মিস মবলি এতদিন অন্য নামে পরিচিত ছিলেন এবং এই মিস উইলিয়ামসকেই মা বলে জানতেন। জ্যাকসনভিলের শেরিফ অফিস বলছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মিস মবলির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। সে পুরো সুস্থ, সবল, স্বাভাবিক একজন ১৮ বছরের তরুণী এখন।কর্মকর্তারা বলছেন, এই অপহরণের ঘটনাটি নিয়ে এর আগে অন্তত আড়াই হাজার 'গোপন সংবাদ' যাচাই বাছাই করেছেন তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গত বছর পাওয়া একটি 'গোপন সংবাদে' কাজ হয়। মিস মবলি যখন অপহরণ হয়, তখন তার কোন ছবি ছিল না। বর্ণনা শুনে শিল্পীর আঁকা একটি ছবিই ছিল ভরসা। জ্যাকসনভিলের ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের একজন স্বাস্থ্য কর্মীর ছদ্মবেশে এক মহিলা মাত্র আট ঘণ্টা বয়সী মিস মবলিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।তার মা সানারাকে ওই মহিলা এসে বলেছিল শিশুটির জ্বর হয়েছে এবং তার পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রয়োজন। এই বলে সে মিস মবলিকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। সানারা তার সদ্য অপহৃত কন্যাকে উদ্ধারে তৎপর হন এবং ঘটনাটি গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জাগায়।যদিও মিস মবলির জন্মদাতা-জন্মদাত্রীকে খবরটি জানানো হয়েছে, খবর পেয়ে তারা 'উল্লসিত'ও হয়েছেন, কিন্তু কর্মকর্তারা বলছেন, মিস মবলি যেহেতু একজন প্রাপ্তবয়স্ক, ফলে তিনি কি করবেন সেটা এখন তার উপরেই নির্ভর করবে।"সে যখন অপহৃত হয়েছিল, তখন সে ছিল সদ্যোজাত শিশু, পুরো ব্যাপারটি বুঝে ওঠার জন্য তার এখন সময় প্রয়োজন। আমরা তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করি, আপনাদেরও করা উচিত", বলেন জ্যাকসনভিলের শেরিফ মাইক উইলিয়ামস। 

Sunday, January 8, 2017

ড্যান্সিং ফরেস্ট

গাছ, সেও নাকি আবার নাচে? বাল্টিক সমুদ্রের তীরে আছে এমনই এক জায়গা যেখানে গাছেরা নিয়েছে অদ্ভুত অবয়ব। বেড়ে উঠেছে এমন ভাবে যেন একেকটি গাছ একেক ভঙ্গিমায় নাচ করছে। কুরোনিয়ান স্পিট ন্যাশনাল পার্কে দেখা পাবেন এই গাছেদের। পার্কের কেয়ারটেকার ড্যান্সিং ফরেস্ট নাম দিয়েছেন বনটির। আর স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন উন্মত্ত বন।ভিন্নধর্মী এই বনটি পাইন গাছের। কিন্তু চিরাচরিত পাইনের গুঁড়ির মত নয় এই গাছেদের গুঁড়ি। এরা বিভিন্নভাবে বাঁকিয়ে, কখনো বৃত্তাকারে, কখনো সর্পিল ভঙ্গিতে উপরে উঠে গেছে। বিভিন্ন ধরণের আকৃতি বনের মাঝে তৈরি করেছে ভিন্ন কিন্তু মজার এক আবহ। ভ্রমণকারীরা মনে করেন, ২০ বছরেরও বেশী বয়সী পাইন গাছেরা এরকম অদ্ভুত ভাবে নিজেদের বাঁকিয়ে নিচ্ছে। কয়েক বছর আগে পার্কে ম্যানেজার স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আহবান করেন এই বনের রহস্য উন্মোচন করার জন্য। কিন্তু নিশ্চিত কোন কারণ জানা যায় নি।নানান রকম প্রচলিত কথা আছে ড্যান্সিং ফরেস্টকে নিয়ে। কেউ মনে করেন, মাটির গঠনের কারণে এখানকার গাছেরা অদ্ভুত অবয়ব নেয়। আবার কেউ মনে করেন, এখানকার আবহাওয়া পজেটিভ এবং নেগেটিভ উভয় প্রকার এনার্জি বিরাজ করে। যার দ্বন্দ্বের কারণে এমনটা ঘটে। তবে সবচেয়ে স্বীকৃত মত হচ্ছে, সমুদ্রতীরবর্তী বনটির সারাক্ষণ শক্তিশালী বাতাসের সাথে লড়াই। এই বাতাসের কারণেই নিজেকে টিকিয়ে রাখতে এমন বাঁকিয়ে যায় তারা।কিন্তু কারণ যাই হোক, বনটি মজার। যে কোন ভ্রমণকারীর জন্যই এটি হতে পারে চমৎকার উপভোগ্য একটি অভিজ্ঞতা। 

