আজব পৃথিবী

Sunday, May 25, 2014

২৫ ইঞ্চির জ্যোতি আমগে

উচ্চতা প্রায় ২৫ ইঞ্চি। ওজন পাঁচ কেজি। স্বাভাবিক নিয়মে এই বর্ণনা হওয়া উচিত বছর দুয়েকেরও ছোট কোনও বাচ্চার। কিন্তু এখানে যার কথা বলা হচ্ছে, তিনি ১৯ বছরের জ্যোতি আমগে। বিশ্বের সবচেয়ে বেঁটে মহিলা। নাম রয়েছে গিনিজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও। ছোট্ট চোখে বড় বড় স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন সত্যি করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে গেলেন নাগপুরের জ্যোতি আমগে।তার উচ্চতা এখনও এক ফুট হয়নি। বিশ্বে তিনিই সবচেয়ে বেঁটে। সেই জ্যোতি নিউইয়র্কের সবচেয়ে লম্বা বহুতল এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সামনে। ৮৭ তলায় উঠলেন। সঙ্গে গিনিজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ২০১৪ কপি। এই বইয়ের প্রচারেই ওবামার দেশে পৌঁছেছেন তিনি।জন্মের সময় থেকে অ্যাকোন্ড্রোপ্লাসিয়া নামে এক রোগে আক্রান্ত জ্যোতির বেড়ে ওঠার আর কোনও আশা নেই। তবে তা নিয়ে কোনও রাগ-দুঃখ-অভিমান নেই ১৯ বছরের এই তরুণীর। জীবনটাকে হাসিখুশি কাটাতেই ভালবাসেন।

Wednesday, May 21, 2014

বরফের বাদ্যযন্ত্র

বরফের ভাস্কর্যের কথা শুনেছেন অনেকে। কিন্তু বরফ দিয়ে আস্ত গিটার, বেহালা কিংবা কিবোর্ড তৈরি করে দিব্যি কনসার্টে গান গাওয়া হচ্ছে, এমন কথা কে কবে শুনেছেন! কিন্তু এ বিচিত্র কাজটিই করেছেন সুইডেনের বরফ ভাস্কর ও সঙ্গীতশিল্পী টিম লিনহার্ট। লিনহার্টের যে গানের দল, সে দলে সব ধরনেরই বাদ্যযন্ত্র আছে। কিন্তু সেগুলো সবই বরফের তৈরি! 'আইস-ইনস্ট্রুমেন্ট' নামের বরফে তৈরি এসব বাদ্যযন্ত্রের তালিকায় গিটার, বেহালা, কিবোর্ড, ড্রাম, ম্যানডোলিন, ব্যাঙ্গো, জাইলোফোন থেকে শুরু করে কত কী বাদ্যযন্ত্র।লিনহার্টের হাতে গড়ে ওঠা 'আইস মিউজিক' নামক এ গানের দলটি টানা ১৫ বছর ধরে বরফ দিয়ে বানানো বাদ্যযন্ত্র দিয়ে প্রতি বছর ঘটা করে 'আইস মিউজিক কনসার্ট' আয়োজন করে। সাধারণত বরফ দিয়ে একটি বাদ্যযন্ত্র তৈরি করতে লিনহার্টের সাত দিনের মতো সময় লাগে, আর পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পাদিত হয় মাইনাস পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে।

উনসেং ৩২ বছর তারকাঁটা খাচ্ছেন

হ্যাঁ, আপনি ঠিকই দেখছেন। কোনো মজাদার সালাদ বা সবজি নয়, লং উনসেং তারকাঁটা খাচ্ছেন!চীনের এ ব্যক্তি তিন থকে পাঁচ সেন্টিমিটারের তারকাঁটাগুলো অনায়াসে এক গ্লাস পানি দিয়ে গিলে ফেলতে পারেন। ধীরে ধীরে তিনি তারকাটার সঙ্গে ভাঙা কাঁচের টুকরা, টাইলস এবং সিরামিকও তার খাদ্য তালিকায় যোগ করেছেন। একটু তেলের সঙ্গে সালাদের মতো করে এই খাবারগুলো খেতে পছন্দ করেন তিনি।লং একটি খনিতে কাজ করেন। তিনি বলেন, আমার তখন ১৭ কি ১৮ বছর বয়স। ঠিক মনে নেই, কার মুখে যেন অবিশ্বাস্যও এই খাবার খাওয়ার ব্যাপারে প্রথম শুনি। এরপর ৩২ বছর ধরে আমি এ খাবার খেয়ে যাচ্ছি।তিনি আরও বলেন, আমাকে কে এই খাবার প্রথম খাওয়ানো শিখিয়েছিলেন তাও মনে নেই।এতো বছর ধরে এমন ভয়ঙ্কর খাবার খেয়েও সুস্থ আছেন ৪৯ বছর বয়সী লং।তবে লং সুস্থ থাকলেও এমন খাবার খেয়ে যে কেউ যে মারাত্মক অসুস্থ হবে সে কথা বলাই বাহুল্য। তাই বাড়িতে এমন চেষ্টা না করাই মঙ্গল।

জিরাফের মত লম্বা গলার হরিণ

অনেকটা জিরাফের মত লম্বা গলার এই হরিণের নাম Gerenuks। যারা Waller's gazelle নামেও পরিচিত। Litocranius গোত্রের এই হরিণের বৈজ্ঞানিক নাম Litocranius walleri। এদের বেশির ভাগ পাওয়া যায় পূর্ব আফ্রিকার সোমালিয়া, ইথোওপিয়া, কেনিয়া এবং তানজানিয়ার শুষ্ক মরুভুমিতে। এই হরিণের মাথা তার শরীরের তুলনায় যথেষ্ট ছোট হলেও তার কান ও চোখ দেখার মতই বড়। এই প্রজাতির হরিণের পুরুষদের শুধু শিং রয়েছে। পুরুষদের গলা মাদিদের তুলনায় অনেক পেশীবহুল। এদের পেটের তলা হয় লাল কিংবা গোলাপি রঙের। রয়েছে ছোট্ট একটি লেজ। মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত পুরুষদের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার এবং মাদীদের দৈর্ঘ্য ১০৫ সেন্টিমিটার। মাদীদের ওজন যেখানে ৩০ কেজি সেখানে পুরুষদের ওজন ৪৫ কেজি। এরা যৌনসক্ষমতা অর্জন করে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে। আয়ুস্কাল প্রায় ১৩ বছর। এদের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় সিংহ, চিতা ও বন্যশিয়াল।

বিয়ে করলেন বিশ্বের দীর্ঘকায় পুরুষ সুলতান কোসেন

সুলতান কোসেন একজন তুর্কি নাগরিক তিনি গিনিজ রেকর্ড হিসেবে বর্তমানে পৃথিবীর উচ্চতায় দীর্ঘ পুরুষ। সুলতানের উচ্চতা ৮ ফুট ৩ ইঞ্চি তার বয়স ৩০ বছর। এতো দীর্ঘ উচ্চতার কারণে সুলতানের ধারণা ছিল তাকে কোন নারী বিয়ে করবেনা। নিজের উচ্চতা নিয়ে গর্ব বোধ করলেও সুলতান নিজের বিয়ের বিষয়ে ছিলেন অনেকটা হতাশ। সুলতানের হতাশা অবশেষে দূর হয়েছে তাকে পছন্দ করেই বিয়ে করছেন আরেক ২০ বছর বয়সী তুর্কি তরুণী মাৱব দীবো। দীবো উচ্চতায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। দুই জনের মাঝে আশ্চর্য উচ্চতার পার্থক্য হচ্ছে ২ ফুট ৭ ইঞ্চি সম্ভবত কোসেন এবং দীবো দম্পতি আরেক রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন স্বামী স্ত্রী’র উচ্চতার ব্যবধানের ক্ষেত্রে।সুলতান পেশায় একজন কৃষক, সুলতান নিজের জন্য একজন জীবন সঙ্গী পেয়ে অনেকটাই প্রফুল্ল হয়ে উঠেন। তিনি বলেন, আমি কল্পনা করিনি কেউ আমার সাথে নিজের জীবন অতিবাহিত করতে আসবে এবং আমাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করবে। অবশেষে দীবো আমাকে ভালোবেসেই বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। আর দীবো বলেন, আমি সুলতানকে পেয়ে অনেক আনন্দিত কারণ আমি তার মত একজন ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ মানুষকেই স্বামী হিসেবে চেয়েছিলাম। সুলতান হরমোন জনিত এক দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত যার নাম pituitary gigantism, ১০ বছর বয়স থেকে সুলতানের উচ্চতা অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে। ২০০৯ সালে সুলতান নিজের নাম লিখান গিনিজ ওয়ার্ড রেকর্ডে। শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালে সুলতান জটিল অপারেশানের মাধ্যমে নিজের pituitary gigantism হরমোন জনিত রোগ থেকে নিস্তার পান এবং তার দৈহিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়।

Tuesday, May 20, 2014

গাছের গুহায় বার

এটি একটি বাওবাব গাছ। বয়স ৬ হাজার বছর। পরিচিতি পৌরাণিক গাছ হিসেবে। কারণ, ৬ হাজার বছর কোনো গাছের কি বেঁচে থাকা সম্ভব! সে তর্ক অনেক দূরের। বিশালদেহী এ গাছের গোড়ায় রয়েছে একটি বেশ বড়সড় গুহা। সেই গুহায় গড়ে উঠেছে আবার ভিন্নধর্মী একটি বার। দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তরের লিমপোপো প্রদেশে এই মিথিক্যাল গাছের অবস্থান। বয়সের ভারে নুব্জ্য এ গাছটির বড় বড় ডাল ঝুঁকে পড়েছে নিচের দিকে। এতে সেখানে তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক ছাউনি। দেশটির সবচেয়ে বড় ও বয়সী এ গাছটি স্থানীয়ভাবে পাব নামে পরিচিতি। পাব অর্থ মদের দোকান।