পুরুষের গর্ভে ৪ মাসের সন্তান

হেডেন ক্রস। ব্রিটেনের প্রথম পুরুষ, যিনি মা হতে চলেছেন। গ্লুসেস্টরের বাসিন্দা হেডেন এখন ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বয়স ২০ বছর। হেডেন বর্তমানে আইনত একজন পুরুষ হলেও, তার জন্ম হয়েছিল নারী হিসেবে। মনের ডাক পেয়েছিলেন অনেক আগেই। পরে শারীরিকভাবেও পুরুষ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দেন হেডেন। চলে হরমোনের চিকিত্‍‌সা। আইনি দিক থেকেও জোটে পৌরুষের অধিকার। হেডেন ভেবেছিলেন, তার ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রেখে পরে তার থেকে সন্তানের জন্ম দেবেন। তবে ডিম্বাণু সংরক্ষণের জন্য ৪০০০ পাউন্ড খরচের ভার বহন করতে অস্বীকার করে ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস।এরপরই সন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য শারীরিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া কিছুদিনের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন হেডেন। ফেসবুকে খোঁজ চালিয়ে তিনি পেয়ে যান স্পার্ম ডোনারও। তার সাহায্যে প্রথম প্রচেষ্টাতেই এই ব্রিটিশ পুরুষ বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। কিছুদিনের মধ্যে তিনি সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন। তিনিই হবেন ব্রিটেনের প্রথম পুরুষ যিনি সন্তানের জন্ম দেবেন।১৬ সপ্তাহের প্রেগন্যান্ট হেডেন দারুণ আনন্দে জানালেন, 'আমার সন্তানকে আমি সবকিছু দিতে চাই। আমিই হব সেরা বাবা। এটা একটা মিশ্রিত অনুভূতি।' লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া থামিয়ে হেডেনের সন্তানসম্ভবা হওয়ার পথে বাধ সেধেছিলেন চিকিত্‍‌সকরা। তাদের আপত্তির তোয়াক্কা না করে, স্তন ও গর্ভাশয় কেটে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন হেডেন। 

বিশ্ব রেকর্ড

বয়স তার শুধু শরীরের বেড়েছে, বাড়েনি মনের। কমেনি মনের জোর। তাই তো ১০৫ বছর বয়সেও তার নাতিপুতিরা তাকে যুবকই মনে করেন। কেনই বা তা মনে করবেন না। এই বয়সে যে তিনি করে ফেললেন বিশ্বরেকর্ড। শতবর্ষ পাড়ি দেওয়া এই 'যুবক' সাইক্লিং করে মাত্র এক ঘণ্টায় পাড়ি দিলেন ২২.৫৪৭ কিলোমিটার পথ।রবার্ট মারশন্ড নামের এই ব্যক্তির বাস ফ্রান্সে। কর্মজীবনের নানা দিক শেষ করে, বর্তমানে ভালবাসেন বই পড়তে। এক সময় কাজ করেছেন সে দেশের দমকলকর্মী হিসেবে। কখনও ট্রাক ড্রাইভার, কখনও বা শুধুমাত্র গাছ কেটে দিন কেটেছে তার। ৬৮ বছর বয়স থেকে এক নতুন শখ পুরণে উদ্যোগী হন রবার্ট মারশন্ড। সাইক্লিং। ছোটখাটো নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিতে, এবারে তিনি গড়ে ফেললেন একেবারে বিশ্ব রেকর্ড। সাইক্লিং করে মাত্র  পথ অতিক্রম করেন এই বৃদ্ধ। প্যারিসের ভেলোড্রোম ন্যাশনাল ইনডোর ট্র্যাকে, ৯২টি ল্যাপে মাত্র এক ঘণ্টায় রবার্ট পাড়ি দেন ২২.৫৪৭ কিলোমিটার। রবার্ট নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১০ মিনিটের জন্য তা আর হয়ে উঠল না। তার কথায়, ‘আমি এখন প্রতীক্ষা করছি আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য।শতবর্ষ পাড়ি দেওয়া রবার্ট শরীর ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাইক্লিং ছাড়া কী কী করেন? তেমন কিছুই নয়। নিয়মিত শরীরচর্চার সঙ্গে রোজ রাত ন’টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। তার কোচ, জিরার্ড মিস্টলারের কথানুযায়ী, রবার্টের পরিমিত খাওয়া-দাওয়া, কোনও রকম নেশা না করাও তার সুস্থ থাকার অন্যতম কারণ। 