১৯৩৩ সালে গাছটির মালিক ডগ এবং হিটার ভ্যান হিরডেন গাছটির মোটা গুঁড়ির মধ্যে মদের দোকান খোলার পরিকল্পনা করেন। তারা গুঁড়ির ভিতরের নরম অংশ অপসারণ করে একটি দরজা লাগানোর মতো জায়গা বের করেন। পরে একটি পথ তৈরি করে সেখানে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেন রেলওয়ের স্লিপার। গাছের গুহার ভিতরে মোট জায়গা রয়েছে ১০৮ ফুট। কিন্তু এর মধ্যে ছাদ ১৩ ফুট।

মদের এ বারটিতে একসঙ্গে সময় কাটাতে পারেন ১৫ জন মানুষ। ভিতর ও বাইরের সাজসজ্জায় একধরনের আদিমতার ছোঁয়া পাওয়া যায় বারটিতে। বাইরে ঘণ্টা, বাতি ঝুলানো। রয়েছে মানুষের মুখোশ। ভিতরটাও বেশ ছিমছাম করে সাজানো। ছোট ছোট টুল, বেঞ্চ, দেয়ালের গায়ে কাঠে ঝুলানো মগ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের বোতল। তাছাড়া গাছতলায় পাতা চেয়ার টেবিলেও রঙিন পানীয়তে জমে ভালো আড্ডা।

স্তন্যপায়ী অদ্ভুতুড়ে মাছ

মাছ ডিম পাড়ে এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু যদি বলা হয়, মাছ বাচ্চা দেয় এবং বুকের দুধ খাওয়ায়, তাহলে নিঃসন্দেহে অবাক হওয়ার কথা। আজব মনে হলেও ব্যাপারটি পুরোপুরি সত্য। আর এ মাছটির নাম হলো এলপাউট।তবে তাদের এই দুধ খাওয়ানোর বিষয়টি অবশ্য একটু আলাদা। স্থলচর স্তন্যপায়ী প্রাণীরা তাদের বাচ্চাদের জন্মের পরে দুধ খাওয়ায় কিন্তু এই মাছেরা তাদের বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায় জন্মানোর আগেই। মায়ের পেটে থাকা অবস্থায়ই এই মাছের ছানারা দুধ খেয়ে বড় হতে থাকে। এরপর যখন উপযুক্ত হয়ে যায় ছানারা তখনই তারা জন্ম নেয়।

ইউরোপের সমুদ্রতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এ প্রজাতির মাছের সন্ধান পাওয়া যায়। বেশি দেখা যায়,ইংলিশ চ্যানেলের কাছে । এলপাউট দেখতে অনেকটা ইল মাছের মতো। একটি বড় এলপাউট সর্বোচ্চ ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয় এবং ওজন হয় পাঁচ কেজিরও বেশি।এ মাছ শুধু বাচ্চা জন্মই দেয় না, জন্মের পর বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরেও বেড়ায় এবং খেতে ও খেলতে শেখায়। শুধুই তাই নয়, অন্য কোন প্রাণী যাতে বাচ্চাদের আঘাত বা খেয়ে না ফেলে, সেদিকেও মা মাছটি রাখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।

এলপাউট সাধারণত বাস করে সমুদ্রের তীরে পাথরের তলায়। পাথরের নিচে স্যাঁতসেঁতে জায়গা বা সমুদ্রের কোনো আগাছার নিচেও মাছটি ঘাপটি মেরে বসে থাকতে পারে। মাঝে মধ্যে গভীর পানিতে থাকতে ভালো না লাগলে সঙ্গে সঙ্গে ডাঙার দিকে স্বল্পজলে চলে আসে।পাথরের গায়ে লেগে থাকা বিভিন্ন শৈবাল ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ খেয়ে থাকে। অবশ্য এগুলোই মাছটির প্রধান খাদ্য। মজার ব্যাপার হলো, স্থলচর স্তন্যপায়ীর মতোই এলপাউট পোনামাছকে দুধ পান করায়। এ প্রক্রিয়া চলে পোনা বা বাচ্চা জন্মানোর আগেই। মায়ের পেটে থাকা অবস্থাতেই পোনা এলপাউট দুধ খেয়ে বড় হতে থাকে। মায়ের পেটেই বড়সড় এবং শক্তপোক্ত হওয়ার পর জন্ম নেয়। মা এলপাউট একসঙ্গে ৩০ থেকে ৪শ'টি পর্যন্ত পোনা ছাড়ে। আর জন্মের সময় একেকটি পোনা ৩ থেকে ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়।

অন্য সব মাছ ডিম পাড়লেও এলপাউটের ডিম বড় হয় মায়ের পেটেই। তারপর পেটের মধ্যেই জন্ম নেয় পোনারা। এভাবে মায়ের পেটে পোনাগুলো ছয় মাস পর্যন্ত কাটিয়ে দেয়। বের হয়ে আসার জন্য নির্দিষ্ট প্রহরের জন্যও অপেক্ষা করে। এলপাউটের পোনাগুলো সাধারণত মায়ের পেট থেকে বের হয়ে আসে শীতকালে। পানি যখন অনেক বেশি শীতল হয়ে বরফের কাছাকাছি আসে, তখনই এরা মায়ের পেট থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে।আর এইভাবেই চলে এলপাউট এর বংশবিস্তার।