Saturday, January 7, 2017

শুধু বালি খেয়ে সুস্থ রয়েছেন

বয়স তাঁর ৭৮ বছর। কিন্তু সমবয়সি অন্য যে কোনও বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার তুলনায় অনেক শক্তপোক্ত দেহ তাঁর। শরীরে এখনও থাবা বসাতে পারেনি জরা কিংবা অন্য কোনও বয়সঘটিত রোগ। এখনও কৃষিজমিতে কাজ করেন সকাল-সন্ধে। কিন্তু কুসমাবতী নামের এই মহিলার এমন সুস্বাস্থ্যের রহস্যটা কী? তাঁর নিজের দাবি, প্রতি দিন নিয়মিত বালি খাওয়ার অভ্যাসই তাঁর এই বার্ধক্যরূপী তারুণ্যের মূলে। শুনতে যতই অদ্ভুত লাগুক, বারাণসী নিবাসী কুসমাবতী বিগত ৬৩ বছর ধরে নিয়মিত বালি খেয়ে আসছেন। দিনে পাঁচ-ছ’ বার দু’ মুঠো করে বালি খান তিনি। এবং এই বিচিত্র অভ্যাসের ফলে তাঁর শরীর অসুস্থ হওয়ার পরিবর্তে বরং নীরোগ থাকে। কিন্তু কেন এমন অদ্ভুত অভ্যাস? কুসমাবতী দেবী জানালেন, তাঁর বয়স যখন বছর পনেরো, তখন এক বার দুরারোগ্য পেটের অসুখে শয্যাশায়ী হয়ে প়ড়েন তিনি। কোনও এক আত্মীয় পরামর্শ দেন, বালি খেলেই রোগমুক্তি ঘটবে। পরামর্শ শিরোধার্য করে বালি খেতে শুরু করেন কুসমাবতী। কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায় রোগ। সেই শুরু। তার পর ৬৩ বছর কেটে গিয়েছে, কিন্তু বালি খাওয়ার অভ্যাস কুসমাবতী ছাড়েননি। তাঁর ধারণা, বালির মধ্যে এমন‌ কোনও গুণ রয়েছে, যা তাঁকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। কারণ তাঁর দাবি, নিয়মিত বালি খাওয়ার ফলেই এই বয়সেও একেবারে সুস্থ রয়েছে তাঁর দেহ। কিন্তু বালি খেতে ঘেন্না করে না? কুসমাবতী জানান, ‘তা কেন! বরং বালি বেশ ভালই খেতে। অনেকটা নুন-চিনির মিশ্রণ যেমন হয়, তেমনই নোনতা-মিষ্টি স্বাদ হয় বালির।’ কুসমাবতীর বাড়ির লোকেরা আপত্তি করেন না? বৃদ্ধার ছেলে রমেশ বললেন, ‘আপত্তি করব কেন? ছোটবেলা থেকেই তো মা-কে বালি খেতে দেখছি। আর কোনও দিন তো এর জন্য মায়ের শরীর খারাপ হয়েছে বলে দেখিনি। আর মা যে শুধু বালিই খান, তা তো নয়। অন্যান্য খাবারদাবারের পাশাপাশি কয়েক মুঠো বালিও খেয়ে নেন, অনেকটা ওষুধের মতোই। মায়ের বিশ্বাস, বালি খেলে শরীর ভাল থাকে। সেই বিশ্বাস যদি সত্যি হয়, তা হলে বালি খাওয়ায় বাধাই বা দেব কেন আমরা!’তা রমেশ নিজেও মায়ের দেখাদেখি বালি খাওয়া শুরু করেন না কেন? রমেশ হেসে বলেন, ‘আরে না না। ও সব আমাদের কম্ম নয়। মা খেতে পারেন, কারণ মায়ের নিশ্চয়ই কোনও আলাদা ক্ষমতা রয়েছে। আমরা বালি খেলে অসুস্থ হয়ে পড়ব।’রমেশ যা-ই বলুন, কুসমাবতীর ধারণা, নিয়মিত বালি খেলে শরীরের উপকার বই অপকার হয় না। এই ৭৮ বছর বয়সেও তাই মু‌ঠো মুঠো বালি গলাধঃকরণ করে চলেছেন তিনি। 

সেরা ক্রিকেট স্টেডিয়াম

বিশ্বের চতুর্থ দর্শনীয় খেলা হচ্ছে ক্রিকেট। ইংল্যান্ডে শুরু হওয়া এই খেলা এখন বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়। জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী তৈরি হয়েছে বিশ্বখ্যাত ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ২০১৬ সালে বিশ্বসেরা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একটি তালিকাও করা হয়। আসুন জেনে নেই, কোন কোন স্টেডিয়াম ছিল সে তালিকায়। 

                                                   লর্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ড
ইংল্যান্ডের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডই বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামকে ‘হোম অব ক্রিকেট’ বলা হয়। স্টেডিয়ামটি বহু ইতিহাসের সাক্ষী। 
                                                           মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত। এটি বিশ্বের অন্যতম সুন্দর স্টেডিয়াম ও বহু ক্রিকেট ইতিহাসের সাক্ষী। 
                                                       সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত। এই স্টেডিয়াম ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলার জন্য বিখ্যাত। এখানে ফুটবল এবং ক্রিকেট উভয় খেলাই অনুষ্ঠিত হয়। 
                                                             ইডেন গার্ডেন
ইডেন গার্ডেন স্টেডিয়ামের অবস্থান ভারতের কলকাতায়। এটি ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম একটি বিখ্যাত স্টেডিয়াম। 
                                                               দ্য ওভাল
দ্য ওভাল স্টেডিয়ামের অবস্থান লন্ডন। এই স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
                                                             দ্য ওয়ান্ডারার্স
দ্য ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামের অবস্থান সাউথ আফ্রিকা। এটি  সাউথ আফ্রিকার হোম ক্রিকেট স্টেডিয়াম। 
                                                              ইডেন পার্ক
ইডেন গার্ডেন ভারতে অবস্থিত হলেও ইডেন পার্ক স্টেডিয়ামের অবস্থান নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে। এটি নিউজিল্যান্ডের অন্যতম বড় একটি স্টেডিয়াম। অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশের জন্য এই স্টেডিয়াম সবার কাছে প্রিয়। 
                                                                দ্য ওয়াকা
দ্য ওয়াকা স্টেডিয়ামের অবস্থান অস্ট্রেলিয়ায়। এটি ১৯৭০ সাল থেকে টেস্ট ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। এর পাশে সাগর থাকায় বোলারদের জন্য এটি একটি সহায়ক স্টেডিয়াম। 
                                                       ধর্মশালা স্টেডিয়াম
ধর্মশালা স্টেডিয়ামটি হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালা শহরে অবস্থিত। এছাড়া ‘হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট সংস্থা স্টেডিয়াম’ নামেও পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৪৫৭ মিটার উপরে এর অবস্থান। এর পেছনেই রয়েছে হিমালয় পর্বতমালা। যে কারণে এটি বিশ্বের অন্যতম সুন্দর একটি স্টেডিয়াম। 
                                                              ওল্ড ট্রাফোর্ড
ওল্ড ট্রাফোর্ড স্টেডিয়ামের অবস্থান ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে। ম্যানচেস্টারের বিখ্যাত ফুটবল স্টেডিয়াম থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে এই স্টেডিয়ামের অবস্থান। 

Sunday, January 1, 2017

পুরুষ-সঙ্গী ছাড়াই ৮টি সন্তান

সাত বছর আগে এক সঙ্গে আটটি সন্তান প্রসব করে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন বিবাহবিচ্ছিন্না এই তরুণী। এর পর অনেক ঝড়ঝাপটা বয়ে গিয়েছে তাঁর উপর দিয়ে। নিজের সন্তানদের ভরণ-পোষণের জন্য পর্ন ফিল্মে পর্যন্ত অভিনয় করতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু আজ তিনি কী করছেন, কেমন রয়েছে তাঁর সন্তানেরা? তাঁর প্রকৃত নাম নাতালি সুলেমান। কিন্তু দুনিয়া তাঁকে চেনে 'অক্টোমাম' হিসেবেই।  'অক্টো' অর্থে আট, আর 'মাম' তো মা। তাঁর এ হেন পরিচিতির সঙ্গত কারণও রয়েছে। ২০০৯ সালে এক সঙ্গে আটটি সন্তানের জননী হয়ে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। বিষয়টি শুনতে যতই আজগুবি লাগুক না কেন, সত্যিই এক সঙ্গে আটটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন নাতালি। এবং কোনও পুরুষ-সঙ্গীর সাহায্য ছাড়াই এতগুলি সন্তানের মা হয়েছিলেন তিনি। 
১৯৯৬ সালে মার্কিন এই মহিলার বিয়ে হয় মার্কো গুতিরেজের সঙ্গে। ২০০৬ সালে ডিভোর্সও হয়ে যায়। মার্কো নাতালিকে কোনও সন্তান দিতে পারেননি। সেটাই ছিল তাঁদের বিচ্ছেদের প্রধান কারণ। আনুষ্ঠানিক ডিভোর্সের অনেক আগে থেকেই দু'জনে আলাদা থাকতে শুরু করেছিলেন। সেই সময় থেকেই ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ), অর্থাৎ সাধারণ ভাবে যাকে টেস্ট টিউব বেবি বলা হয়, সেই পদ্ধতিতে মা হওয়ার চেষ্টা চালাতে থাকেন নাতালি। ১৯৯৭ সালে, নাতালির বয়স যখন ২১, সেই সময় থেকেই ডাক্তার মাইকেল কামরাভার তত্ত্বাবধানে শুরু হয় চিকিৎসা। পরবর্তী বছর ছ'য়েকের মধ্যে ছ'টি সন্তানের (চারটি ছেলে দু'টি মেয়ে) জন্ম দেন নাতালি। ২০০৮ সালে জানা যায়, আগের আইভিএফ চিকিৎসার পরিণামে নাতালির গর্ভে ছ'টি ভ্রূণ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়ে গিয়েছে। নাতালি ভ্রূণগুলিকে তাঁর জরায়ুতে সঞ্চারিত করার জন্য অনুরোধ করেন ডাক্তারকে। সঙ্গে যুক্ত হয় আরও দু'টি নতুন ভ্রূণ। সব মিলিয়ে ২০০৯ সালে মোট আটটি সন্তানের জন্ম দেন নাতালি। আমেরিকার মাটিতে সুস্থ এবং জীবিত অক্টোপ্লেটস-এর জন্ম দেওয়ার ঘটনা এই নিয়ে দ্বিতীয় বারের জন্য ঘটে।
 
এর পরেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে চলে আসেন নাতালি। কিন্তু সকলের অভিনন্দনের জোয়ারে যে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন, এমনটা নয়। আমেরিকায় সরকারি নিয়ম অনুসারে, অনাথা সিঙ্গেল মম-রা সরকারের কাছ থেকে সন্তানের মাথা পিছু একটা ভাতা পান। যখন সংবাদে প্রকাশ পায় যে, নাতালি বেকার, এবং চোদ্দটি সন্তানের জননী, তখন শুরু হয় বিতর্ক। সন্তানের জন্ম দিয়ে নাতালি আসলে নিজের রুজিরুটির বন্দোবস্ত করছেন, এবং সাধারণ করদাতাদের পকেট থেকে যাচ্ছে নাতালি এবং তাঁর সন্তানদের ভরণ-পোষণের অর্থ-- এমন বক্তব্য তুলে ধরে প্রতিবাদে সরব হন অনেকেই। নাতালির সন্তানধারণের কেস স্টাডি করার পরে, মেডিক্যাল বোর্ড অফ ক্যালিফোর্নিয়া ডাক্তার কামরাভার লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর বিরুদ্ধে রোগীকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।  এর পর কেটে গিয়েছে সাত বছর।
অনেক ঝড়ঝাপটা বয়ে গিয়েছে নাতালির উপর দিয়ে। নিজের সন্তানদের ভরণ-পোষণের জন্য পর্ন ফিল্মে পর্যন্ত অভিনয় করতে হয়েছে নাতালিকে। তবে এখন নিজের চোদ্দ ছেলে মেয়েকে নিয়ে সুখেই রয়েছেন নাতালি। সরকারি সাহায্যেই চলছে সংসার। ইতিমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে নাতালিকে নিয়ে। বহু টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে নাতালির মুখ। ডক্যুমেন্টারি তৈরি হয়েছে তাঁকে নিয়ে। একসময়ে যেমন চোদ্দটি সন্তানের জননী হওয়ার কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি, পরবর্তী কালে তেমনই অনেকে তাঁর এই সাহসী সিদ্ধান্ত এবং অপার মাতৃস্নেহকে কুর্নিশ না করেও পারেননি।